
টাঙ্গাইলের সখিপুর উপজেলার সখিপুর পৌরসভাটি কাগজ-কলমে প্রথম শ্রেণির পৌরসভা হলেও ইহা মূলত: নিম্নমানের একটি পৌরসভা। এখানে ১৯৭৯ সালের পৌর আইন একেবারেই অকার্যকর। যেখানে ৮০% বাসিন্দা থাকবে অকৃষি এবং রাস্তা-ঘাট, বিদ্যুৎ, গ্যাস সবকিছু পাওয়ার কথা। কিন্তু বাস্তবে এর কিছুই পৌরবাসী পাচ্ছেন না। বিশেষ করে পৌরসভার ৯টি ওয়ার্ডের মধ্যে ৬ নং ওয়ার্ডটি সবচেয়ে বড় এবং জনসংখ্যাও বেশি। এ ওয়ার্ডের রাস্তা-ঘাটে ঘুরলে বুঝার কোন উপায় থাকে না যে এটি পৌরসভা নাকি অজপাড়া গাঁয়ের কোন মেঠো পথ? সাংবাদিক আবুল কাশেমের বাড়ি থেকে মুক্তিযোদ্ধা গুর্খা মোতালেবের গভীর নলকূপ পর্যন্ত মাত্র ২ কিলোমিটার রাস্তাটি রিক্শা-ভ্যানতো দূরের কথা, পায়ে হেঁটে চলাও দুঃসাধ্য। এ রাস্তাটি পাকা না হওয়াতে ৪ কিলোমিটার রাস্তা ঘুরে সখিপুর বাজারে যেতে হয়। এ রাস্তাটি মূলত: অত্র ওয়ার্ডের মধ্যস্থলে অবস্থিত হওয়াতে এবং ইহা পাকা না হওয়াতে ওয়ার্ডের পূর্ব ও পশ্চিমাঞ্চলে যোগাযোগ বিঘ্নিত হচ্ছে। তাই জনদুর্ভোগ চরমে। এ রাস্তাটি সামান্য কিছু ইটের সলিং থাকলেও অধিকাংশ কাঁচা মেঠো পথ। ঊর্দ্ধতন কর্তৃপক্ষকে ফাঁকি দিতে রাস্তার দুই পাশে ভাঙ্গাচোরা ইটের সলিং দিলেও মাঝখানে পুরোটাই কাঁচা। বিগত ২০০০ সালের ২৬ অক্টোবর প্রতিষ্ঠিত অত্র পৌরসভাটিতে উন্নয়নের উল্লেখযোগ্য কোন ছোঁয়া এখন পর্যন্ত এখানে লাগেনি। বিশেষ করে অবহেলিত ৬নং ওয়ার্ডে। এ পৌরসভায় বিগত ২০২৪-২৫ অর্থ বছরে ২৫ কোটি টাকার অধিক পরিমাণ বাজেট ঘোষণা করা হলেও এর সামান্যই উন্নয়ন কাজে ব্যয় করা হয়েছে। এই পৌরসভা প্রতিষ্ঠার শুরুতেই নিয়োগকৃত কর্মকর্তা, কর্মচারীগণ আত্মীয়তার তথা স্বজনপ্রীতির যোগ্যতায় নিয়োজিত হয়েছে। ফলে তারা জনগণের সেবার চেয়ে নিজের আখের ঘুচানোই বেশি অগ্রাধিকার দিয়েছে। যুগ যুগ ধরে তারা বহাল তবিয়তে থাকায় সেবার মান খুবই নিম্নমানের। এ পৌরসভায় একটি জন্মনিবন্ধন করতে গিয়ে জনৈক মহিলা বলেছিলেন, “সন্তান জন্ম দেওয়ার চেয়ে সন্তানের জন্মনিবন্ধন করা অনেক কষ্টকর”। এ পৌরসভার জনগণ পৌরসভার ফলভোগের চেয়ে ‘কর’ এর ভারবাহী হয়েছে বেশি। পৌরবাসী যথাযথ কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষন করছে।