
ব্রাজিলের ফুটবল ইতিহাসে প্রতিটি বিশ্বকাপেই উঠে এসেছে নতুন কোনো নায়ক। কখনও রোমারিও-রোনালদো, কখনও রোনালদিনিয়ো, আবার কখনও নেইমারকে ঘিরে স্বপ্ন দেখেছে সেলেসাও সমর্থকরা। ২০২৬ বিশ্বকাপের আগে সেই তালিকায় নতুন করে যোগ হচ্ছে একটি নাম—এন্দ্রিক।
মাত্র ১৯ বছর বয়সেই ব্রাজিলের অন্যতম আলোচিত তরুণ তারকায় পরিণত হয়েছেন এই ফরোয়ার্ড। কোচ কার্লো আনচেলত্তির অধীনে বিশ্বকাপের প্রস্তুতি ম্যাচগুলোতে তার পারফরম্যান্স ইতোমধ্যেই নজর কেড়েছে। বিশেষ করে মিশরের বিপক্ষে ব্রাজিলের ২-১ গোলের জয়ে বদলি হিসেবে নেমে জয়সূচক গোল করে আবারও নিজের সামর্থ্যের প্রমাণ দিয়েছেন তিনি।
আনচেলত্তির দলে এন্দ্রিকের গুরুত্ব দিন দিন বাড়ছে। কারণ, তিনি এমন একজন ফুটবলার যিনি অল্প সময় মাঠে থেকেও ম্যাচের গতিপথ বদলে দিতে পারেন। প্রতিপক্ষের ক্লান্ত রক্ষণভাগের বিরুদ্ধে তার গতি, শক্তি এবং গোল করার দক্ষতা ব্রাজিলকে বাড়তি সুবিধা এনে দিতে পারে।
বিশ্বকাপের আগে ক্লাব ফুটবলেও দারুণ সময় কাটিয়েছেন এন্দ্রিক। ধারাবাহিক পারফরম্যান্সের মাধ্যমে তিনি প্রমাণ করেছেন, বড় মঞ্চের চাপ সামলানোর সামর্থ্য তার রয়েছে। শুধু গোল করাই নয়, আক্রমণ তৈরিতেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছেন তিনি।
এন্দ্রিকের আরেকটি বড় শক্তি হলো তার বহুমুখিতা। সেন্ট্রাল স্ট্রাইকারের পাশাপাশি দুই উইংয়েও খেলতে পারেন তিনি। ফলে ম্যাচের পরিস্থিতি অনুযায়ী তাকে বিভিন্ন ভূমিকায় ব্যবহার করার সুযোগ পাচ্ছেন আনচেলত্তি। আধুনিক ফুটবলে এই ধরনের বহুমুখিতা একজন খেলোয়াড়কে আরও মূল্যবান করে তোলে।
ব্রাজিল দলে ভিনিসিয়ুস জুনিয়র, রাফিনিয়া, গ্যাব্রিয়েল মার্টিনেল্লি ও নেইমারের মতো তারকা থাকলেও এন্দ্রিককে ঘিরে আলাদা প্রত্যাশা তৈরি হয়েছে। কারণ, তিনি এমন একজন ফুটবলার যিনি বেঞ্চ থেকে নেমে মুহূর্তের মধ্যে ম্যাচের ফল বদলে দিতে পারেন।
১৩ জুন মরক্কোর বিপক্ষে ম্যাচ দিয়ে বিশ্বকাপ অভিযান শুরু করবে ব্রাজিল। সেই ম্যাচে এন্দ্রিক শুরুর একাদশে থাকুন কিংবা বদলি হিসেবে নামুন, তার দিকে যে বিশেষ নজর থাকবে তা বলার অপেক্ষা রাখে না।
ব্রাজিলের ষষ্ঠ বিশ্বকাপ জয়ের স্বপ্ন পূরণে অভিজ্ঞ তারকাদের পাশাপাশি তরুণদেরও বড় ভূমিকা রাখতে হবে। আর সেই তরুণদের মধ্যে সবচেয়ে বড় চমক হয়ে উঠতে পারেন এন্দ্রিক। বিশ্বমঞ্চে নিজেকে প্রমাণ করতে পারলে তিনি শুধু ব্রাজিলের নয়, পুরো টুর্নামেন্টেরই অন্যতম আলোচিত তারকায় পরিণত হতে পারেন।