
ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে উত্তেজনা বাড়লে বিমানবাহী রণতরি ‘ইউএসএস আব্রাহাম লিংকন’ এবং কয়েকটি ডেস্ট্রয়ার পারস্য উপসাগরে মোতায়েন করেছে যুক্তরাষ্ট্র। সেসব ডুবিয়ে দেওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি।
পারস্য উপসাগরে মোতায়েন করা মার্কিন রণতরিগুলো ‘সমুদ্রের তলদেশে ডুবিয়ে’ দেওয়া হতে পারে বলে হুঁশিয়ারি দিয়ে তিনি বলেছেন, তারা বারবার বলছে যে ইরানের দিকে রণতরি পাঠানো হয়েছে। বেশ তো, রণতরি অবশ্যই একটি বিপজ্জনক যন্ত্র, কিন্তু রণতরির চেয়েও বিপজ্জনক হলো সেই অস্ত্র, যা একে সমুদ্রের তলদেশে ডুবিয়ে দিতে পারে।
খামেনি আরও বলেন, আলোচনা চলাকালে আগেই এর ফলাফল নির্ধারণ করে ফেলা ‘ভুল ও বোকামি’।
ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে যখন সুইজারল্যান্ডের জেনেভায় পরমাণু আলোচনা শুরু হয়েছে, ঠিক তখন খামেনি এ সতর্কবাণী উচ্চারণ করলেন।
আনাদোলু এজেন্সির প্রতিবেদনে বলা হয়, মঙ্গলবার তেহরানে এক অনুষ্ঠানে আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি বলেন, ‘বিশ্বের সবচেয়ে শক্তিশালী সেনাবাহিনী এমন এক চপেটাঘাত খেতে পারে, যা থেকে তারা আর সেরে উঠতে পারবে না।’ যুক্তরাষ্ট্রের সেনাবাহিনীকে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ‘বিশ্বের সবচেয়ে শক্তিশালী সেনাবাহিনী’ দাবি করার পরিপ্রেক্ষিতে খামেনি এ মন্তব্য করলেন।
এদিকে গত শুক্রবার ট্রাম্প বলেন, ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যকার আলোচনা ব্যর্থ হলে বিশ্বের বৃহত্তম বিমানবাহী রণতরি ‘ইউএসএস জেরাল্ড আর ফোর্ড’ শিগগিরই এ অঞ্চলে পাঠানো হবে। যদি কোনো রফায় আসতে না পারি, তবে আমাদের এটির প্রয়োজন হবে। এটি খুব দ্রুতই রওনা দেবে।
এদিকে সুইজারল্যান্ডের জেনিভায় অনুষ্ঠিত দ্বিতীয় দফা বৈঠকে পারমাণবিক ইস্যুতে কিছু অগ্রগতি হয়েছে বলে জানিয়েছে ইরান।
ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি বলেন, দুই দেশ একটি ‘নির্দেশিকা নীতিমালা’ নিয়ে সাধারণভাবে একমত হয়েছে। তবে তিনি স্পষ্ট করেছেন, এর অর্থ এই নয় যে খুব শিগগিরই চূড়ান্ত চুক্তি হবে।
তার মতে, বৈঠকে বিভিন্ন মতামত তুলে ধরা হয়েছে এবং সেগুলো নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। এখন এই নীতিমালার ভিত্তিতে সম্ভাব্য চুক্তির খসড়া তৈরির কাজ শুরু হবে। নথি বিনিময়ের পর তৃতীয় দফা বৈঠকের তারিখ ঠিক করা হবে।
এই আলোচনা ওমানের মধ্যস্থতায় পরোক্ষভাবে হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান উভয় পক্ষই বলেছে, এখনো অনেক কাজ বাকি রয়েছে।
বৈঠকের সময় ইরান নিরাপত্তার কারণে হরমুজ প্রণালির কিছু অংশ সাময়িকভাবে বন্ধ করে এবং সেখানে সামরিক মহড়া চালায়।