পাবনার চাটমোহর উপজেলার পার্শ্ববর্তী সিরাজগঞ্জের তাড়াশ উপজেলার নওগাঁ ইউনিয়নে অবস্থিত প্রখ্যাত আধ্যাত্মিক সাধক ও ইসলাম প্রচারক হযরত শাহ শরীফ জিন্দানী (রহ.)-এর বার্ষিক ওরশ আজ শুক্রবার থেকে শুরু হয়েছে।
চলনবিল অঞ্চলের প্রাচীনতম ইসলামী ঐতিহ্যের অন্যতম এই মাজার শরীফ দীর্ঘদিন ধরে শুধু ধর্মীয় অনুভূতির কেন্দ্রই নয়, বরং স্থানীয় সমাজ-সংস্কৃতি ও আধ্যাত্মিক চর্চারও গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র হিসেবে পরিচিত। প্রতিবছর বাংলা সনের চৈত্র মাসের প্রথম শুক্রবার, অর্থাৎ ২০ মার্চ, মৃতপ্রায় করতোয়া নদীর তীরে তিন দিনব্যাপী এ ওরশ অনুষ্ঠিত হয়।
ইতিহাস থেকে জানা যায়, প্রায় ১৫২০ খ্রিস্টাব্দে তিনি তৎকালীন রাজা ভানুসিংহের শাসনাধীন এ অঞ্চলে আগমন করেন। জনশ্রুতি রয়েছে, অলৌকিক ক্ষমতার অধিকারী এ মহান সাধক বাঘের পিঠে চড়ে নওগাঁ এলাকায় প্রবেশ করেন। তাঁর দাওয়াতি কার্যক্রমে বহু মানুষ ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করেন এবং পুরো অঞ্চল ইসলামী চেতনায় আলোকিত হয়ে ওঠে।
ঐতিহাসিক তথ্যানুসারে, হযরত শাহ শরীফ জিন্দানী (রহ.) বোখারার অন্তর্গত জিন্দান নগরের এক সম্ভ্রান্ত পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন। জ্ঞান অর্জন ও ধর্মচর্চার প্রতি গভীর অনুরাগ থেকেই তিনি ভারতবর্ষে আগমন করেন এবং পরবর্তীতে বাংলার চলনবিল অঞ্চলের নওগাঁ এলাকায় স্থায়ীভাবে আস্তানা গড়ে তোলেন।
নওগাঁ জিন্দানী শরীফ মসজিদ ও মাজার আজও ধর্মপ্রাণ মানুষের কাছে এক পবিত্র স্থান। ওরশ উপলক্ষে দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে হাজারো ভক্ত, দরবেশ ও অনুসারীরা এখানে সমবেত হন। মাজার প্রাঙ্গণে অনুষ্ঠিত হয় মিলাদ, কিরাত, দোয়া মাহফিল এবং বিভিন্ন ধর্মীয় আয়োজন।
ওরশের শেষ দিনে করতোয়া নদীর তীরে বসে ঐতিহ্যবাহী ‘বউমেলা’, যেখানে বিশেষ করে নারীদের অংশগ্রহণে উৎসবমুখর পরিবেশ সৃষ্টি হয়। মাজার চত্বরের প্রাচীন বৃক্ষ ও মনোরম পরিবেশ দর্শনার্থীদের মনে আধ্যাত্মিক প্রশান্তি এনে দেয়।
আয়োজক কমিটির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, তাড়াশ উপজেলা প্রশাসনের সার্বিক তত্ত্বাবধানে ওরশ সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করতে প্রয়োজনীয় সকল প্রস্তুতি গ্রহণ করা হয়েছে। এ বছর জুমার নামাজে লাখো মুসল্লির সমাগম ঘটবে বলে আশা করা হচ্ছে।
সম্পাদক ও প্রকাশকঃ লুৎফর রহমান হীরা
হেড অফিসঃ ১/ জি,আদর্শ ছায়ানীড়, রিংরোড, শ্যামলী, আদাবর ঢাকা - ১২০৭।
স্বত্ব © ২০২৫ চলনবিলের সময়