শৈলকুপায় ৯৫ প্রাথমিক বিদ্যালয়ে নেই প্রধান শিক্ষক

: শৈলকুপা (ঝিনাইদহ) প্রতিনিধি
প্রকাশ: 4 hours ago

4

ঝিনাইদহের শৈলকুপা উপজেলায় প্রাথমিক শিক্ষাব্যবস্থায় চরম সংকট দেখা দিয়েছে। উপজেলার ১৮২টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের মধ্যে বর্তমানে মাত্র ৮৭টিতে প্রধান শিক্ষক রয়েছেন। বাকি ৯৫টি বিদ্যালয়ে প্রধান শিক্ষকের পদ দীর্ঘদিন ধরে শূন্য রয়েছে।

ফলে এসব বিদ্যালয়ে ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষকদের দিয়ে শিক্ষা কার্যক্রম চালানো হচ্ছে, যা নিয়ে শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের মধ্যে উদ্বেগ বাড়ছে।

উপজেলা শিক্ষা অফিস সূত্রে জানা গেছে, দীর্ঘদিন ধরে প্রধান শিক্ষক নিয়োগ না হওয়ায় এই সংকট তৈরি হয়েছে। ভারপ্রাপ্ত দায়িত্ব দিয়ে কোনোভাবে কার্যক্রম চালানো হলেও এতে কাঙ্ক্ষিত শিক্ষার পরিবেশ নিশ্চিত করা কঠিন হয়ে পড়ছে।

উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা বিশ্বজিৎ সাহা বলেন, ‘প্রধান শিক্ষক থাকা অত্যন্ত জরুরি, এর কোনো বিকল্প নেই। আমরা সাময়িকভাবে কিছু শিক্ষককে ভারপ্রাপ্ত দায়িত্ব দিয়েছি। তবে বিষয়টি নিয়ে মামলা চলমান থাকায় স্থায়ী সমাধান সম্ভব হচ্ছে না। মামলা নিষ্পত্তি হলে আশা করি সমস্যার সমাধান হবে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক শিক্ষক জানান, প্রধান শিক্ষক নিয়োগে অতিরিক্ত ব্যয় বাড়বে— এমন ধারণার কারণেই বিষয়টি দীর্ঘসূত্রতায় পড়েছে। তবে বাস্তবে তারা নিজেদের উদ্যোগেই পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার চেষ্টা করছেন।

অন্যদিকে, একাধিক শিক্ষকের অভিযোগ— অনেক ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক স্থায়ী দায়িত্বপ্রাপ্তদের মতো আচরণ করছেন। শিক্ষা অফিসে সভা বা প্রশাসনিক কাজে অংশ নিতে গিয়ে তারা দিনের বেশিরভাগ সময় বিদ্যালয়ের বাইরে থাকেন, ফলে ওই দিনগুলোতে তাদের নির্ধারিত ক্লাস বন্ধ থাকে।

এক শিক্ষক বলেন, ‘প্রায় প্রতি সপ্তাহেই কয়েক দিন ক্লাস বন্ধ থাকে। এতে শিক্ষার্থীরা নিয়মিত পাঠদান থেকে বঞ্চিত হচ্ছে।’

অভিভাবকরাও অভিযোগ করছেন, বিদ্যালয়ে নিয়মিত তদারকির অভাবে শিক্ষার পরিবেশ নষ্ট হচ্ছে এবং শিক্ষার মান নিয়ে প্রশ্ন তৈরি হয়েছে।

এদিকে ‎শৈলকুপা উপজেলার প্রাথমিক শিক্ষা ব্যবস্থায় প্রধান শিক্ষক সংকট দীর্ঘদিনের একটি গুরুতর সমস্যা হয়ে দাঁড়িয়েছে। ভারপ্রাপ্ত শিক্ষক দিয়ে সাময়িকভাবে কার্যক্রম চালানো সম্ভব হলেও এতে শিক্ষার গুণগত মান নিশ্চিত করা যাচ্ছে না।

নিয়মিত তদারকির অভাব, ক্লাস বন্ধ থাকা এবং প্রশাসনিক ব্যস্ততায় শিক্ষকদের অনুপস্থিতি— সব মিলিয়ে শিক্ষার্থীরা ক্ষতির মুখে পড়ছে। দ্রুত প্রধান শিক্ষক নিয়োগের মাধ্যমে এই সংকট নিরসন করা এখন সময়ের দাবি।