শীতের আগমন ঘনিয়ে আসতেই পাবনার গ্রামীণ জনপদজুড়ে শুরু হয়েছে খেজুর রস সংগ্রহের প্রস্তুতি। গাছের ডালপালা পরিষ্কার করে ‘গাছ ঝোড়া’র কাজে এখন ব্যস্ত সময় পার করছেন গাছিরা। জেলার বিভিন্ন এলাকায় ঘুরে দেখা গেছে—খেজুর গাছের মাথায় উঠে ডাল ছাঁটাই, শাখা-প্রশাখা পরিষ্কার এবং রস সংগ্রহের উপযোগী করতে প্রস্তুত করছেন তারা।
সরেজমিনে জানা যায়, পাবনা সদর উপজেলার বাঙ্গাবাড়িয়া, গয়েশপুর, হেমায়েতপুর, দোগাছি ভাড়ারা, টেবুনিয়া, মালিগাছা ও মজিদপুর; আটঘরিয়ার রায়পুর-পাটস্বর ও সিংহড়িয়া; ঈশ্বরদীর সাঁড়া (লোকসেডো), মুলাডুলি, শেখপাড়া, আরাকান্দি ও এরশাদ মোড়; বেড়ার টাংবাড়ী, মাষ্টিয়া, দিঘলকান্দি, চাকলা ও বরশিলা; সাঁথিয়ার মরিচপুরান, গৌরীগ্রাম, কলাগাছি, হাপানিয়া, ধুলাউড়ি ও ক্ষেতুপাড়া; সুজানগরের হাসানপুর, খলিললপুর, সাগরকান্দী, বস্তাল, দুর্গাপুর, শান্তিপুর, ভায়না, তাতীবন্দ ও খা পাড়া; ফরিদপুরের পুঙ্গলী ও ডেমড়া; ভাঙ্গুড়ার পাড়-ভাঙ্গুড়া, খানমরিচ ও অষ্টমনিষা; এবং চাটমোহরের হিরপুর, ছাইখোলা, ডিবিগ্রাম, নিমাইচরা, হান্ডিয়াল ও পার্শ্বডাঙ্গা ইউনিয়নের বিভিন্ন গ্রামে খেজুর রস সংগ্রহের প্রস্তুতি চলছে জোরেশোরে।
জানা যায়, জেলার বিভিন্ন এলাকায় সংগৃহীত রসের ব্যবহারেও রয়েছে ভিন্নতা। ঈশ্বরদী, আটঘরিয়া ও চাটমোহর অঞ্চলে সংগৃহীত রস দিয়ে প্রধানত পাটারী ও ঝোলা গুড় তৈরি করা হয়। অন্যদিকে জেলার অধিকাংশ এলাকায় এই রস দিয়ে লালী গুড় উৎপাদন করা হয়। অনেক গাছি আবার সংগ্রহ করা রস সরাসরি খোলা বাজারেও বিক্রি করেন।
গাছিদের সাথে কথা বলে জানা যায়, রস সংগ্রহের জন্য প্রথমে গাছ পরিষ্কার করে নির্দিষ্ট স্থানে নলি লাগানো হয়। এরপর সেখানে মাটির হাড়ি বেঁধে রস সংগ্রহ শুরু করা হয়। পুরো প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে রস সংগ্রহ শুরু করতে সাধারণত ৭ থেকে ১০ দিন সময় লাগে।
সাঁথিয়া উপজেলার মরিচপুরান এলাকার গাছি রজব শেখ বলেন, এলাকায় এখন আর তেমন গাছ নেই। মোটে ১২-১৫টি গাছ আছে। এত কষ্ট করে রস সংগ্রহ করলেও আর আগের মতো সংসার চলে না।
সুজানগর উপজেলার খা পাড়া এলাকার আরেক গাছি জানান, শীতের শুরুতেই গাছ প্রস্তুত করি। একটি গাছের ডালপালা ছাঁটাই করতে কয়েকদিন সময় লাগে। সাধারণত মাটির হাড়িতে রস ধরা হয়—যার ধারণক্ষমতা ৮ থেকে ১০ লিটার। একটি গাছ থেকে দুই-তিন মাস রস পাওয়া যায়; গাছ ভেদে প্রতিদিন ৪ থেকে ১০ কেজি রস মেলে।
জেলার বিভিন্ন অঞ্চলের পাটারী গুড় উৎপাদনকারীদের বক্তব্য—সরকারি প্রশিক্ষণ ও প্রণোদনা পেলে গাছিদের সংগৃহীত রস থেকে আরও মানসম্মত পাটারী ও ঝোলা গুড় উৎপাদন করা সম্ভব। স্থানীয় বাজার ছাড়াও দেশের বিভিন্ন স্থানে তা সরবরাহ করা যেতে পারে।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে পাবনা জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের অতিরিক্ত উপপরিচালক (শস্য) রাফিউল ইসলাম বলেন,জেলার বিভিন্ন এলাকায় তাল ও খেজুর গাছের চারা রোপণে আমরা কাজ করছি। এতে ভবিষ্যতে খেজুর রস উৎপাদন বাড়বে। তবে গুড় উৎপাদনকারীদের জন্য বর্তমানে কোনো সরকারি প্রণোদনা নেই।
সম্পাদক ও প্রকাশকঃ লুৎফর রহমান হীরা
হেড অফিসঃ ১/ জি,আদর্শ ছায়ানীড়, রিংরোড, শ্যামলী, আদাবর ঢাকা - ১২০৭।
স্বত্ব © ২০২৫ চলনবিলের সময়