
বগুড়ার আদমদীঘি উপজেলার সান্তাহার পৌর এলাকার সাহেব পাড়ায় সোনার দুলের লোভে সাড়ে ৬ বছর বয়সী শিশু রাখা মনিকে গলায় ফাঁস দিয়ে হ-ত্যা-র অভিযোগ উঠেছে প্রতিবেশী এক দম্পতির বিরুদ্ধে। বৃহস্পতিবার (১১ জুন) সন্ধ্যার পর নিখোঁজ হওয়ার কয়েক ঘণ্টা পর অভিযুক্তের বাড়ি থেকে বস্তাবন্দি অবস্থায় শিশুটির ম’র-দে’হ উদ্ধার করে পুলিশ। এ ঘটনায় পুরো এলাকায় শোক ও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।
নি-হ-ত রাখা মনি স্থানীয় অটোভ্যান গ্যারেজ কর্মচারী আবু রায়হানের মেয়ে। পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, শিশুটির মা অন্যত্র বিয়ে করে চলে যাওয়ার পর থেকে তার লালন-পালনের দায়িত্ব নেন ফুফু। বাবার কর্মব্যস্ততার কারণে ফুফুর স্নেহ-ভালোবাসায় বড় হয়ে উঠছিল ছোট্ট রাখা মনি। সে স্থানীয় একটি নূরানী মাদরাসার নার্সারি শ্রেণির শিক্ষার্থী ছিল।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, প্রতিদিনের মতো বৃহস্পতিবার বিকেল ৫টার দিকে রাখা মনি প্রাইভেট পড়ার উদ্দেশ্যে বাড়ি থেকে বের হয়। এরপর দীর্ঘ সময় পার হলেও সে বাড়ি ফিরে না আসায় পরিবারের সদস্যরা উদ্বিগ্ন হয়ে বিভিন্ন স্থানে খোঁজাখুঁজি শুরু করেন। একপর্যায়ে প্রতিবেশী কিশোর আমিন অভিযুক্ত আমজাদের বাড়িতে একটি বস্তার ভেতরে রাখা মনির ম’র-দে’হ দেখতে পায়। খবরটি মুহূর্তেই এলাকায় ছড়িয়ে পড়লে স্থানীয়দের মধ্যে তীব্র উত্তেজনা দেখা দেয়।
অভিযোগ রয়েছে, শিশুটির কানে থাকা একজোড়া সোনার দুল ছিনিয়ে নেওয়ার উদ্দেশ্যে তাকে আমজাদের বাড়িতে নিয়ে যাওয়া হয়। পরে গলায় দড়ির ফাঁস লাগিয়ে হ-ত্যা করে ম’র-দে’হ বস্তাবন্দি করে ঘরের মেঝেতে লুকিয়ে রাখা হয়।
ঘটনার খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে ম’র-দে’হ উদ্ধার করে থানায় নিয়ে যায়। এ সময় স্থানীয় বিক্ষুব্ধ জনতা অভিযুক্ত আমজাদ ও তার স্ত্রী বণ্যাকে আটক করে গণপিটুনি দিয়ে পুলিশের হাতে তুলে দেয়। ঘটনার সঙ্গে জড়িত সন্দেহে প্রতিবেশী বাবুকেও আটক করা হয়। পুলিশ তাদের থানায় নিয়ে যাওয়ার পর উত্তেজিত জনতা অভিযুক্তদের বাড়িঘরে হামলা চালিয়ে ভাঙচুর করে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে গিয়ে সান্তাহার পুলিশ ফাঁড়ির পরিদর্শকসহ কয়েকজন পুলিশ সদস্য আহত হন।
আটককৃতরা হলেন সান্তাহার পৌর শহরের সাহেব পাড়ার আমজাদ, তার স্ত্রী বণ্যাসহ প্রতিবেশী বাবু। এছাড়া জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আরও এক নারীকে থানায় নেওয়া হয়েছে বলে জানা গেছে।
সান্তাহার পুলিশ ফাঁড়ির পরিদর্শক খন্দকার ফরিদ হোসেন জানান, প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে সোনার দুলের লোভ থেকেই শিশুটিকে হ-ত্যা করা হয়েছে। ম’র-দে’হ উদ্ধার করা হয়েছে এবং ঘটনায় তিনজনকে আটক করা হয়েছে। বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে।