যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে চুক্তি নিয়ে অন্তর্বর্তী সরকার কোনো আলোচনা করেনি: জামায়াত আমির

: চলনবিলের সময় ডেস্ক
প্রকাশ: 16 hours ago

31

বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যকার বাণিজ্য চুক্তি নিয়ে অন্তর্বর্তী সরকারের পক্ষ থেকে কেউ জামায়াতে ইসলামীর সঙ্গে আলোচনা করেনি বলে জানিয়েছেন দলটির আমির ও বিরোধীদলীয় নেতা ও ডা. শফিকুর রহমান। তিনি বলেন, সরকারের পক্ষ থেকে কেউ কোনোদিন আমাদের সঙ্গে এই বিষয়ে কোনো আলোচনা করেনি। এখনো আমি দায়িত্ব নিয়ে বলছি, তৎকালীন সরকারের পক্ষ থেকে কোনো ব্যক্তি আমাদের সঙ্গে একটি শব্দ উচ্চারণ করেনি।

শুক্রবার (১৫ মে) বিকেলে রংপুর জেলা শিল্পকলা একাডেমিতে সুধী সমাবেশে যোগ দেওয়ার আগে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এসব কথা বলেন।

ডা. শফিকুর রহমান বলেন, সরকারি দল ইতিমধ্যে অনেক ‘উল্টাপাল্টা’ কাজ করে ফেলেছে। তারা গণভোটকে অগ্রাহ্য করেছে। ভোটের পক্ষে প্রায় ৭০ ভাগ মানুষ রায় দিয়েছিল। কিন্তু সরকারি দল এটাকে অপমান এবং অগ্রাহ্য করেছে। আমরা কথা দিয়েছি সংসদের ভিতরে এবং বাইরে লড়াই চালিয়ে যাব। আমরা গভীর আস্থাশীল যে গণভোটের রায় এই বাংলার জমিনে একদিন ইনশাল্লাহ বাস্তবায়ন হবে।গণভোটের রায় অপমানে অবহেলায় পরিত্যক্ত হবে না।

বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর পরিবর্তন করে একজন ‘বিতর্কিত ও দুর্বল’ ব্যক্তিকে গুরুত্বপূর্ণ পদে বসানো হয়েছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি। জামায়াত আমির বলেন, ৪২টি জেলায় প্রশাসক নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। দেশ যখন একটি গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে এগিয়ে যাচ্ছে, তখন এ সময়ে দলীয় লোকদের প্রশাসক হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হবে কেন?

ডা. শফিকুর রহমান বলেন, জনগণ এই রাষ্ট্রের রূপান্তর চায়। কিন্তু রূপান্তরের জন্য অন্তর্বর্তীকালীন সরকার যে অর্ডিন্যান্স জারি করেছিল তা বর্তমান সরকারি দল সবগুলো বাদ দিয়ে দিয়েছে। এগুলো তারা আলোচনা টেবিলে আনেনি। আমরা লড়াই করেছি,আলোচনার সুযোগ না দেওয়ার কারণে আমরা সংসদ থেকে ওয়াকআউট করেছি। কিন্তু আমরা সংসদ ছেড়ে দেয়নি কারও জন্য। কারন জনগণ আমাদেরকে রাগ করে বাইরে বসার জন্য ওখানে পাঠায়নি।

স্থানীয় সরকার ও বিশ্ববিদ্যালয়ে দলীয় অনুগতদের গুরুত্বপূর্ণ পদে বসানোকে জনগণের সঙ্গে তামাশা উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘বিভিন্ন নির্বাচনে জনগণ যাদের প্রত্যাখ্যান করেছে, পরাজিত হয়েছে—তাদেরই আবার গুরুত্বপূর্ণ জায়গায় বসানো হচ্ছে। বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতেও দলীয় অনুগতদের ভিসি, প্রো-ভিসি, প্রক্টর ও প্রভোস্ট হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হচ্ছে। এসবের কোনো জবাব নেই। মনে রাখতে হবে, কারও পরিকল্পনাই চূড়ান্ত নয়, আল্লাহতালার পরিকল্পনাই চূড়ান্ত।

বিরোধীদলীয় নেতা বলেন, জনগণ আমাদেরকে সংসদে পাঠিয়েছেন তাদের কথাগুলো বলার জন্য। তাদের সুখ-দুঃখ, ব্যথা-বেদনা বলার জন্য। সরকার যদি ভালো কাজ করে তাহলে শুধু সমর্থন দেব না; বরং সহযোগিতা করব। কিন্তু সরকার যদি কোনো মন্দ কাজ, অপকর্ম করে তাহলে রুখে দাঁড়াবো। আমরা ছেড়ে দেব না কাউকে।

তিনি আরও বলেন, জ্বালানি সংকটের সময় আমরা আলোচনার জন্য নোটিশ দিয়েছিলাম কিন্ত সরকারি দল আলোচনা করতে দিতে চায়নি। তারা ভয় পায় যদি কেঁচো খুড়তে সাপ বের হয়। পরে তাদের সঙ্গে একটা অর্থবহ আলোচনার পর সরকারি দল এবং বিরোধীদলের ১০ জন নিয়ে একটি কমিটি গঠনের দুইদিন পর বাংলাদেশের চিত্র পাল্টে গেল। সরকারি দল এবং বিরোধী দল জনগণের সমস্যার সমাধান আন্তরিক হলে জনগণের মধ্যে আস্থার পরিবেশ তৈরি হইয়। এই আস্থার জন্য দুইদিনের মধ্যে জ্বালানি সমস্যার সমাধান হয়েছে।

স্থানীয় সরকার নির্বাচনে সুষ্ঠু ভোট নিয়ে শঙ্কা জানিয়ে জামায়াত আমির বলেন, আমরা গণতান্ত্রিক দল এবং গণতান্ত্রিক পন্থায় এই দেশের ক্ষমতার পরিবর্তন চাই। আমরা সকল নির্বাচনে অংশগ্রহণ করেছি এবং করব। স্থানীয় সরকার নির্বাচন নিয়ে শঙ্কা আছে কারণ জাতীয় নির্বাচনের পর শেরপুর ও বগুড়ায় দুইটা উপনির্বাচনে সেখানকার ‘কাণ্ড কারখানা’ আপনারা সবই দেখেছেন। আমরা এ ব্যাপারে শঙ্কিত যে আদৌ সুষ্ঠু নির্বাচন হবে কি না।

পদ্মা ব্যারেজ নিয়ে সরকারি উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়ে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, আমরা পদ্মা ব্যারেজ প্রকল্পকে অভিনন্দন জানাই। তবে এটি যেন তিস্তা মহাপরিকল্পনার বিকল্প না হয়। তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়ন করতেই হবে, এর বাইরে আমরা কিছু চাই না।

এ সময় রংপুর-৩ আসনের সংসদ সদস্য মাহবুবুর রহমান বেলাল, রংপুর-২ আসনের সংসদ সদস্য রায়হান সিরাজী, জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল মাওলানা আব্দুল হালিম, মহানগর জামায়াতের আমির এটিএম আজম খান উপস্থিত ছিলেন।

WP2Social Auto Publish Powered By : XYZScripts.com