তামিলনাড়ু বিধানসভা নির্বাচনের প্রাথমিক ফলাফলে বড় ধরনের রাজনৈতিক পরিবর্তনের আভাস মিলছে। এতে দেখা যাচ্ছে অভিনেতা থেকে রাজনীতিতে আসা বিজয়ের দল তামিলাগা ভেট্টি কাজাগাম বা টিভিকে এগিয়ে রয়েছে যা দীর্ঘদিনের প্রভাবশালী দল দ্রাবিড় মুনেত্র কাজাগাম বা ডিএমকে ও অল ইন্ডিয়া আন্না দ্রাবিড় মুনেত্র কাজাগামের আধিপত্যকে চ্যালেঞ্জ জানাচ্ছে।
এমন উত্তেজনাপূর্ণ রাজনৈতিক পরিস্থিতির মধ্যেই বিজয়ের বাসভবনে শুরু হয়েছে উৎসবের আমেজ। এ সময় সেখানে উপস্থিত হতে দেখা যায় জনপ্রিয় অভিনেত্রী তৃষা কৃষ্ণনকে। উল্লেখযোগ্য বিষয় হলো দিনটি ছিল তার ৪৩তম জন্মদিন আর ঠিক সেই সময়েই তার এই উপস্থিতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে।
দিনের শুরুতে তৃষা তিরুপতি মন্দিরে পূজা দেন। পরে তিনি সরাসরি বিজয়ের বাসভবনে যান। গাড়ির ভেতরে তার হাস্যোজ্জ্বল ও লাজুক অভিব্যক্তির ভিডিও ও ছবি দ্রুতই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হয়ে পড়ে। এখনও ভোট গণনা চলমান। তবে শেষ পর্যন্ত যদি বিজয় জয় পান তাহলে তা হবে ঐতিহাসিক এক মুহূর্ত। প্রায় পাঁচ দশকের মধ্যে প্রথম কোনো অভিনেতা হিসেবে তিনি তামিলনাড়ুর মুখ্যমন্ত্রী হওয়ার কৃতিত্ব অর্জন করতে পারেন।
তৃষা ও বিজয় দীর্ঘদিন ধরেই তামিল চলচ্চিত্রের জনপ্রিয় জুটি। ২০০৪ সালের ব্লকবাস্টার ‘ঘিল্লি’ সিনেমার মাধ্যমে তাদের রসায়ন দর্শকদের মন জয় করে। এরপর ‘থিরুপাচি’, ‘আথি’ ও ‘কুরুভি’ তে একসঙ্গে কাজ করে জনপ্রিয়তা আরও বাড়ান তারা। তবে এই অনস্ক্রিন সাফল্যের পাশাপাশি অফস্ক্রিন সম্পর্ক নিয়েও গুঞ্জন তৈরি হয়। ২০০৮ সালের পর প্রায় ১৫ বছর তারা একসঙ্গে কাজ করেননি। সে সময় শিল্পসংশ্লিষ্ট মহলে ধারণা ছিল অতিরিক্ত সম্পর্কের গুঞ্জনের চাপই তাদের দূরত্বের কারণ। যদিও বিজয় ও তৃষা বরাবরই নিজেদের ‘ভালো বন্ধু’ বলেই উল্লেখ করেছেন। দীর্ঘ বিরতির পর ২০২৩ সালের ‘লিও’ সিনেমায় আবারও একসঙ্গে দেখা যায় এই জুটিকে যা নতুন করে সম্পর্কের গুঞ্জন উসকে দেয়।

বিজয়ের ব্যক্তিগত জীবনও সম্প্রতি আলোচনায় রয়েছে। ১৯৯৯ সালে সঙ্গীতা সোর্নালিঙ্গমের সঙ্গে তার বিয়ে হয় এবং তাদের দুই সন্তান রয়েছে। তবে দুই দশকের বেশি সময় একসঙ্গে থাকার পর সঙ্গীতা বিচ্ছেদের আবেদন করেছেন বলে জানা যায়। অভিযোগ রয়েছে পরকীয়ার কারণেই এই বিচ্ছেদের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। যদিও কোনো অভিনেত্রীর নাম আনুষ্ঠানিকভাবে উল্লেখ করা হয়নি ভক্তদের একটি অংশ তা তৃষার সঙ্গে যুক্ত করে দেখছেন। এদিকে বিচ্ছেদের খবরের পরপরই এক অভিজাত বিয়ের অনুষ্ঠানে বিজয় ও তৃষাকে একসঙ্গে দেখা যায় যা দীর্ঘদিন পর তাদের প্রথম প্রকাশ্য উপস্থিতি ছিল এবং নতুন করে জল্পনা বাড়ায়।
রাজনৈতিক সাফল্যের সম্ভাব্য এই গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্তে বিজয়ের বাসভবনে তৃষার উপস্থিতি রাজনৈতিক ও ব্যক্তিগত দুই প্রেক্ষাপটকেই নতুন করে সামনে এনেছে। এটি নিছক বন্ধুত্বের প্রকাশ নাকি অন্য কিছু তা নিয়ে জোর আলোচনা চলছে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে। ভোট গণনা চলতে থাকলেও এখন সবার নজর শুধু বিজয়ের রাজনৈতিক ভবিষ্যতের দিকেই নয় বরং প্রায় দুই দশক ধরে আলোচিত এই সম্পর্কের দিকেও।
সম্পাদক ও প্রকাশকঃ লুৎফর রহমান হীরা
হেড অফিসঃ ১/ জি,আদর্শ ছায়ানীড়, রিংরোড, শ্যামলী, আদাবর ঢাকা - ১২০৭।
স্বত্ব © ২০২৫ চলনবিলের সময়