
বগুড়ার শিবগঞ্জ উপজেলার মোকামতলা ইউনিয়নের লক্ষ্মীপুর ৩ নম্বর ওয়ার্ডে দীর্ঘদিনের জমিজমা সংক্রান্ত বিরোধের জেরে এক ভয়াবহ ও রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। প্রতিপক্ষের পূর্বপরিকল্পিত হামলায় দুই ভাই নিহত হয়েছেন এবং গুরুতর আহত অবস্থায় আরও একজন হাসপাতালে মৃত্যুর মুখোমুখি। এ ঘটনায় পুরো এলাকায় চরম শোক, আতঙ্ক ও উত্তেজনা বিরাজ করছে। সোমবার (১৮ মে ২০২৬) সকাল আনুমানিক ৮টার দিকে লক্ষ্মীপুর গ্রামে এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটে।
নিহতরা হলেন— ওই গ্রামের মৃত মোফাজ্জল হোসেনের ছেলে সুমন এবং মোঃ জামিল উদ্দিনের বড় ছেলে ইয়াছিন আলী। তারা সম্পর্কে চাচাতো ভাই। এছাড়া গুরুতর আহত হয়েছেন জামিল উদ্দিনের ছোট ছেলে সাকিব রিদয়। স্থানীয় ও প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা যায়, নিহতদের সঙ্গে তাদের চাচা রেজাউল করিমের পরিবারের দীর্ঘদিনের জমিজমা সংক্রান্ত বিরোধ ছিল। সেই পূর্ব শত্রুতার জেরে সোমবার সকালে প্রতিপক্ষরা দেশীয় ধারালো অস্ত্রে সজ্জিত হয়ে দফায় দফায় হামলা চালায়। হামলাকারীরা প্রথমে সুমনকে টার্গেট করে।
সে সময় সুমন নিজ বাড়িতে বসে সকালের খাবার খাচ্ছিলেন। কোনো কিছু বুঝে ওঠার আগেই হামলাকারীরা তার ওপর অতর্কিত ঝাঁপিয়ে পড়ে এবং ধারালো অস্ত্র দিয়ে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে তাকে গুরুতর জখম করে। এর কিছুক্ষণ পর, জামিল উদ্দিনের বড় ছেলে ইয়াছিন আলী বাড়ি থেকে রাস্তায় বের হলে হামলাকারীরা তার ওপরও পূর্বপরিকল্পিতভাবে চড়াও হয়। ধারালো অস্ত্রের নৃশংস আঘাতে ইয়াছিন আলী রক্তাক্ত অবস্থায় ঘটনাস্থলেই নিহত হন। একই সময়ে তাকে বাঁচাতে এগিয়ে এলে ছোট ভাই সাকিব রিদয়ের ওপরও উপর্যুপরি হামলা চালানো হয়।
হামলাকারীদের ধারালো অস্ত্রের আঘাতে দুজনকে রক্তাক্ত অবস্থায় মাটিতে লুটিয়ে পড়লে স্থানীয় বাসিন্দারা দ্রুত তাদের উদ্ধার করে বগুড়া শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ (শজিমেক) হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক সুমনকে মৃত ঘোষণা করেন। অন্যদিকে, গুরুতর আহত সাকিব রিদয় বর্তমানে আশঙ্কাজনক অবস্থায় হাসপাতালের নিবিড় পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। চিকিৎসকদের মতে, তার শারীরিক অবস্থা অত্যন্ত সংকটাপন্ন।
এ ঘটনায় লক্ষ্মীপুর গ্রামের রেজাউল করিমের ছেলে রাব্বি মোল্লা ও রাহাত মোল্লাসহ কয়েকজনের বিরুদ্ধে সরাসরি হামলায় জড়িত থাকার অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয়দের দাবি, ঘটনার পর পরই তোপের মুখে পড়ে রেজাউল করিমের বড় ছেলে পুলিশের কাছে আত্মসমর্পণ করেছেন।
পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে রক্তমাখা ধারালো অস্ত্র উদ্ধার করেছে। হত্যাকাণ্ডের খবর পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন শিবগঞ্জ সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার রবিউল ইসলাম, শিবগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) শাহিনুজ্জামান এবং মোকামতলা পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রের এসআই আনছার আলী। বর্তমানে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে ওই এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।
শিবগঞ্জ থানার ওসি শাহিনুজ্জামান জানান, “নিহতদের শরীরে ধারালো অস্ত্রের একাধিক গুরুতর আঘাতের চিহ্ন রয়েছে। মরদেহ দুটি ময়নাতদন্তের জন্য শজিমেক হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। এই নৃশংস ঘটনায় একটি হত্যা মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে। ঘটনার সাথে জড়িত বাকি আসামিদের গ্রেপ্তারে পুলিশি অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
এদিকে এই নির্মম হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় এলাকাজুড়ে তীব্র নিন্দা ও ক্ষোভের ঝড় উঠেছে। স্থানীয় বাসিন্দারা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলছেন, জমিজমার বিরোধ কোনোভাবেই এমন বর্বরোচিত প্রাণহানির কারণ হতে পারে না। তারা দ্রুত সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত দোষীদের আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক ফাঁসির দাবি জানিয়েছেন।