সম্প্রতি জ্বালানি তেলের সরবরাহে টানাপোড়েন দেখা দিয়েছে। এর প্রভাব পড়েছে ঠাকুরগাঁওয়েও। জেলার অধিকাংশ ফিলিং স্টেশনে মিলছে না তেল। দৈনিক একটি পাম্পে সীমিত পরিমাণে পাওয়া গেলেও সড়কজুড়ে লম্বা লাইন। ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করতে হচ্ছে ভোক্তাদের। এমন বাস্তবতায় ঠাকুরগাঁওয়ের এক বিয়ের অনুষ্ঠানে দেখা গেল ভিন্নধর্মী এক চিত্র।
সদর উপজেলার বেগুনবাড়ি ইউনিয়নের রাজাপুকুরে এক বিয়ের অনুষ্ঠানে বরকে উপহার হিসেবে দেওয়া হয়েছে ৫ লিটার অকটেন। যা উপস্থিত অতিথিদের মধ্যে সৃষ্টি করে হাস্যরস ও কৌতূহল। অনেকেই এটিকে সময়োপযোগী ও বাস্তবধর্মী উপহার হিসেবে উল্লেখ করেছেন।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত হাসান রায়হান নামে এক অতিথি বলেন, এখনকার সময়ে জ্বালানি তেলই সবচেয়ে দামি ও প্রয়োজনীয় জিনিস। তাই এমন উপহার সত্যিই ব্যতিক্রমী।
জামাল নামে আরেকজন বলেন, এটা যেমন মজার, তেমনি বর্তমান পরিস্থিতির একটি প্রতিফলনও বটে। এই ঘটনা শুধু হাসির খোরাক নয়, বরং চলমান জ্বালানি সংকটের চিত্রও তুলে ধরে। যেখানে নিত্যপ্রয়োজনীয় এই পণ্যটি এখন মানুষের কাছে প্রায় ‘সোনার হরিণে’ পরিণত হয়েছে।
অকটেন উপহার দেওয়া ব্যবসায়ী জহিরুল ইসলাম বলেন, পেট্রোল-অকটেন পেতে ভোগান্তি চরমে৷ ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করেও জ্বালানি তেল মিলছে না৷ মানুষ দৈনন্দিন কাজগুলো করতে পারছেন না৷ এমন সময়ে বর-কনে যাতে স্বস্তি আর স্বাচ্ছন্দে যাতায়াত করতে পারেন সেজন্য অকটেন উপহার দেওয়া হয়েছে৷ এটি সংকটের প্রতীকও বটে৷
বর রাতুল হাসান সাফি বলেন, বিয়েতে এটি খুবই ব্যতিক্রমী উপহার৷ অকটেন হলেও এটি সংকটময় মুহূর্তে কাজে লাগবে৷ যারা দিলেন তাদের প্রতি কৃতজ্ঞতা ও ধন্যবাদ জানাচ্ছি।
জ্বালানি তেলের এমন সংকট দীর্ঘস্থায়ী হলে এর প্রভাব পড়বে পরিবহন, কৃষি ও নিত্যপণ্যের বাজারে। ফলে সাধারণ মানুষের ভোগান্তি আরও বাড়ার আশঙ্কা রয়েছে। এই বিয়ের ঘটনা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ইতোমধ্যেই আলোচনার জন্ম দিয়েছে। ব্যতিক্রমী এই উপহার যেমন আনন্দের খোরাক জুগিয়েছে, তেমনি বর্তমান বাস্তবতার একটি স্পষ্ট বার্তাও পৌঁছে দিয়েছে সকলের মাঝে৷
সম্পাদক ও প্রকাশকঃ লুৎফর রহমান হীরা
হেড অফিসঃ ১/ জি,আদর্শ ছায়ানীড়, রিংরোড, শ্যামলী, আদাবর ঢাকা - ১২০৭।
স্বত্ব © ২০২৫ চলনবিলের সময়