বিয়ের আশ্বাসে ধর্ষণ, প্রেমিকের আমৃত্যু কারাদণ্ড

: চলনবিলের সময় ডেস্ক
প্রকাশ: 14 hours ago

45

রাজধানীর কাফরুলে বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে প্রেমিকাকে ধর্ষণের অভিযোগে এক যুবককে আমৃত্যু কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একই সঙ্গে তাকে দুই লাখ টাকা অর্থদণ্ডে দণ্ডিত করা হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (১২ মার্চ) ঢাকার নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল-৪-এর বিচারক মুন্সী মো. মশিয়ার রহমান জনাকীর্ণ আদালতে এই রায় ঘোষণা করেন।

দণ্ডপ্রাপ্ত ওই যুবকের নাম মো. জাহাঙ্গীর হোসেন (৩২)। রায় ঘোষণার সময় তিনি আদালতে উপস্থিত ছিলেন। পরে সাজা পরোয়ানা দিয়ে তাকে কারাগারে পাঠানো হয়।

আদালতের রায়ে উল্লেখ করা হয়, আসামির মালিকানাধীন স্থাবর ও অস্থাবর সম্পত্তি বিক্রি করে জরিমানার অর্থ আদায় করতে হবে এবং তা ভুক্তভোগীকে প্রদান করতে হবে। এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে ঢাকা জেলা ম্যাজিস্ট্রেটকে নির্দেশ দিয়েছেন আদালত।

এছাড়া, ভুক্তভোগীর সন্তানের বয়স ২১ বছর পূর্ণ না হওয়া পর্যন্ত তার যাবতীয় ভরণপোষণ আসামির সম্পত্তি থেকে মেটানোর কথা বলা হয়েছে। যদি আসামির সম্পত্তি পর্যাপ্ত না হয়, তবে রাষ্ট্রকে সেই দায়ভার গ্রহণের নির্দেশ দিয়েছেন বিচারক।

মামলার এজাহার সূত্রে জানা গেছে, ভুক্তভোগী নারীর স্বামী মারা যাওয়ার পর পরিচয়ের সূত্রে জাহাঙ্গীর হোসেনের সঙ্গে তার প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। ২০১৮ সালের ১৫ জানুয়ারি রাজধানীর ইব্রাহিমপুর এলাকায় ওই নারীকে প্রথমবার ধর্ষণ করেন জাহাঙ্গীর। পরবর্তীতে বিয়ের আশ্বাস দিয়ে বিভিন্ন সময় শারীরিক সম্পর্ক স্থাপন করেন তিনি।

সর্বশেষ ২০১৯ সালের ১৭ জানুয়ারি বিয়ের কথা বলে পুনরায় ধর্ষণের ফলে ওই নারী অন্তঃসত্ত্বা হয়ে পড়েন। বিষয়টি জানাজানি হলে জাহাঙ্গীর বিয়ে করতে অস্বীকৃতি জানান। এ ঘটনায় ২০১৯ সালের ফেব্রুয়ারিতে কাফরুল থানায় মামলা করেন ভুক্তভোগী।

তদন্ত চলাকালীন ২০১৯ সালের ৪ সেপ্টেম্বর ভুক্তভোগী নারী একটি সন্তানের জন্ম দেন। নবজাতকের জন্মের দুই সপ্তাহ পর ডিএনএ পরীক্ষা করা হলে প্রমাণিত হয় যে, শিশুটির জৈবিক পিতা আসামি জাহাঙ্গীর হোসেন। তদন্ত কর্মকর্তা ও কাফরুল থানার উপপরিদর্শক আকলিমা আক্তার ওই বছরের ২৫ নভেম্বর আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করেন।

রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী মো. এরশাদ আলম (জর্জ) রায়ে সন্তোষ প্রকাশ করে বলেন, পাঁচজন সাক্ষীর সাক্ষ্য গ্রহণ শেষে আদালত এই দৃষ্টান্তমূলক রায় প্রদান করেছেন।