শত বছরের ঐতিহ্য ধরে রেখেছে সাতক্ষীরা

: সাতক্ষীরা প্রতিনিধি
প্রকাশ: 1 hour ago

3

শত বছরের ঐতিহ্য ধরে রেখে সাতক্ষীরার কলারোয়ার দক্ষিণ মুরারীকাটিতে অনুষ্ঠিত হলো কালীপূজা উপলক্ষে ৪ দিনব্যাপী তালের বাজার ও গ্রামীণ মেলা। রাজবংশী সম্প্রদায়ের উদ্যোগে কালী মন্দির প্রাঙ্গণে আয়োজিত এ উৎসবকে ঘিরে এলাকায় সৃষ্টি হয় উৎসবমুখর পরিবেশ।

মেলার অন্যতম আকর্ষণ ছিল তাল ও এর শাঁস এবং স্থানীয় গ্রামীণ পণ্যের সমাহার। গাছ থেকে সংগ্রহ করে আনা তাল এখানে কাটা হয় ও শাঁস বিক্রি করা হয়।

এ ছাড়া এখানে বিপুল কাঁচা তাল বিক্রি হয়। তাই এই মেলার আরেকটি নাম হলো তালের বাজার। এই মেলা ও তালের বাজার দেখতে দূর-দূরান্ত থেকে আগত দর্শনার্থীদের পদচারণায় মুখর হয়ে ওঠে পুরো এলাকা। শিশু-কিশোর থেকে শুরু করে সব বয়সী মানুষের উপস্থিতিতে মেলাটি প্রাণবন্ত হয়ে ওঠে।

দক্ষিণ মুরারিকাটি গ্রামের শিক্ষক নব কুমার জানান, প্রতি বৈশাখের শেষ মঙ্গলবার রাতে এখানকার কালীমন্দিরে কালীপূজার আয়োজন করা হয়। এরপর বুধ ও বৃহস্পতিবার দিনের আলোয় যাত্রাগানের আয়োজন করা হয়। সাধারণত রাতের বেলায় যাত্রাগান হলেও এখানকার রাজবংশী সম্প্রদায়ের মানুষ তা দিনের আলোতেই সম্পন্ন করে থাকেন। কোনো এক বিশ্বাস থেকে তারা সূর্যের আলোতেই এটি করে থাকেন। ঐতিহ্যবাহী এ যাত্রাপালা উপভোগ করতে ভিড় করেন অসংখ্য দর্শক।

উৎসব উপলক্ষে বিপুল বাতাসা প্রসাদ হিসেবে ভক্তদের মধ্যে বিতরণ করা হয়। নব কুমার জানান, ১৫ থেকে ২০ মণের বেশি বাতাসা ভক্তবৃন্দের সামনে ছড়িয়ে দেওয়া হয়। দূর থেকে ছড়িয়ে দেয় বাতাসা গুলো দেখলে মনে হয় সাদা মিষ্টান্নের বর্ষণ হচ্ছে। ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্যের পাশাপাশি সম্প্রীতি ও আনন্দের মিলনমেলায় পরিণত হয় এই আয়োজন।

রাজবংশী সম্প্রদায়ের বাবু গোবিন্দ মন্ডল, দেবব্রত মন্ডল আশিস কুমার পোদ্দার, দীনবন্ধু মন্ডল রঞ্জিত মন্ডল, নির্মল কুমার মন্ডলের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, কালীপূজার আচার অনুষ্ঠানে তাদের পূর্বপুরুষরা শত বছর ধরে পূজার সঙ্গে তালের বাজার, গ্রামীণ মেলা ও যাত্রাপালার আয়োজন করে থাকেন। ধর্মীয় উৎসবের সঙ্গে নির্মল আনন্দ ও সম্প্রীতির বন্ধন সুদৃঢ় করতে এ আয়োজন করা হয়। এ সময় প্রতিটি বাড়ি আত্মীয়-স্বজনের আগমনে মুখরিত থাকে।

তারা জানান, প্রশাসনসহ সবার সহায়তায় সম্প্রীতি ও উৎসবমুখরভাবে পূজা ও মেলা সম্পন্ন হয়েছে। শুক্রবার কালীপ্রতিমা বিসর্জনের মধ্য দিয়ে চারদিনব্যাপী এ মেলার সমাপ্তি ঘটে। রাজবংশী সম্প্রদায়ের মানুষ জানান, শত বছরের পুরোনো এ আয়োজন শুধু ধর্মীয় অনুষ্ঠানই নয়, বরং এলাকার সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যের গুরুত্বপূর্ণ অংশ হয়ে রয়েছে।

WP2Social Auto Publish Powered By : XYZScripts.com