বিশ্ববাণিজ্যের অন্যতম প্রধান নৌপথ ‘হরমুজ প্রণালি’ বন্ধ হয়ে যাওয়ায় আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি তেলের দামে তীব্র অস্থিরতা তৈরি হয়েছে। সরবরাহ ব্যবস্থা ভেঙে পড়ার আশঙ্কা এবং ভূ-রাজনৈতিক উত্তেজনার পারদ চড়তে থাকায় অপরিশোধিত তেলের দাম আবারও আকাশচুম্বী হয়ে উঠেছে।
সিএনবিসি আরাবিয়ার এক প্রতিবেদনে এই উদ্বেগের চিত্র ফুটে উঠেছে।
বাজারের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্রের ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েট ক্রুড অয়েলের দাম ২.৩৫ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়ে ব্যারেলপ্রতি ১১৪.১৬ ডলারে পৌঁছেছে। একই সময়ে আন্তর্জাতিক মানদণ্ড হিসেবে পরিচিত ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ১.৭২ শতাংশ বেড়ে দাঁড়িয়েছে ব্যারেলপ্রতি ১১০.৯১ ডলারে।
বিশ্লেষকরা সতর্ক করেছেন, এই গুরুত্বপূর্ণ নৌপথটি দীর্ঘ সময় বন্ধ থাকলে জ্বালানি সংকট বিশ্ব অর্থনীতিকে আরও নাজুক করে তুলতে পারে।
পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানকে সরাসরি ও কঠোর সতর্কবার্তা দিয়েছেন।
তিনি স্পষ্টভাবে জানিয়েছেন, দ্রুততম সময়ের মধ্যে হরমুজ প্রণালি উন্মুক্ত করে না দিলে যুক্তরাষ্ট্র কঠোর সামরিক বা অর্থনৈতিক পদক্ষেপ গ্রহণ করবে। ওয়াশিংটনের এই অনড় অবস্থান বিশ্ববাজারে নতুন করে উদ্বেগ ও অস্থিতিশীলতার জন্ম দিয়েছে।
তেলের বাজার স্থিতিশীল রাখতে উদ্যোগী হয়েছে তেল উৎপাদনকারী দেশগুলোর জোট ‘ওপেক প্লাস’। জোটটি সিদ্ধান্ত নিয়েছে যে, আগামী মে মাস থেকে বাজারে দৈনিক প্রায় ২ লাখ ৬ হাজার ব্যারেল অতিরিক্ত তেল সরবরাহ করা হবে।
তবে বাজার বিশেষজ্ঞদের মতে, উৎপাদন বাড়ালেও মূল সংকটের কেন্দ্রবিন্দু হরমুজ প্রণালি বন্ধ থাকলে সরবরাহ ব্যবস্থা স্বাভাবিক হওয়া কঠিন। ফলে তেলের দামের এই ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা নিকট ভবিষ্যতে কমার সম্ভাবনা ক্ষীণ।
সম্পাদক ও প্রকাশকঃ লুৎফর রহমান হীরা
হেড অফিসঃ ১/ জি,আদর্শ ছায়ানীড়, রিংরোড, শ্যামলী, আদাবর ঢাকা - ১২০৭।
স্বত্ব © ২০২৫ চলনবিলের সময়