কিরগিজস্তানে আগাম সংসদ নির্বাচন শুরু হয়েছে। এ নির্বাচনে প্রেসিডেন্ট সাদির জাপারভের ঘনিষ্ঠ সহযোগীরা ব্যাপক ব্যবধানে জয় পেতে পারেন বলে ধারণা করা হচ্ছে। দেশটিতে এমন এক প্রেক্ষাপটে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হচ্ছে যেখানে কোনো সংগঠিত বিরোধী দল বা আনুষ্ঠানিক রাজনৈতিক প্ল্যাটফর্ম নেই।
রোববার (৩০ নভেম্বর) আলজাজিরার এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
বার্তাসংস্থা এপি জানিয়েছে, নির্বাচনের আগে বিরোধী নেতা ও সাংবাদিকদের গ্রেপ্তার এবং স্বাধীন গণমাধ্যম বন্ধ করে দেওয়ার ঘটনায় ভোটকে ঘিরে ব্যাপক উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, এ নির্বাচন প্রেসিডেন্ট সাদির জাপারভের ক্ষমতার দখল আরও দৃঢ় করবে।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, দেশটিতে ২০২৬ সালে সংসদীয় নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা ছিল। তবে কর্তৃপক্ষ বলছে, ২০২৭ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের কাছাকাছি সময় হওয়ায় অস্থিরতা এড়াতে আগাম নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছে। নতুন আইনে নির্বাচন ব্যবস্থা পরিবর্তন করা হয়েছে। এতে ৩০টি আসন থেকে প্রত্যেকে তিনজন করে সংসদ সদস্য নির্বাচন করা হবে। এতে মোট ৪৬৭ প্রার্থী রয়েছেন। প্রতিটি জেলায় অন্তত একজন নারী প্রার্থী নির্বাচিত হওয়ার বাধ্যতামূলক কোটা রয়েছে।
এপি জানিয়েছে, নির্বাচনের এক সপ্তাহ আগে থেকেই ব্যাপক গ্রেপ্তার ও তল্লাশি অভিযান শুরু করেছে সরকার। কমপক্ষে ১০ জন বিরোধী নেতাকে অস্থিতিশীলতা উসকে দেওয়ার অভিযোগে আটক করা হয়েছে। বিশ্লেষক এমিল জুরায়েভ বলেন, বিরোধী নেই বললেই চলে। নির্বাচন পুরোপুরি পূর্বনির্ধারিত, এমনকি বিরক্তিকরভাবে একঘেয়ে।
জাপারভ তার নির্বাচনী ভাষণে ঘোষণা দেন, কোনো অভ্যুত্থান আর হবে না। আজ থেকে তা কেবল স্বপ্নেই দেখতে পাবেন।
আটকদের মধ্যে সাবেক প্রেসিডেন্ট আলমাজবেক আতামবায়েভের ঘনিষ্ঠজনরা রয়েছেন। তার ছেলেকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে এবং স্ত্রীকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য তলব করা হয়েছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, অক্টোবরে এক আদালত প্রথমবারের মতো তিনটি স্বাধীন সংবাদমাধ্যমকে চরমপন্থি সংগঠন হিসেবে ঘোষণা করেন। এগুলো হলো ক্লূপ, তেমিরভ লাইভ এবং আইতআইত দেসে। এর ফলে এসব মাধ্যমের ওয়েবসাইট দেশে নিষিদ্ধ হয়েছে এবং দুজন বিশিষ্ট অনুসন্ধানী সাংবাদিকের কার্যক্রম বন্ধ হয়ে গেছে।
আগস্টে পাস হওয়া নতুন মিডিয়া আইন অনুযায়ী অনলাইনসহ সব মাধ্যমকে সরকারে নিবন্ধিত হতে হচ্ছে। হিউম্যান রাইটস ওয়াচ বলছে, কিরগিজ সরকার সাংবাদিক, মানবাধিকারকর্মী ও সমালোচকদের ওপর কঠোর দমন চালাচ্ছে এবং তথ্যপ্রাপ্তির অধিকার সংকুচিত করছে।
যুক্তরাষ্ট্র সরকারের মানবাধিকার-সংক্রান্ত কঠোর সমালোচনার মাঝেই নভেম্বর মাসে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প মধ্য এশিয়ার পাঁচ দেশের নেতাদের হোয়াইট হাউসে আমন্ত্রণ জানান। তাদের মধ্যে ছিলেন জাপারভও। বৈঠকে মূলত অঞ্চলটির সমৃদ্ধ খনিজসম্পদে প্রবেশে যুক্তরাষ্ট্রের আগ্রহ এবং রাশিয়া-চীন প্রতিযোগিতার প্রভাব নিয়ে আলোচনা হয়।
কিরগিজস্তানের অর্থনীতি টানা চার বছর ধরে বাড়ছে— এ বছর জানুয়ারি থেকে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত জিডিপি ১০ শতাংশ বেড়েছে। এর ফলে জনঅসন্তোষ কিছুটা নিয়ন্ত্রণে রাখতে পেরেছেন জাপারভ। বিশ্লেষকদের মতে, এই সংসদ নির্বাচন আসলে ২০২৭ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের প্রস্তুতি। জুরায়েভ বলেন, পুরো সংসদই প্রেসিডেন্টের প্রতি অনুগত থাকবে। এটি কেবল সংখ্যাগরিষ্ঠ নয়— একদম সার্বিক নিয়ন্ত্রণ।
সম্পাদক ও প্রকাশকঃ লুৎফর রহমান হীরা
হেড অফিসঃ ১/ জি,আদর্শ ছায়ানীড়, রিংরোড, শ্যামলী, আদাবর ঢাকা - ১২০৭।
স্বত্ব © ২০২৫ চলনবিলের সময়