
মার্কিন সাবেক প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানকে বিশ্বের সবচেয়ে বড় সন্ত্রাসের পৃষ্ঠপোষক বলে আখ্যা দেওয়ার পর এ নিয়ে প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান। তিনি দাবি করেছেন, ইরান বরং দীর্ঘদিন ধরেই সন্ত্রাসবাদের শিকার। খবর আল জাজিরার।
এক প্রাদেশিক সফরে কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠকে পেজেশকিয়ান বলেন, ১৯৭৯ সালের ইসলামি বিপ্লবের পর থেকে বহু ইরানি কর্মকর্তা ও বিশেষজ্ঞ সন্ত্রাসী হামলায় নিহত হয়েছেন। তার ভাষ্য, শত্রুপক্ষের লক্ষ্য ছিল দেশকে দক্ষ ও সক্ষম মানবসম্পদ থেকে বঞ্চিত করা এবং সরকারকে অদক্ষ প্রমাণ করা।
তিনি আরও বলেন, বাস্তবতা নিরপেক্ষভাবে দেখা হলে স্পষ্ট হবে যে ইরান সন্ত্রাসের পৃষ্ঠপোষক নয়; বরং অঞ্চল ও বিশ্বজুড়ে সন্ত্রাসের অন্যতম প্রধান ভুক্তভোগী।
উল্লেখ্য, যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরেই সন্ত্রাসবাদ ইস্যুতে পারস্পরিক অভিযোগ-পাল্টা অভিযোগ চলছে। সাম্প্রতিক মন্তব্যকে ঘিরে দুই দেশের মধ্যে কূটনৈতিক উত্তেজনা আরও বাড়তে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
এদিকে পারমাণবিক চুক্তি নিয়ে উত্তেজনা বাড়তে থাকায় আজ সুইজারল্যান্ডের জেনেভায় তৃতীয় দফা পরোক্ষ আলোচনায় বসতে যাচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প হুঁশিয়ারি দিয়েছেন, সমঝোতা না হলে ইরানের ওপর হামলার পথও বিবেচনায় রয়েছে।
বৃহস্পতিবার (২৬ ফেব্রুয়ারি) বার্তাসংস্থা রয়টার্সের এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
২০০৩ সালে ইরাকে যুক্তরাষ্ট্রের নেতৃত্বাধীন হামলার পর মধ্যপ্রাচ্যে সবচেয়ে বড় মার্কিন সামরিক সমাবেশের প্রস্তুতির মধ্যে এ আলোচনা বসতে যাচ্ছে। ইরানও জানিয়েছে, হামলা হলে তারা জোরালো জবাব দেবে।
রয়টার্স জানিয়েছে, ট্রাম্প একদিকে কূটনৈতিক সমাধানের কথা বললেও অন্যদিকে ইরানকে চাপ দিতে সীমিত হামলার কথাও বিবেচনা করছেন বলে জানিয়েছেন। তবে তিনি আলোচনায় ঠিক কী দাবি তুলছেন এবং কেন এখন সামরিক পদক্ষেপের প্রয়োজন হতে পারে তা স্পষ্ট করেননি।