বৃদ্ধকে গাছে বেঁধে মধ্যযুগীয় কায়দায় নির্যাতন

: লালমনিরহাট প্রতিনিধি
প্রকাশ: 22 hours ago

13

মসজিদের সামনে গাছের সঙ্গে বেঁধে এক বৃদ্ধকে নির্যাতনের অভিযোগ উঠেছে। নির্যাতনের শিকার ওই বৃদ্ধের নাম ‎​আব্দুল মোল্লা (৬২)। বর্তমানে তিনি সদর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

শুক্রবার (০৮ মে) দুপুরে লালমনিরহাট সদর উপজেলার পঞ্চগ্রাম ইউনিয়নে সিন্দুরিয়া খামারটারী গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।

বৃদ্ধকে নির্যাতনের একটি ভিডিও সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়েছে। এতে দেখা যায়, জনসম্মুখে ওই বৃদ্ধকে কাপড় ছিঁড়ে ফেলা, মুখে থুথু নিক্ষেপ করে মারধর করা হয়। ‎

এ ঘটনায় ১২ জনকে অভিযুক্ত করে সদর থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে। ‎​অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, প্রায় চার বছর আগে মহির উদ্দিনের ছেলে হাসানুর রহমান বৃদ্ধ আব্দুল মোল্লার ছেলে মিজানুর রহমানের মাধ্যমে লিবিয়ায় পাড়ি জমান। সেখানে হাসানুর কর্মস্থলে সমস্যা হওয়ায় তাকে দেশে ফিরিয়ে আনার জন্য আব্দুল মোল্লাকে চাপ দেওয়া হয়। এ নিয়ে উভয় পক্ষের মধ্যে বিরোধ বাঁধে।

গত শুক্রবার জুমার নামাজ শেষে আব্দুল মোল্লা স্থানীয় জামে মসজিদ থেকে বের হওয়ার সময় প্রতিপক্ষরা তাকে ঘেরাও করেন। এরপর টেনেহিঁচড়ে মসজিদের সামনের একটি আম গাছের সঙ্গে বেঁধে ৩-৪ জন ব্যক্তি বাঁশের লাঠি দিয়ে বৃদ্ধকে এলোপাতাড়ি পেটাতে থাকেন। এছাড়াও তাকে কিল, ঘুষি ও লাথি মারা হয়। চরম অপমানজনকভাবে বৃদ্ধের মুখের ওপর থুথু নিক্ষেপও করে অভিযুক্তরা। নির্যাতনের একপর্যায়ে বৃদ্ধের গায়ের পাঞ্জাবি ও পরনের কাপড় ছিঁড়ে ফেলা হয়। প্রকাশ্য জনসম্মুখে তাকে প্রায় বিবস্ত্র করে চরমভাবে লাঞ্ছিত করা হয়। এ সময় তার পকেটে থাকা বেশ কিছু টাকা ছিনিয়ে নেওয়ার অভিযোগও করেছেন ভুক্তভোগী।

‎নির্যাতনের সময় বৃদ্ধ আব্দুল মোল্লা অঝোরে কেঁদে বারবার ক্ষমা ‎চাইলেও বিবাদীদের মন গলেনি। পরে তাকে বাঁচাতে তার ভাতিজা মিঠু মিয়া এগিয়ে এলে তাকেও পিটিয়ে আহত করা হয়। এই অমানবিক নির্যাতনের দৃশ্য দেখে স্থানীয় লোকজন ৯৯৯ এ কল দিয়ে অবগত করেন। ‎​খবর পেয়ে জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯-এর মাধ্যমে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছানোর আগেই অভিযুক্তরা পালিয়ে যায়।

‎লালমনিরহাট সদর থানার ওসি সাদ আহম্মেদ ঘটনার সত্যতা এবং অভিযোগ পাওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, ঘটনাটি অত্যন্ত দুঃখজনক ও ন্যক্কারজনক। আমরা লিখিত অভিযোগ পেয়েছি এবং সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়া ভিডিওটি আমাদের সংগ্রহে আছে। দোষীদের দ্রুত শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনতে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

সরেজমিনে হাসপাতালে গিয়ে দেখা যায়, বৃদ্ধ আব্দুল মোল্লা শঙ্কামুক্ত হলেও শারীরিক আঘাত এবং মানসিক অপমানে প্রচণ্ড ভেঙে পড়েছেন।

এ ঘটনায় স্থানীয় এলাকাবাসী এই বর্বরোচিত ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।