সঙ্ঘবদ্ধ ধর্ষণ, মাস পেরোলেই গ্রেপ্তার নেই

: চট্টগ্রাম জেলা প্রতিনিধি
প্রকাশ: 8 hours ago

29

চট্টগ্রামের আনোয়ারায় তৃতীয় শ্রেণির মাদ্রাসা শিক্ষার্থী সঙ্ঘবদ্ধ ধর্ষণের ঘটনার এক মাস পেরিয়ে গেলেও প্রধান চার অভিযুক্তের কাউকেই গ্রেপ্তার করতে পারেনি পুলিশ। উল্টো মামলার বাদী ও ভুক্তভোগীর পরিবারকে সামাজিকভাবে সমঝতার প্রস্তাব দিয়েছে বলে জানান ক্ষতিগ্রস্থ পরিবার।

মামলার আসামিরা অধরা, হুমকি ও সমঝোতার প্রস্তাব নিয়ে ভুক্তভোগী পরিবারটি চরম নিরাপত্তাহীনতায় দিন কাটাচ্ছে। তবে হুমকি এবং সমঝতার বিষয়ে ভুক্তভোগী পরিবার কিছু জানায়নি বলে জানান থানার ওসি জুনায়েত চৌধুরী।

মামলার এজাহার থেকে জানা যায়, ২৭ এপ্রিল রাত আনুমানিক ১০টার দিকে ভুক্তভোগী তার খালার বাড়ি থেকে খালাত বোনের বাসায় যাওয়ার পথে তাকে তুলে নিয়ে ভোর পাঁচটা পর্যন্ত আটকে রেখে তাকে একাধিকবার ধর্ষণ করা হয়।

পরে ভুক্তভোগীর মা বাদী হয়ে ঘটনার সঙ্গে জড়িত দোকানি আবু তাহের (৪২), তার সহকর্মী স্থানীয় রবিউল হোসেন (২৪), মো. ফারুক (২৩) এবং আনোয়ার হোসাইনকে (২২) অভিযুক্ত করে আনোয়ারা থানায় একটি ধর্ষণ মামলা দায়ের করেন। এ ঘটনায় স্থানীয়রা এবং স্কুল ও মাদ্রাসার শিক্ষার্থীরা মানববন্ধন ও প্রতিবাদ সভা করেন।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক স্থানীয় এক বাসিন্দা বলেন আবু তাহেরের এই দোকানে ২০১৬ সাল থেকেই এসব ঘটনা ঘটে আসছে, রাতে অপরিচিত নারী নিয়ে আসে তারা। এখন আবু তাহেরের বড় ভাই দক্ষিণ জেলা জিয়া স্মৃতি সংসদের সদস্য সচিব হওয়ায় আরও বেপরোয়া হয়ে পড়েছে। দোকানের ভেতর আবু তাহেরের অন্দরমহল রয়েছে।

স্থানীয় বাসিন্দা মাওলানা এনামুল হক বলেন, সমাজে এসব ব্যাভিচারের সঠিক শাস্তি না হলে অপরাধ বেড়ে যাবে। বিচার না হওয়ায় সারা দেশে একের পর এক ধর্ষণের ঘটনা ঘটছে। ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের দ্রুত গ্রেপ্তার করে আইনের আওতায় আনার দাবি জানাচ্ছি।

স্থানীয় ইউপি সদস্য মো তৌহিদুল আলম বলেন, বিষয়টি নিয়ে এলাকায় এখনো উত্তেজনা বিরাজ করছে। অপরাধী যেই হোক তাকে গ্রেপ্তার করে আইনের আওতায় আনা দরকার।

কিশোরীর মাদ্রাসার অধ্যক্ষ সোলেমান আলকাদেরী বলেন, একটি শিশুর জীবন যে ধ্বংস করল অথচ সেই ব্যক্তি এখনো অধরা রয়ে গেল বিষয়টি ভাবতেও অবাক লাগছে।

ভুক্তভোগী কিশোরীর মা বলেন, মামলার পর থেকে আমাকে আসামির লোকজন বিভিন্নভাবে হুমকি দিচ্ছে। আমার মেয়ে এতিম, আমাকে দেখার কোনো লোক নেই। তাদের হুমকিতে এখন আমরা আতঙ্কে আছি।

তিনি আরও জানান, আসামিরা লোকজন পাঠিয়ে সামাজিকভাবে সমঝতার প্রস্তাবও দিয়েছে। কিন্তু আমি আমার মেয়ের জীবন ধ্বংসকারীদের ফাঁসি চাই। সঠিক বিচার চাই।

এ বিষয়ে আনোয়ারা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. জুনায়েত চৌধুরী বলেন, মামলার পর থেকে আসামিদের ধরতে পুলিশ কাজ করছে। বিভিন্ন স্থানে অভিযান, মোবাইল ট্র্যাকিংসহ নানাভাবে চেষ্টা চলছে। এসব ঘটনায় জড়িতদের কোনো ছাড় দেওয়া হবেনা।