
বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দাম কমেছে। যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান শুক্রবার ওমানে আলোচনায় বসতে সম্মত হয়েছে। এর প্রভাবে পড়েছে বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে।
বৃহস্পতিবার (০৫ ফেব্রুয়ারি) বার্তাসংস্থা রয়টার্সের এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
বৃহস্পতিবার গ্রিনিচ মান সময় রাত ১টা ৫২ মিনিটে ব্রেন্ট ক্রুড ফিউচারসের দাম ব্যারেলপ্রতি ১ ডলার বা ১ দশমিক ৪ শতাংশ কমে ৬৮ দশমিক ৪৭ ডলারে দাঁড়িয়েছে। একই সময়ে যুক্তরাষ্ট্রের ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েট ক্রুডের দাম ৯১ সেন্ট বা ১ দশমিক ৪ শতাংশ কমে ৬৪ দশমিক ২৩ ডলারে লেনদেন হয়েছে।
এর আগের দিন বুধবার তেলের দাম প্রায় ৩ শতাংশ বেড়ে যায়। এ সময়ে একটি সংবাদ প্রতিবেদনে বলা হয়, যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে নির্ধারিত আলোচনা ভেঙে যেতে পারে। তবে পরে উভয় দেশের কর্মকর্তারা নিশ্চিত করেন, শুক্রবার আলোচনা অনুষ্ঠিত হবে। যদিও বৈঠকের আলোচ্য বিষয়গুলো এখনো চূড়ান্ত হয়নি।
বাজার বিশ্লেষকরা বলছেন, আলোচনাকে ঘিরে অনিশ্চয়তাই সাম্প্রতিক সময়ে তেলের দামে বড় ওঠানামার কারণ। আইজির বাজার বিশ্লেষক টনি সাইকামোর বলেন, আলোচনা ভেঙে পড়ার আশঙ্কায় তেলের দাম বেড়েছিল। তবে পারমাণবিক আলোচনা আবার শুরু হচ্ছে এমন খবরে সেই ভয় অনেকটাই কমে এসেছে।
ইরান জানিয়েছে, তারা পশ্চিমা দেশগুলোর সঙ্গে তাদের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে আলোচনা করতে প্রস্তুত রয়েছে। এর মধ্যে ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণও অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্র চায় আলোচনার পরিধি আরও বিস্তৃত হোক। তারা ইরানের ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচি, মধ্যপ্রাচ্যে সশস্ত্র প্রক্সি গোষ্ঠীগুলোকে সমর্থন এবং দেশের অভ্যন্তরীণ মানবাধিকার পরিস্থিতিও আলোচনায় আনতে চায়।
রয়টার্স জানিয়েছে, আলোচনার ঘোষণা এলেও উদ্বেগ পুরোপুরি কাটেনি। বাজারে আশঙ্কা রয়েছে, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প শেষ পর্যন্ত ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক হামলার হুমকি বাস্তবায়ন করতে পারেন। ইরান ওপেকভুক্ত দেশগুলোর মধ্যে চতুর্থ বৃহত্তম তেল উৎপাদক। দেশটির ওপর হামলা হলে তেলসমৃদ্ধ মধ্যপ্রাচ্যে বড় ধরনের সংঘাত ছড়িয়ে পড়তে পারে।
সংঘাতের ক্ষেত্রে শুধু ইরানের উৎপাদন ব্যাহত হওয়ার ঝুঁকিই নয়, উপসাগরীয় অঞ্চলের অন্যান্য তেল রপ্তানিকারক দেশগুলোর রপ্তানিও ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। বিশ্বের মোট তেল ব্যবহারের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ পরিবাহিত হয় হরমুজ প্রণালি দিয়ে। আর এ এলাকাটি ওমান ও ইরানের মাঝখানে অবস্থিত। সৌদি আরব, সংযুক্ত আরব আমিরাত, কুয়েত ও ইরাকসহ ওপেকের একাধিক সদস্য দেশ তাদের অধিকাংশ অপরিশোধিত তেল এই প্রণালির মাধ্যমে রপ্তানি করে।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র-ইরান আলোচনার সিদ্ধান্ত সাম্প্রতিক ঝুঁকি প্রিমিয়াম কমাতে সহায়তা করেছে। তবুও যুক্তরাষ্ট্রের মজুত সংক্রান্ত তথ্য থেকে বুধবার বাজারে তেলের দাম কিছুটা সমর্থন পেয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের জ্বালানি তথ্য প্রশাসন জানিয়েছে, জানুয়ারি ৩০-এ শেষ হওয়া সপ্তাহে দেশটিতে অপরিশোধিত তেল ও ডিস্টিলেটের মজুত কমেছে, যদিও গ্যাসোলিনের মজুত বেড়েছে।