
নাটোরের বড়াইগ্রামের বনপাড়ায় নির্মাণাধীন একটি পাওয়ার প্ল্যান্টে সংঘটিত চাঞ্চল্যকর ডাকাতির ঘটনায় ট্রাকসহ ১৩ জন ডাকাত সদস্যকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। এ সময় লুণ্ঠিত ৩৫০টি ব্যাটারিও উদ্ধার করা হয়।
শুক্রবার (দুপুর ১টা) নাটোর পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে আয়োজিত এক প্রেস ব্রিফিংয়ে পুলিশ সুপার আব্দুল ওয়াহাব এসব তথ্য জানান।
পুলিশ সূত্রে জানা যায়, গত ২৬ মার্চ রাতে বড়াইগ্রামের বনপাড়ায় অবস্থিত নির্মাণাধীন একটি পাওয়ার প্ল্যান্টে ডাকাত দল অস্ত্রের মুখে নৈশ প্রহরীদের জিম্মি করে প্রায় ২ কোটি টাকার মালামাল লুট করে। পরে তারা একটি ট্রাকে করে ঘটনাস্থল ত্যাগ করে।
এ ঘটনায় পাওয়ার প্ল্যান্টের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা অনিক কুমার বিশ্বাস অজ্ঞাতনামা ৩৫ থেকে ৪০ জনকে আসামি করে বড়াইগ্রাম থানায় একটি ডাকাতি মামলা দায়ের করেন।
মামলার পরপরই পুলিশ একাধিক টিম গঠন করে তথ্যপ্রযুক্তি ও গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে অভিযান শুরু করে। নাটোর, রাজশাহী, পাবনা, বগুড়া, সিরাজগঞ্জ, টাঙ্গাইল, ঢাকা ও গাজীপুর জেলার বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালিয়ে অবশেষে গাজীপুরের শ্রীপুর উপজেলার একটি গভীর বনাঞ্চল থেকে ১৩ জন ডাকাতকে গ্রেপ্তার করা হয়। এ সময় লুণ্ঠিত ৩৫০টি ব্যাটারি ও একটি ট্রাক উদ্ধার করা হয়।
প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেপ্তারকৃতরা জানায়, সংঘবদ্ধ এই ডাকাতির মূল পরিকল্পনাকারী সৈকত ও রুহুল আমিন। তারা পূর্বে অন্য একটি মামলায় কারাগারে থাকা অবস্থায় ডাকাতির পরিকল্পনা করে এবং পরে জামিনে মুক্ত হয়ে দুইটি দলে বিভক্ত হয়ে এ ডাকাতি সংঘটিত করে।
এ ঘটনায় বাকি লুণ্ঠিত মালামাল উদ্ধার ও অন্যান্য জড়িতদের গ্রেপ্তারে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।