বগুড়ার শিবগঞ্জ উপজেলার দেউলী ইউনিয়নের বিহারপুর আকন্দপাড়া এলাকায় সড়ক নির্মাণকাজকে কেন্দ্র করে অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। এ বিষয়ে অনুসন্ধানে যাওয়া এক সাংবাদিকের ওপর হামলার চেষ্টার ঘটনাকে ঘিরে এলাকায় তীব্র উত্তেজনা বিরাজ করছে। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, আকন্দপাড়া এলাকায় ৪০০ মিটার সড়ক নির্মাণের জন্য ৩ লাখ ৫০ হাজার টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়। কিন্তু বরাদ্দের বিপরীতে এখন পর্যন্ত মাত্র প্রায় ১৫০ মিটার কাজ সম্পন্ন হয়েছে বলে অভিযোগ করেন এলাকাবাসী। তাদের অভিযোগ, নির্মাণকাজে নিম্নমানের (তৃতীয় নম্বর) ইট ব্যবহার করা হচ্ছে, যা সড়কের স্থায়িত্ব নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে।
অভিযোগের সত্যতা যাচাই করতে সাংবাদিক গোলজার রহমান সরেজমিনে ঘটনাস্থলে যান। এ সময় তিনি সড়ক নির্মাণকাজের বিষয়ে প্যানেল চেয়ারম্যান জাহাঙ্গীর আলমকে মোবাইল ফোনে অবহিত করেন। প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্য অনুযায়ী, মোটরসাইকেল থেকে নামার পর জাহাঙ্গীর আলমের হাতে একটি কাঠের বাটাম দেখা যায়। বাটাম হাতে নেওয়ার উদ্দেশ্য নিয়ে প্রশ্ন ওঠার পর একপর্যায়ে তিনি সেটি ফেলে দেন এবং পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ধস্তাধস্তির সৃষ্টি হয়।
পরবর্তীতে প্যানেল চেয়ারম্যান জাহাঙ্গীর আলম ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে সড়ক নির্মাণের বরাদ্দ ও ব্যয়ের হিসাব নিয়ে সাংবাদিকের সঙ্গে কথা বলেন। পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে উঠলে স্থানীয় গ্রামবাসী দ্রুত হস্তক্ষেপ করে তার হাত থেকে বাটামটি কেড়ে নেয়। এরপর প্যানেল চেয়ারম্যান ও এলাকাবাসীর মধ্যে ধাক্কাধাক্কি হয়, যা পুরো এলাকায় উত্তেজনা ছড়িয়ে দেয়। ঘটনা প্রসঙ্গে বিএনপি নেতা ওয়াদুদ বলেন, আমি ঘটনার সময় ঘটনাস্থলে উপস্থিত ছিলাম না, পরে ঘটনা শোনার পর সেখানে যাই। ইউনিয়নের উন্নয়ন কাজ হওয়াই আমাদের প্রত্যাশা। তবে এই রাস্তার কাজটি অবশ্যই মানসম্মতভাবে করতে হবে। টাকা বাঁচানোর চিন্তায় কাজের গুণগত মান নষ্ট করা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। তিনি আরও বলেন, আমার বিরুদ্ধে যারা চাঁদাবাজির অভিযোগ তুলছেন, তাদেরকে তথ্য-প্রমাণসহ কথা বলার আহ্বান জানাই। পাশাপাশি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এ বিষয়ে অপপ্রচার চালানো হচ্ছে বলেও তিনি দাবি করেন।
এ ঘটনায় এলাকাবাসীর মধ্যে তীব্র ক্ষোভ বিরাজ করছে। তারা সড়ক নির্মাণকাজের মান ও ব্যয়ের বিষয়ে দ্রুত নিরপেক্ষ তদন্ত, প্রকৃত ঘটনা উদ্ঘাটন এবং দোষীদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের জোর দাবি জানিয়েছেন।
সম্পাদক ও প্রকাশকঃ লুৎফর রহমান হীরা
হেড অফিসঃ ১/ জি,আদর্শ ছায়ানীড়, রিংরোড, শ্যামলী, আদাবর ঢাকা - ১২০৭।
স্বত্ব © ২০২৫ চলনবিলের সময়