
স্মার্টফোন ছাড়া এখনকার জীবন যেন কল্পনাই করা যায় না। তবে এই প্রয়োজনীয় ডিভাইসটিই অজান্তে আমাদের মনোযোগ কেড়ে নিচ্ছে, এমনই এক চমকপ্রদ তথ্য উঠে এসেছে নতুন এক গবেষণায়।
আপনি কি বিশ্বাস করবেন, ফোনে একটি সাধারণ নোটিফিকেশনের শব্দই আপনার মস্তিষ্ককে মুহূর্তের মধ্যে অন্যদিকে সরিয়ে দেয়? শুধু তাই নয়, সেই প্রভাব কাটতে সময় লাগে কয়েক সেকেন্ড।
সম্প্রতি প্রকাশিত এক গবেষণায় দেখা গেছে, স্মার্টফোনে নোটিফিকেশন আসার পর অন্তত ৭ সেকেন্ডের জন্য মানুষের মনোযোগ পুরোপুরি বিঘ্নিত হয়। অর্থাৎ, এই সময়টুকুতে আপনি আপনার কাজের ওপর ঠিকভাবে মনোযোগ ধরে রাখতে পারেন না।
‘কম্পিউটারস ইন হিউম্যান বিহেভিয়ার’ জার্নালে প্রকাশিত ওই গবেষণায় বলা হয়েছে, নোটিফিকেশনের শব্দ মস্তিষ্কের মনোযোগকে যেন ‘হাইজ্যাক’ করে নেয়। বিশেষ করে যদি নোটিফিকেশনটি কাছের কোনো মানুষের বার্তা হয়, তাহলে মনোযোগ ধরে রাখা আরও কঠিন হয়ে পড়ে।
গবেষকরা জানিয়েছেন, নোটিফিকেশনের শব্দের প্রতি স্বাভাবিক কৌতূহল—যেমন কে মেসেজ পাঠালো বা কী এসেছে, এই মনোযোগ বিচ্যুতির অন্যতম কারণ। ফলে ছোট্ট একটি শব্দও কাজের ধারাবাহিকতায় বড় ধরনের প্রভাব ফেলে।
তাদের মতে, ৭ সেকেন্ড সময়টা আলাদাভাবে খুব বেশি মনে না হলেও যদি দিনে ১০০টি নোটিফিকেশন আসে, তাহলে মোট সময়ের হিসাবটা বেশ বড় হয়ে দাঁড়ায়—যা দৈনন্দিন উৎপাদনশীলতাকে উল্লেখযোগ্যভাবে কমিয়ে দিতে পারে।
এই গবেষণায় বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের ১৮০ জন শিক্ষার্থীকে তিনটি দলে ভাগ করা হয়। এর মধ্যে দুইটি দলের শিক্ষার্থীদের ফোনে ঘন ঘন নোটিফিকেশন পাঠানো হয়, আর তৃতীয় দলকে তুলনামূলকভাবে খুব কম নোটিফিকেশন দেওয়া হয়।
ফলাফলে দেখা গেছে, নোটিফিকেশন আসার সঙ্গে সঙ্গে শিক্ষার্থীদের বিশ্লেষণী ক্ষমতা প্রায় ৭ সেকেন্ডের জন্য কমে যায়। উল্লেখযোগ্য বিষয় হলো, কম বা বেশি, উভয় ক্ষেত্রেই নোটিফিকেশন মনোযোগে নেতিবাচক প্রভাব ফেলে।
গবেষকদের মতে, আধুনিক জীবনে স্মার্টফোন ব্যবহারের পাশাপাশি মনোযোগ ধরে রাখতে সচেতন হওয়াটাই এখন সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ।
সূত্র : জিও নিউজ