
টাঙ্গাইলের সখিপুর থানার পুলিশ বিশেষ অভিযান চালিয়ে পৌরসভার ৪নং ওয়ার্ডের ফজলুল হক তালুকদার ওরফে কালা ফজলকে গ্রেফতার করেছে। জানা যায়, গতকাল (০২ জুন-২৬) রাতে সখিপুর থানা পুলিশ এক বিশেষ অভিযান চালিয়ে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে ছাত্রদের উপর হামলার অভিযোগে তাকে গ্রেফতার করে। এলাকার জনগণ এবং নির্ভরযোগ্য তথ্যমতে জানা গিয়েছে তার অতীতের আমলনামা। এই কালা ফজল ১৯৯১ সালের ২৭ ফেব্রুয়ারি ৫ম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আওয়ামীলীগ প্রার্থীর পক্ষে সশস্ত্র মহড়া দিয়ে এলাকায় ভীতি সৃষ্টি করে। ১৯৯৪ সালের ৩০ জুন তসলিমা নাসরিন বিরোধী শান্তিপূর্ণ হরতালে তৎকালীন শিবিরের সখিপুর উপজেলা সভাপতি জনাব রেজাউল করীম ফারুকের উপর হামলা চালিয়ে মারাত্মক আহত করে। ১৯৯৪ সালের ২৯ জুলাই জামায়াতে ইসলামীর প্রোগ্রাম ছিলো ঢাকা মানিক মিয়া এভিনিউতে। মিটিং শেষে ফেরার পথে সখিপুর বাসস্ট্যান্ডে বাস থামলেই সাথে সাথে কালা ফজল সহ তার কতিপয় সহযোগী জামায়াতের নেতা-কর্মীদের উপর সশস্ত্র হামলা চালায় এবং সখিপুর উপজেলা জামায়াতের তৎকালীন আমীর হযরত মাওলানা মুহাম্মদ হাতেম আলীকে রক্তাক্ত জখম করে। ১৯৯৬ সালের ৬ষ্ঠ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে দেশীয় অস্ত্র-শস্ত্রসহ নির্বাচন কেন্দ্র দখলের পাঁয়তারা করে এবং আলীম উদ্দিন ভেন্ডার (পরবর্তীতে ইউপি সদস্য) নামক জনৈক বিএনপি নেতাকে ধাওয়া করে। ওই বছরই (১৯৯৬) ১২ জুন, বুধবার, ৭ম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে গড়গোবিন্দপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ভোট কেন্দ্র দখল করে ব্যাপক জালভোটের মাধ্যমে আ.লীগ সমর্থিত প্রার্থী কাদের সিদ্দিকীকে বিজয়ী করায়। ১৯৯৯ সালের ১৫ নভেম্বর, সোমবারে, প্রশাসনের সাথে মিলিত হয়ে নৌকা মার্কায় হাজার হাজার জালভোট প্রদান করে।
২০০৮ সালে সখিপুর উপজেলা রোডে টহলরত RAB এর কর্তব্য কাজে বাঁধা সৃষ্টি করলে র্যাব সদস্যরা তাকে তার জুতা কামড় দিতে নির্দেশ করেন।
অবশ্য পরে সে নির্দেশ প্রত্যাহার করে তার জুতা পানিতে ভিজাতে বাধ্য করেন। ২০১৪, ১৮ ও ২৪ এর নির্বাচনগুলোতে ব্যাপক জালভোট প্রদান করে তথাকথিত নির্বাচনে নৌকা মার্কার জয় নিশ্চিত করে।
পরিশেষে ২০২৪ সালের ৪ আগস্ট রোববার সে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে হামলা করে অনেককে মারাত্মক আহত করে। এই মামলায় গতকাল রাতে সখিপুর থানা পুলিশ তাকে গ্রেফতার করলে এলাকায় স্বস্তি নামে।