
সুপার ফুড হিসেবে পরিচিত সজিনা চাষ সম্প্রসারণে বিশেষ উদ্বুদ্ধকরণ কর্মসূচির আওতায় ঠাকুরগাঁওয়ের রাণীশংকৈল উপজেলায় ব্যাপক চারা ও কাটিং রোপণ কার্যক্রমের শুভ উদ্বোধন করা হয়েছে। বসতবাড়ি, বিভিন্ন সরকারি-বেসরকারি অফিস, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান প্রাঙ্গণ এবং সড়কের দু’ধারে এই কার্যক্রম বাস্তবায়ন করা হচ্ছে, যা পরিবেশ সংরক্ষণ, পুষ্টি নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ এবং গ্রামীণ অর্থনীতিকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন।
বৃহস্পতিবার (৩০ এপ্রিল) দুপুরে পৌর শহরের ঐতিহাসিক খুনিয়া দিঘি সড়কের ভান্ডারা এলাকায় উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ শহিদুল ইসলামের সভাপতিত্বে কর্মসূচির উদ্বোধন অনুষ্ঠিত হয়।
এতে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে উদ্বোধন করেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মিজ খাদিজা বেগম।
উপজেলা কৃষি অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, রাণীশংকৈল উপজেলার ৮ ইউনিয়ন ও ১ পৌরসভায় বর্তমানে প্রায় ২৫ হাজার সজিনা গাছ রয়েছে। প্রায় প্রতিটি বাড়িতেই ১-২টি করে গাছ রয়েছে, যা খুব বেশি পরিচর্যা ছাড়াই বেড়ে উঠছে এবং ভালো ফলন দিচ্ছে। প্রতিবছর সজিনার ডাল রোপণ করা হলেও প্রায় ৩০ শতাংশ ডাল নষ্ট হয়ে যায়।
এ উপজেলায় মূলত দুটি জাতের সজিনা চাষ হয়—সিজনাল ও বারোমাসি। জানুয়ারির শেষ দিক থেকে সজিনার ফুল আসা শুরু করে এবং বারোমাসি গাছে বছরে কয়েকবার ফুল ফোটে। একটি থোকায় সর্বোচ্চ ১৫০টি পর্যন্ত ফুল ধরে, যার দৈর্ঘ্য ৪০ থেকে ৮০ সেন্টিমিটার পর্যন্ত হতে পারে। ফুল ফোটার প্রায় দুই মাস পর ফল সংগ্রহ করা যায়। একটি পরিপক্ব গাছে বছরে ৪০০ থেকে ৫০০টি পর্যন্ত ফল ধরে এবং প্রতিটি ফলে ৩০-৪০টি বীজ থাকে।
গত বছর উপজেলায় প্রায় ৫ হাজার সজিনার ডাল রোপণ করা হয়েছে। এ এলাকার প্রায় সব ধরনের মাটিতেই সজিনা চাষ সফল হচ্ছে। পুষ্টিগুণ ও ভেষজ গুণে ভরপুর হওয়ায় বাজারের ব্যাপক চাহিদা রয়েছে এবং উচ্চমূল্যে বিক্রি হওয়ায় কৃষকরা পতিত জমিতেও বাণিজ্যিকভাবে সজিনা চাষে আগ্রহী হচ্ছেন।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন অতিরিক্ত কৃষি কর্মকর্তা শফিউল হাসান, উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা আনোয়ার হোসেন, আবুল কালামসহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা।
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা শহিদুল ইসলাম জানান, সজিনা গাছ ডাল কাটিং পদ্ধতিতে সহজেই উৎপাদনযোগ্য হওয়ায় এটি দ্রুত সম্প্রসারণ করা সম্ভব। এর পাতা, ফুল, ফল ও ডাঁটা অত্যন্ত পুষ্টিকর হওয়ায় মানুষের খাদ্য চাহিদা পূরণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। চলতি বছরে পুরো উপজেলায় প্রায় ১০ হাজার সজিনা চারা রোপণের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা খাদিজা বেগম বলেন, সজিনা একটি পুষ্টিসমৃদ্ধ ও বহুমুখী উপকারী গাছ। এর সহজ চাষাবাদ এবং দ্রুত বৃদ্ধি গ্রামীণ জনগোষ্ঠীর জন্য নতুন আয়ের সুযোগ তৈরি করতে পারে। তিনি সবাইকে নিজ নিজ আঙিনায় ও অফিস, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে অন্তত ১-২টি সজিনা গাছ রোপণের আহ্বান জানান।