সংরক্ষিত নারী আসনে আলোচনায় ছাত্রদল নেত্রী শিরিন

: চলনবিলের সময় ডেস্ক
প্রকাশ: 1 day ago

15

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য নির্বাচনকে ঘিরে রাজনৈতিক অঙ্গনে শুরু হয়েছে আলোচনা। বিএনপির সম্ভাব্য প্রার্থীদের তালিকা নিয়েও দলীয় পর্যায়ে নানা আলোচনা চলছে। দলীয় সূত্র বলছে, দীর্ঘদিন রাজপথের রাজনীতিতে সক্রিয়, ত্যাগী ও নির্যাতিত নেত্রীদের এ ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার দেওয়া হবে।

এ দৌড়ে সাংগঠনিক দক্ষতা ও রাজপথের সক্রিয়তার কারণে সম্ভাব্য প্রার্থী হিসেবে আলোচনায় উঠে এসেছে ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় নেত্রী রেহানা আক্তার শিরিনের নাম।

রেহানা আক্তার শিরিন বর্তমানে ইডেন মহিলা কলেজ ছাত্রদলের আহ্বায়ক এবং ছাত্রদল কেন্দ্রীয় সংসদের সহ-সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। এর আগে তিনি ছাত্রদল কেন্দ্রীয় সংসদের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ছিলেন।

নারায়ণগঞ্জ জেলার আড়াইহাজার উপজেলায় রাজনৈতিকভাবে পরিচিত একটি পরিবারে তার জন্ম। তার বাবা মরহুম হাজী বোরহান উদ্দীন আড়াইহাজার থানা বিএনপির সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক এবং মৃত্যুর আগ পর্যন্ত দলীয় রাজনীতির সঙ্গে সক্রিয়ভাবে যুক্ত ছিলেন। পারিবারিকভাবে রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত থাকার কারণে ছোটবেলা থেকেই রাজনীতির প্রতি আগ্রহী হয়ে ওঠেন রেহানা আক্তার শিরিন। পাঁচ ভাই-বোনের মধ্যে তিনি একমাত্র বোন। তার পরিবারের অন্য সদস্যরাও বিএনপি এবং এর অঙ্গসংগঠনের রাজনীতিতে সক্রিয়।

বড় ভাই শেখ ফরিদ বিশনন্দী ইউনিয়ন বিএনপির সহ-সভাপতি। মেজ ভাই খাজা মঈনুদ্দীন আড়াইহাজার থানা বিএনপির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ও বিশনন্দী ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক। তিনি ২০১৬ সালে ধানের শীষ প্রতীকে ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান পদে নির্বাচনও করেছিলেন। সেজ ভাই শাহজালাল বিশনন্দী ইউনিয়ন স্বেচ্ছাসেবক দলের সহ-সভাপতি এবং ছোট ভাই শাহপরান আড়াইহাজার থানা যুবদলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক।

২০০৭-’০৮ সালে ইডেন মহিলা কলেজে ভর্তি হওয়ার পর থেকেই রেহানা আক্তার শিরিন ছাত্ররাজনীতিতে সক্রিয়ভাবে যুক্ত হন। বিএনপির বিভিন্ন আন্দোলন-সংগ্রাম ও কর্মসূচিতে তিনি রাজপথে সক্রিয় ভূমিকা পালন করে আসছেন।

দলীয় আন্দোলন-সংগ্রামের কর্মসূচিতে অংশ নিতে গিয়ে তিনি একাধিকবার হামলা, মামলা ও নির্যাতনের শিকার হন। এমনকি তাকে কারাবরণও করতে হয়েছে বলে দলীয় সূত্রে জানা গেছে।

২০১৮ সালের ৮ ফেব্রুয়ারি সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার মামলার রায়ের দিন ১৪৪ ধারা ভঙ্গ করে আন্দোলনে অংশগ্রহণ করেন তিনি। ২০২১ সালের ১ মার্চ জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে পুলিশের হামলায় গুরুতর আহত হয়ে দীর্ঘদিন চিকিৎসাধীন ছিলেন। ২০২২ সালের ২৪ মে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে খালেদা জিয়াকে কটূক্তির প্রতিবাদে ছাত্রদলের বিক্ষোভ কর্মসূচিতে অংশ নিতে গিয়ে ছাত্রলীগের হামলার শিকার হন শিরিন। ওই ঘটনায় তিনি গুরুতর আহত হন।

এ ছাড়া ২০২৩ সালের ২৮ অক্টোবরের পর দলীয় আন্দোলন-সংগ্রামের কর্মসূচিতে সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণ করেন তিনি। ২০২৪ সালের গণআন্দোলনেও শিক্ষার্থী ও সাধারণ মানুষের সঙ্গে রাজপথে সক্রিয় ভূমিকা পালন করেন রেহানা আক্তার শিরিন।