
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে চোখ পড়তেই দেখা যাচ্ছে ধর্ষণের খবর। নেটিজেনরা পল্লবীতে আট বছরের শিশু ধর্ষণ ও হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ধিক্কার জানাচ্ছেন। অনেকে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি চাইছেন। বাদ যাননি দেশের ক্রিকেটাররাও।
বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) এডহক কমিটির সভাপতি তামিম ইকবাল, টেস্ট অধিনায়ক নাজমুল হোসেন শান্তর পাশাপাশি লিটন দাস, মুশফিকুর রহিম, সাকিব আল হাসানরা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পল্লবীর ধর্ষণের ঘটনায় বিচার চেয়েছেন। তামিম নিজের অফিসিয়াল ফেসবুক পেজে ধর্ষণ ও হত্যাকাণ্ডের শিকার শিশুর ছবি পোস্ট করে বিচার চেয়েছেন। টেস্ট অধিনায়ক নাজমুল হোসেন শান্ত তার ফেসবুকে লিখেছেন, ‘আমরা এমন এক সমাজ চাই, যেখানে প্রতিটি শিশু নিরাপদে হাসতে পারবে, ভয় নয়, স্বপ্ন নিয়ে বড় হবে। আর কোনো রামিসার জীবন যেন এভাবে থেমে না যায়। আল্লাহ তাকে জান্নাতুল ফেরদৌস দান করুন, আর দোষীদের এমন শাস্তি হোক যা সমাজের জন্য দৃষ্টান্ত হয়ে থাকে।’
মুশফিক ধর্ষণ ও হত্যাকাণ্ডের শিকার শিশুর ছবি পোস্ট করে বিচার চেয়েছেন। বাংলাদেশের প্রথম ক্রিকেটার হিসেবে শততম টেস্ট খেলা এই ব্যাটার লিখেছেন, ‘আজ সকালে খবরটা শুনে আমি পুরোপুরি হতবাক। নিরাপত্তা, ভালোবাসা এবং সুরক্ষা পাওয়ার যোগ্য ছিল। এমন ভয়াবহ নিষ্ঠুরতা নয়। আমি এই নিষ্পাপ শিশুটির জন্য দ্রুত এবং যথাযথ বিচার দাবি করছি, কোনো পরিবারকেই যেন এই ধরনের যন্ত্রণা সহ্য করতে না হয়। শিশুদের বিরুদ্ধে অপরাধের কঠোরতম শাস্তি হওয়া উচিত।’
কন্যা সন্তানের বাবা হওয়ায় লিটনের চাওয়া পল্লবীর মতো ঘটনা যেন আর না ঘটে। বাংলাদেশ টি-টোয়েন্টি দলের অধিনায়ক লিখেছেন, ‘কন্যা সন্তানের বাবা হিসেবে খবরটি অত্যন্ত উদ্বেগজনক। আমাদের সন্তানদের নিরাপদ পৃথিবী প্রাপ্য, যেখানে তারা কোনো ভয় ছাড়াই বড় হতে পারবে। দ্রুত বিচার হওয়া উচিত। আসুন উচ্চকণ্ঠে বলি—এ ধরনের অপরাধে কঠোরতম শাস্তিই প্রাপ্য। আর কখনোই এমন ট্র্যাজেডির পুনরাবৃত্ত চাই না।’
রামিসার হত্যার দ্রুততম ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি চেয়ে সাকিব আল হাসান লিখেছেন, ‘একটি শিশুর কান্না শুধু একটি পরিবারের শোক নয়, এটি পুরো সমাজের ব্যর্থতার প্রতিধ্বনি। যারা নিষ্পাপ শৈশবকে ধর্ষণ ও হত্যার মতো নৃশংসতায় ধ্বংস করে, তারা মানবতার শত্রু। ন্যায়বিচার বিলম্বিত মানেই অন্যায়ের সাহস বাড়ানো। রামিসার জন্য দ্রুততম ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি চাই।’
উল্লেখ্য, পল্লবীতে শিশুকে ধর্ষণের পর হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় অভিযুক্ত ব্যক্তি আদালতে জবানবন্দি দিয়েছেন। তাকে এরই মধ্যে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। গতকাল থেকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে শিশু ধর্ষণ ও হত্যাকাণ্ডের বিচারের ঘটনায় যারা পোস্ট দিয়েছেন, তাদের পোস্টে বেশির ভাগ প্রতিক্রিয়াই দুঃখজনক। অনেকে প্রতিবাদের ভাষাও হারিয়ে ফেলেছেন।