কক্সবাজারের মধুশিয়া গর্জন বনের ভেতর প্রস্তাবিত সড়ক নির্মাণ প্রকল্প বাতিলের দাবিতে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে (জাবি) মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়েছে।
সোমবার (২৯ জুন) বিকেল ৫টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার প্রাঙ্গণে মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়। মানববন্ধনে বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন বিভাগের শিক্ষার্থীরা অংশ নেন। এসময় বন ও বন্যপ্রাণী সংরক্ষণের গুরুত্ব তুলে ধরে একটি পাপেট শো প্রদর্শন করা হয়।
মানববন্ধনে পরিবেশ বিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থী সুনতাস জাহান নাবিলা বলেন, ‘একসময় যে বনে হাতিরা অবাধে বিচরণ করত, সেই বন আজ ধ্বংসের মুখে। বনের মাঝখান দিয়ে সড়ক নির্মাণের ফলে বনাঞ্চল খণ্ডিত হচ্ছে, যা পরিবেশ বিজ্ঞানের ভাষায় ‘হ্যাবিট্যাট ফ্র্যাগমেন্টেশন’। এর ফলে প্রাকৃতিক ভারসাম্য নষ্ট হচ্ছে এবং বন্যপ্রাণীর স্বাভাবিক চলাচল ও বিস্তার বাধাগ্রস্ত হচ্ছে।’
পরিবেশ বিজ্ঞান বিভাগের আরেক শিক্ষার্থী অরিত্র সাত্তার বলেন, ‘বাংলাদেশে হাতির সংখ্যা কমে এসেছে। সংবিধান অনুযায়ী বন্যপ্রাণী সংরক্ষিত কাজেই বা বন্যপ্রাণীর অঞ্চলে কোনরকম কার্যক্রম অবশ্যই সংবিধানকে সমর্থন করে না। হাতির আবাসস্থলে যে রাস্তা তৈরি করা হচ্ছে সেটাকে কেন্দ্র করে পরবর্তীতে মানুষের বসতি আরো বৃদ্ধি পাবে এবং খুব কম সময়ের মধ্যে মানুষের চাহিদা পূরণে ব্যর্থ হবে যাতে করে আরো সমস্যার তৈরি সুযোগ রয়েছে। কাজেই বাংলাদেশের প্রাকৃতিক সম্পদকে নষ্ট করে অনির্দিষ্টকালীন সময়ের জন্য কোন কাঠামো তৈরি মোটেই কাম্য নয়।’
আইন ও বিচার বিভাগের শিক্ষার্থী সৈয়দা অনন্যা ফারিয়া বলেন, ’বাংলাদেশের বন আজ ভয়াবহ সংকটের মুখে। সাত লাখের বেশি গাছ ও ২৬টি পাহাড় ধ্বংস করা হয়েছে। এতে এশিয়ান হাতির করিডর ও প্রজননস্থল মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। গত কয়েক বছরে দেশে মারা যাওয়া প্রায় সব বন্য হাতিই চোরাশিকার, অবৈধ বিদ্যুতের ফাঁদ কিংবা অন্যান্য মানবসৃষ্ট কারণে প্রাণ হারিয়েছে। মৃত্যুর পরও তাদের দাঁত ও নখ পাচার করা হয়েছে।’
তিনি আরও বলেন, ‘বর্তমানে সবচেয়ে বড় উদ্বেগের বিষয় কক্সবাজারের মধুশিয়া গর্জন বন। এই গুরুত্বপূর্ণ বনাঞ্চল ও হাতির আন্তর্জাতিক করিডর কেটে সড়ক নির্মাণের উদ্যোগ পুরো বনজ পরিবেশের জন্য বড় হুমকি। আমরা যেকোনো মূল্যে এই ধ্বংসযজ্ঞ রোধ করতে চাই। দেশের প্রকৃতিপ্রেমীদের সঙ্গে সংহতি জানিয়ে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা আজ একত্রিত হয়েছে। পাশাপাশি পাপেট শোর মাধ্যমে বন ও বন্যপ্রাণীর সংকটের চিত্রও তুলে ধরা হচ্ছে।’
সম্পাদক ও প্রকাশকঃ লুৎফর রহমান হীরা
হেড অফিসঃ ১/ জি,আদর্শ ছায়ানীড়, রিংরোড, শ্যামলী, আদাবর ঢাকা - ১২০৭।
স্বত্ব © ২০২৬ চলনবিলের সময়