
তামিলনাড়ুর রাজনীতিতে নতুনদের জন্য পথ কখনোই সহজ ছিল না। বিশেষ করে যারা শুধু জনপ্রিয়তাকে রাজনৈতিক শক্তি মনে করেছেন, তাদের জন্য এই অঙ্গন আরও কঠিন। তবুও এই প্রচলিত ধারাকে চ্যালেঞ্জ জানিয়ে এগিয়ে যাচ্ছেন জনপ্রিয় অভিনেতা থালাপতি বিজয়।
ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভির সোমবার (৪ মে) প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে বলা হয়, বিজয়ের দল তামিলগা ভেট্টরি কাজাগম (টিভিকে) এবারের নির্বাচনে অপ্রত্যাশিত সাফল্য পেয়েছে। সিনেমা জগৎ থেকে উঠে এসে রাজনৈতিক দল গঠন, নির্বাচনে অংশগ্রহণ ও জয়লাভ করে রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী হওয়ার উদাহরণ তামিলনাড়ুতে এর আগে একবারই ঘটেছিল।
এর আগে তামিল সিনেমা থেকে রাজনীতির সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে জড়িত এমজি রামাচন্দ্রান এবং জয়ারাম জয়ললিতার মতো তারকারা চলচ্চিত্র থেকে সরাসরি রাজনীতিতে এসে সফল হয়েছেন। এমজি রামাচন্দ্রান ১৯৭৭ সালে নির্বাচনে জিতে রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী হয়েছিলেন। পরে অভিনেত্রী জয়ারাম জয়ললিতা তামিলনাড়ুর মুখ্যমন্ত্রী হলেও তিনি কোনো রাজনৈতিক দল গঠন করেনি। তাই এবার তামিলনাড়ুর মুখ্যমন্ত্রী হতে পারলেই এমজি রামাচন্দ্রান এর রেকর্ডে ভাগ বসাবেন বিজয়।
গত দুই দশকের বেশি সময় ধরে দর্শকদের ঘরে ঘরে পরিচিত মুখ হওয়ায় বিজয়কে নতুন করে ভোটারদের সামনে নিজেকে তুলে ধরতে হয়নি। এই পরিচিতিই এখন তার রাজনৈতিক মূলধন হয়ে উঠেছে। রাজনৈতিক অভিজ্ঞতা বা প্রশাসনিক পটভূমির অভাব সাধারণত দুর্বলতা হিসেবে দেখা হলেও, বিজয়ের ক্ষেত্রে তা উল্টো তাকে সুবিধা দিয়েছে। এতে করে তিনি প্রচলিত রাজনৈতিক বিতর্ক বা জটিল নীতিগত প্রশ্ন থেকে নিজেকে দূরে রাখতে পেরেছেন।
বিশ্লেষকদের মতে, এই কৌশলগত অবস্থান তাকে রাজনৈতিক ঝুঁকি থেকে রক্ষা করেছে। নির্দিষ্ট প্রতিশ্রুতি বা নীতিগত অবস্থান না থাকায় সমালোচনার সুযোগও কম ছিল। সাধারণ মানুষের সঙ্গে সরাসরি সংযোগ কম থাকলেও, তিনি জনপ্রিয় ‘নায়ক’ হিসেবেই নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করতে পেরেছেন।
তবে বিশ্লেষকরা সতর্ক করছেন, এই শক্তিই ভবিষ্যতে তার সীমাবদ্ধতা হয়ে উঠতে পারে। কারণ শুধু বিরোধিতার ওপর দাঁড়ানো আন্দোলনকে শেষ পর্যন্ত প্রশাসনিক দক্ষতা ও বাস্তব কাজের প্রমাণ দিতে হয়।