মোবাইলে আর্জেন্টিনার খেলা দেখতে গিয়ে খালে পড়ে যুবকের মৃত্যু - চলনবিলের সময়

মোবাইলে আর্জেন্টিনার খেলা দেখতে গিয়ে খালে পড়ে যুবকের মৃত্যু

লেখক: নেত্রকোনা প্রতিনিধি
প্রকাশ: July 17, 2026

6

নেত্রকোণার মোহনগঞ্জ উপজেলায় মোবাইল ফোনে আর্জেন্টিনা ও ইংল্যান্ডের ফুটবল ম্যাচ দেখতে গিয়ে খালে পড়ে আহাদ নূর (২৬) নামে এক যুবকের মৃত্যু হয়েছে।

নিখোঁজের প্রায় দুইদিন পর শুক্রবার সকালে সাপমরা খাল থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়। এরআগে, গত বুধবার (১৫ জুলাই) দিবাগত রাতে খেলা দেখার সময় তিনি নিখোঁজ হন।

মোহনগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. হাফিজুল ইসলাম হারুন বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

নিহত আহাদ নূর মোহনগঞ্জ উপজেলার মাঘান (মাইজহাটি) গ্রামের কাঁচা মিয়ার ছেলে। তবে দীর্ঘদিন ধরে তিনি সুনামগঞ্জের ধর্মপাশা উপজেলার সৈয়দপুর গ্রামে বসবাস করতেন। কয়েক দিন আগে তিনি চাচা কালা মিয়ার বাড়িতে বেড়াতে মোহনগঞ্জে এসেছিলেন।

পুলিশ ও পরিবার সূত্রে জানা গেছে, গত বুধবার দিবাগত গভীর রাতে মাঘান গ্রামের পাশ দিয়ে বয়ে যাওয়া সাপমরা খালের পাড়ে বসে মোবাইল ফোনে আর্জেন্টিনা ও ইংল্যান্ডের ফুটবল ম্যাচ দেখছিলেন আহাদ। একপর্যায়ে নদীর একেবারে কিনারা থেকে অসাবধানতাবশত পানিতে পড়ে যান তিনি। সাঁতার না জানায় আর তীরে ফিরতে পারেননি আহাদ।

পরদিন সকাল থেকে পরিবারের সদস্য ও স্থানীয়রা বিভিন্ন স্থানে খোঁজাখুঁজি করলেও তার কোনো সন্ধান মেলেনি। পরে শুক্রবার সকালে স্থানীয় লোকজন সাপমরা নদীতে একটি মরদেহ ভাসতে দেখে পুলিশকে খবর দেন। এরপর পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে মরদেহ উদ্ধার করে।

পুলিশ জানায়, মরদেহটি ঘটনাস্থল থেকে প্রায় এক কিলোমিটার দূরে ভেসে উঠে এবং অর্ধগলিত অবস্থায় ছিল।

এ বিষয়ে মাঘান-সিয়াধার ইউনিয়নের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান নজরুল ইসলাম মাসুদ বলেন, খালের পাড়েই আহাদের চাচার বাড়ি। গত বুধবার রাতে খালের কিনারায় বসে মোবাইলে আর্জেন্টিনার খেলা দেখছিলেন আহাদ। হয়তো অসাবধানতাবশত খালে পড়ে ডুবে গিয়ে তার মৃত্যু হয়েছে। বর্তমান সময়ে খালে অনেক পানি, খালের ওই অংশটিও অনেক গভীর। আহাদ সাঁতার জানতেন না বলে জানিয়েছেন পরিবারের লোকজন।

তিনি আরো বলেন, আহাদের মা-বাবা ও স্ত্রীসহ পরিবারের লোকজনের এ বিষয়ে কারো প্রতি অভিযোগ নেই বলে জানিয়েছেন। তার সঙ্গে কারো শত্রুতাও নেই। তারা ময়নাতদন্ত ছাড়াই লাশ হস্তান্তরের আবেদন জানিয়েছেন।

মোহনগঞ্জ থানার ওসি মো. হাফিজুল ইসলাম হারুন বলেন, তিনি সাঁতার জানতেন না। অনেক রাতে খেলা শেষ হওয়ায় পরিবারের লোকজন ঘুমিয়ে গেলে তার খবর জানতে পারেননি। সকালে তাকে না পেয়ে খোঁজাখুঁজি শুরু করেন পরিবারের লোকজন। শুক্রবার সকালে বাড়ি থেকে থেকে প্রায় এক কিলোমিটার দূরে আহাদের মরদেহ পাওয়া গেছে। পরিবারের পক্ষ থেকে কোনো অভিযোগ না থাকায় প্রয়োজনীয় আইনগত প্রক্রিয়া শেষে ময়নাতদন্ত ছাড়াই মরদেহ স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হবে।