শাজাহানপুরে প্রাথমিক বৃত্তি পরীক্ষার বিল নিয়ে তালবাহানা

: সুচন্দন সরকার বগুড়া
প্রকাশ: 2 hours ago

2

​বগুড়ার শাজাহানপুর উপজেলায় ২০২৫ সালের প্রাথমিক বৃত্তি পরীক্ষার পরিচালনা ব্যয়ের বরাদ্দ থাকা সত্ত্বেও দায়িত্বপ্রাপ্তদের বিল পরিশোধে টালবাহানার অভিযোগ উঠেছে। পরীক্ষা শেষ হওয়ার ১০ দিন পেরিয়ে গেলেও প্রাপ্য সম্মানী না পাওয়ায় সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের মধ্যে চরম ক্ষোভ ও অসন্তোষ বিরাজ করছে।

​দায়িত্ব পালনের পরও মিলছে না সম্মানী
​ভুক্তভোগী ও সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, পরীক্ষা চলাকালীন পুলিশ সদস্য, মেডিকেল অ্যাসিস্ট্যান্ট এবং শিক্ষকসহ বিভিন্ন পর্যায়ের দায়িত্বপ্রাপ্তরা অতিরিক্ত দায়িত্ব পালন করেছেন। সরকারি বিধি অনুযায়ী পরীক্ষা শেষে দ্রুততম সময়ে এই সম্মানী পরিশোধের কথা থাকলেও এখন পর্যন্ত তা করা হয়নি।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক কর্মকর্তা জানান, বিল প্রদানের বিষয়ে বারবার যোগাযোগ করা হলেও কর্তৃপক্ষ নানা অজুহাত দেখিয়ে সময়ক্ষেপণ করছে।
​একজন ভুক্তভোগী আক্ষেপ করে বলেন, “বিগত বছরগুলোতে পরীক্ষা শেষ হওয়ার দিন বা তার পরদিনই বিল পরিশোধ করা হতো। কিন্তু এবার ১০ দিন পার হয়ে গেলেও কোনো অর্থ হাতে পাইনি। কেন এই বিলম্ব, তার কোনো সদুত্তরও মিলছে না।”

​বিল বিতরণে বিলম্বের বিষয়টি স্বীকার করেছেন শাজাহানপুর উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা আব্দুল লতিফ। তিনি বলেন, “অফিসে প্রয়োজনীয় জনবল সংকটের কারণে বিল প্রস্তুত ও বিতরণে কিছুটা সময় লাগছে। তবে আমরা বিষয়টি দ্রুত সমাধানের চেষ্টা করছি।”

​সংশ্লিষ্টদের মতে, সরকারি আর্থিক বিধি অনুযায়ী অতিরিক্ত দায়িত্ব পালনের সম্মানী নির্ধারিত সময়ে পরিশোধ করা বাধ্যতামূলক। বিনা কারণে বিল আটকে রাখা প্রশাসনিক জবাবদিহিতার পরিপন্থী এবং এটি ভবিষ্যতে কর্মীদের দায়িত্ব পালনে অনীহা সৃষ্টি করতে পারে।

​এ বিষয়ে বগুড়া জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার মো. রেজোয়ান হোসেন বলেন, “দায়িত্বপ্রাপ্তদের সম্মানী পরীক্ষা শেষ হওয়ার সাথে সাথেই প্রদান করার কথা। শাজাহানপুরে কেন এটি এখনো দেওয়া হয়নি, সে বিষয়ে আমি উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তার সাথে কথা বলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিচ্ছি।”
​ভুক্তভোগীরা আশা করছেন, ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপে অতি দ্রুত তাদের প্রাপ্য বকেয়া বিল পরিশোধ করা হবে।