মৌডুবীর জাহাজমারা সৈকতে কাঠের সেতু ভেঙে যাওয়ায় স্বর্গীয় সৌন্দর্যের ধ্বংসযজ্ঞ, পর্যটন-মৎস্যব্যবসা বিপর্যয়ে জরুরি সেতুর দাবি

: জুয়েল রানা (জেলা প্রতিনিধি) পটুয়াখালী
প্রকাশ: 7 hours ago

26

পটুয়াখালী জেলার সর্বদক্ষিণ প্রান্তে, রাঙাবালী উপজেলার মৌডুবী ইউনিয়নে বঙ্গোপসাগরের কোল ঘেঁষা জাহাজমারা সমুদ্র সৈকতে যাতায়াতের একমাত্র কাঠের সেতুটি ভেঙে পড়ায় স্থানীয় জনজীবন, পর্যটন এবং মৎস্য ব্যবসা সম্পূর্ণ বিপর্যস্ত। উপজেলা সদর থেকে মাত্র ২০ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত এই সৈকতের দিকে যাওয়ার পথটি এখন ‘মৃত্যু ফাঁদ’ হয়ে দাঁড়িয়েছে। স্থানীয়রা সরকারি কর্তৃপক্ষের কাছে জরুরি নতুন সেতু নির্মাণের জোরালো দাবি জানাচ্ছে, অন্যথায় এই স্বর্গীয় স্থানটি চিরতরে পরিত্যক্ত হয়ে যাবে।জাহাজমারা সমুদ্র সৈকত বাংলাদেশের অনিন্দিত পর্যটন রত্ন। প্রায় ৬-৫ কিলোমিটার দীর্ঘ চিকচিকে বালুকাময় তটরেখা, যেখানে একই স্থান থেকে সূর্যোদয় এবং সূর্যাস্তের অপূর্ব দৃশ্য উপভোগ করা যায়। চারদিকে নীল জলরাশি, ঢেউয়ের গর্জন এবং লাল কাঁকড়াগুলোর ছোটাছুটি পর্যটকদের মুগ্ধ করে। সৈকতের পাশে বিস্তৃত ঝাউবন এবং ৫০০ একরেরও বেশি সবুজ বনভূমি, যেখানে কেওড়া, বাবলা, ছইলা, গেওয়া, বলই, হরগুজি কাঁটা, করমজা, মান্দারের মতো গাছপালা ফুলে ফুলে ভরা। শীতে অতিথি পাখিরা ভিড় করে, যেমন পাতি তিসাবাজ, সাদা কলার্ড মাছরাঙা, পানকৌড়ি, সাদা বক, সহ নানা প্রজাতির পাখির কলকাকলি সকাল-বিকেলে এলাকাটিকে মুখরিত করে তোলে। এছাড়া সাদা ঝিনুকের সমারোহ এবং সমুদ্রের জলে মাছের দলের ছোটাছুটি চোখকে আনন্দিত করে।

সৈকতের সুইচগেট এলাকায় অবস্থিত বিশাল মৎস্য অবতরণ কেন্দ্র এই অঞ্চলের অর্থনৈতিক মেরুদণ্ড। শত শত নৌকা-ট্রলার সমুদ্র থেকে টাটকা মাছ তুলে আনে, যা বাংলাদেশের বিভিন্ন অঞ্চলে সরবরাহ হয়ে সরকারি রাজস্ব বাড়ায়। স্থানীয় জেলেরা এখানে মাছ ধরার দৃশ্য পর্যটকদের আকর্ষণ করে এবং তাজা মাছের স্বাদও উপভোগ করার সুযোগ রয়েছে। এর পাশেই একটি ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান, যেখানে শিশু-কিশোররা সকালে মক্তবে পড়াশোনা করে এবং বয়স্করা ধর্মীয় অনুষ্ঠানে অংশ নেয়। কিন্তু ভাঙা সেতুর কারণে এসব স্থানে যাতায়াত অসম্ভব হয়ে পড়েছে। অনেকে পারাপারের চেষ্টায় খতির শিকার হয়েছে, জীবনহানির ঝুঁকি বেড়েছে।

সেতু ভাঙার পর পর্যটকরা মুখ ফিরিয়ে নিচ্ছে। যারা আগে এখানে ঝাঁকুনি দিয়ে ছুটে আসত, তারা এখন কুয়াকাটা বা অন্য সৈকতের দিকে ঝুঁকছে।

স্থানীয় ব্যবসায়ীরা বলছেন, “যাতায়াত না থাকলে সৈকতের সৌন্দর্যও বাঁচবে না। নতুন সেতু হলে এ অঞ্চলে ভাগ্যের চাকা ঘুরে দাঁড়াবে , ঝাঁউবাগান এবং পরিচ্ছন্নতা ব্যবস্থা করে আন্তর্জাতিক পর্যটনকেন্দ্র বানানো যাবে।” রাঙাবালী উপজেলা প্রশাসন এবং মৌডুবী ইউপি আগে সৈকত উন্নয়নে উদ্যোগ নিয়েছে, যেমন যাত্রীছাউনি, নলকূপ এবং পরিচ্ছন্নতা কর্মী নিয়োগ। কিন্তু সেতু না মেরামত করলে সবকিছু ব্যর্থ হবে।

স্তানিয় জনসাধারণ বলছেন, “এটি শুধু যাতায়াতের সমস্যা নয়, অঞ্চলের উন্নয়নের প্রশ্ন। সরকার যেন তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নেয়।” বন বিভাগও ঝাঁউবাগান বাড়ানোর পরিকল্পনা করছে। জাহাজমারা সৈকতকে বাঁচাতে কর্তৃপক্ষের জরুরি পদক্ষেপ অপেক্ষমাণ।