পটুয়াখালী-৩ আসনের বিএনপি জোট মনোনীত প্রার্থী ও গণঅধিকার পরিষদের সভাপতি নুরুল হক নুর বলেছেন, বিজয় আমাদের হয়ে গেছে, এখন শুধু আনুষ্ঠানিকতা হবে ইনশাআল্লাহ। আপনাদের নিয়ে কাজ করতে চাই। আপনাদের পাশে থাকতে চাই।
সোমবার (১১ জানুয়ারি) রাত ১০টার দিকে পটুয়াখালীর দশমিনা উপজেলার বাশবাড়িয়া ইউনিয়নের গছানী গ্রামে এক ওরস মাহফিলে তিনি এসব কথা বলেন।
ওরসে গিয়ে তিনি বলেন, আমি যেমন ওয়াজ মাহফিলে গিয়েছি, তেমনি ওরস মাহফিলে এসেছি। বিভিন্ন জায়গায় যাই, আপনাদের এখানে এসেছি— এটাই আমাদের দেশের বৈচিত্র্য। এখানে বাউলসহ অনেক ধরনের বিভিন্ন ধরনের সংঘ ও সংগঠন আছে। প্রত্যেক মানুষ ও কমিউনিটির স্বাধীনতা আছে কথা বলার, অনুষ্ঠান করার।
এ সময় তিনি বলেন, কাউকে বাধা দেওয়া বা গায়ের জোরে কারও ওপরে হামলা করা, কারও অনুষ্ঠান ভঙ্গুর করার ঔদ্ধত্য আমরা দেখাব না। এতে সমাজ বিশৃঙ্খ হবে, নৈরাজ্য বাড়বে। আমার এখানে আসার মূল কারণ এটাই, আপনাদের প্রতি সংহতি ও সমবেদনা জানানো। আপনাদের পাশে থাকব দল-মত, ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে।
তিনি বলেন, দশমিনা-গলাচিপা অঞ্চলে হিন্দু কম। তারা একটু নিরিবিলি থাকে, ব্যবসা-বাণিজ্য করে। তবে রাজনৈতিক পট-পরিবর্তনের পরে আমরা দেখেছি তাদের ব্যবসা-বাণিজ্যে হামলা হয়। ঘরবাড়িতে হামলা হয়। এলাকায় থাকতে পারে না। ৫ আগস্টের পর গলাচিপায় ব্যবসায়ী— বেশিরভাগ হিন্দু। তাদের সঙ্গে দেখা-সাক্ষাৎ করে বলেছিলাম যে, ধর্মীয় পরিচয়ের কারণে বা কোনো হিন্দু সম্প্রদায়ের লোক আক্রান্ত হলে আমাকে জানাবেন। ব্যবসা-বাণিজ্য করতে গেলে এক পয়সা চাঁদা কাউকে দিতে হবে না।
তিনি আরও বলেন, আমরা আগামীতে গলাচিপা দশমিনাকে একটি রোল মডেল করতে চাই। রাজনৈতিক সম্প্রীতির ক্ষেত্রে রোল মডেল। রোল মডেলটা হচ্ছে এ রকম- একটি অনুষ্ঠান হবে সেখানে বিএনপির লোক আসবে, গণপরিষদের লোক আসবে, আওয়ামী লীগের লোক আসবে, জামায়াতের লোক আসবে। যে যে দলই করুক সর্বজনীন সামাজিক অনুষ্ঠানে সবার সঙ্গে দেখা হবে, কুশল বিনিময় হবে। রাজনৈতিক মতের কারণে কারও উপরে কোনো হামলা করবে না, কোনো মামলা করবে না, জুলুম করবে না। এ ধরনের ন্যায় ও ইনসাফের সমাজ আমরা কায়েম করতে চাই।
সম্পাদক ও প্রকাশকঃ লুৎফর রহমান হীরা
হেড অফিসঃ ১/ জি,আদর্শ ছায়ানীড়, রিংরোড, শ্যামলী, আদাবর ঢাকা - ১২০৭।
স্বত্ব © ২০২৫ চলনবিলের সময়