বিএনপি নেতার গাড়ি প্রবেশে বাধা, কেটে ফেলা হয়েছে বেড়িবাঁধের গাছ

: কিশোরগঞ্জ প্রতিনিধিঃ
প্রকাশ: 6 hours ago

34

বেড়িবাঁধের ওপর লাগানো গাছের কারণে গাড়ি নিয়ে বাড়িতে প্রবেশে সমস্যায় পড়তে হয়। তাই বাঁধের ওপর লাগানো ২০টির বেশি গাছ কেটে ফেলেছেন স্থানীয় প্রভাবশালী এক বিএনপি নেতা।

অভিযুক্তের নাম জাহিদুল আলম জাহাঙ্গীর। মিঠামইন উপজেলা বিএনপির সভাপতি তিনি। কিশোরগঞ্জের মিঠামইন উপজেলার কামালপুর এলাকায় বাসিন্দা জাহিদুল আলম জাহাঙ্গীর।

জানা যায়, সাবেক রাষ্ট্রপতি আবদুল হামিদ সংসদ সদস্য নির্বাচিত হওয়ার পর কামালপুর এলাকায় নদীভাঙন রোধে বেড়িবাঁধে গাছ রোপণ করা হয়। দীর্ঘদিন ধরে গাছগুলো নদীভাঙন প্রতিরোধ করে আসছিল। গাছগুলো এলাকাবাসীর কাছে ভাঙনরোধের প্রতীক হিসেবে বিবেচিত হয়ে আসছিল। সেই বাঁধের ওপর দিয়ে নিজ বাড়িতে যাতায়াত করেন বিএনপি নেতা জাহাঙ্গীর। নিজের সুবিধার্থে বাঁধ রক্ষায় লাগানো প্রায় ২০টি মেহগনি গাছ কয়েক ধাপে কেটে নিয়েছেন তিনি।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক ব্যক্তি বলেন, আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর এলাকায় প্রভাবশালী নেতা হিসেবে পরিচিতি পান জাহাঙ্গীর আলম। বাঁধের ওপর দিয়ে তার বাড়িতে প্রবেশ করতে হয়। ব্যক্তিগত গাড়ি নিয়ে চলাচলে সমস্যা দেখা দেয়। ৫ আগস্টের পর থেকে রাস্তার পাশে লাগানো গাছ কাটা শুরু করেন তিনি। সর্বশেষ গত ২১ ফেব্রুয়ারি একসঙ্গে ১০ থেকে ১২টি গাছ কেটে ফেলা হয়। প্রতিটি গাছের আনুমানিক বাজারমূল্য ২০ থেকে ২৫ হাজার টাকা।

সরেজমিনে দেখা যায়, বৈদ্যুতিক করাত ব্যবহার করে গাছের গুঁড়ি কেটে ফেলা হয়। চিহ্ন না থাকার জন্য পরে গাছের গুঁড়িগুলো অন্যত্র সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। অভিযুক্ত ব্যক্তি প্রভাবশালী হওয়ায় প্রকাশ্যে কেউ মুখ খুলতে সাহস পাচ্ছেন না।

অভিযোগ অস্বীকার করে জাহিদুল আলম জাহাঙ্গীর বলেন, আমি কেন গাছ কাটব? আমার কোনো দরকার নেই। জায়গা ও গাছগুলো সরকারি না। প্রত্যেকে নিজের জায়গা থেকে গাছ কেটে নিয়ে গেছে। এখানের বেড়িবাঁধ ও সরকারি না, অধিগ্রহণকৃতও না।

মিঠামইন উপজেলার দায়িত্বে থাকা বন বিভাগের কর্মকর্তা জুলফিকার জয় বলেন, কেটে ফেলা বেড়িবাঁধের গাছগুলো স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের তত্ত্বাবধানে ইউনিয়ন পরিষদের সহায়তায় খোয়াব নামে একটি এনজিও সংস্থা রোপণ করেছিল। বিষয়টি উপকারভোগী স্থানীয় দুঃস্থ নারী ও এলজিইডি দেখাশোনা করছে। এটা আমাদের দায়িত্বের মধ্যে পড়ে না।

স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর মিঠামইন উপজেলার প্রকৌশলী ফয়জুর রাজ্জাক বলেন, স্থানীয় সরকার বিভাগের পক্ষ থেকে ১৯৯৫-১৯৯৬ সালে বাঁধ তৈরি করা হয়েছিল। সে সময় গাছগুলো রোপণ করা হয়। গাছ কেটে ফেলার বিষয়টি জানার পর স’মিলে গিয়ে গাছগুলো জব্দ করা হয়েছে। এ ব্যাপারে মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে।