সব মার্কিন যুদ্ধজাহাজ ডুবিয়ে দেওয়ার হুঁশিয়ারি ইরানের

: চলনবিলের সময় ডেস্ক
প্রকাশ: 3 hours ago

12

ইরানের শীর্ষ সামরিক উপদেষ্টা মোহসেন রেজায়ি বলেছেন, আমাদের সশস্ত্র বাহিনীর ক্ষেপণাস্ত্র লঞ্চারগুলো মার্কিন যুদ্ধজাহাজ লক্ষ্য করে প্রস্তুত রয়েছে এবং প্রয়োজন হলে সেগুলো ডুবিয়ে দেওয়া হবে। বুধবার (১৫ এপ্রিল) এক টেলিভিশন সাক্ষাৎকারে তিনি এই মন্তব্য করেন। খবর প্রেস টিভির।

রেজায়ি বলেন, শত্রুদের ওপর আরও চাপ সৃষ্টি করতে হবে। আমাদের লঞ্চারগুলো এখন মার্কিন যুদ্ধজাহাজ লক্ষ্য করে স্থাপন করা হয়েছে এবং আমরা সেগুলো ডুবিয়ে দেব।

ইরানের বিরুদ্ধে মার্কিন নৌ অবরোধ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, এই পরিকল্পনা অবশ্যই ব্যর্থ হবে। যেভাবে যুক্তরাষ্ট্র হরমুজ প্রণালিতে প্রবেশের চেষ্টায় ঐতিহাসিক পরাজয়ের মুখে পড়েছিল, ঠিক তেমনি এই নৌ অবরোধও ব্যর্থ হতে বাধ্য।।

রেজায়ি আরও বলেন, ইরানের সশস্ত্র বাহিনী কখনোই যুক্তরাষ্ট্রকে এই অবরোধ কার্যকর করতে দেবে না এবং এর বিরুদ্ধে তাদের কাছে গুরুত্বপূর্ণ অপ্রয়োগকৃত সক্ষমতা রয়েছে।

তিনি দাবি করেন, ফেব্রুয়ারির শেষ দিকে ইসরায়েলি শাসনের সঙ্গে যৌথভাবে ইরানের বিরুদ্ধে যে যুদ্ধ যুক্তরাষ্ট্র শুরু করেছিল, সেটি শেষ করার কোনো পরিকল্পনা তাদের নেই।

তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্র তাদের সর্বশেষ পরিকল্পনায় ইসফাহানে প্যারাট্রুপার নামিয়ে আমাদের ইউরেনিয়াম দখল করে নিজেদের জন্য একটি সাফল্যের গল্প তৈরি করতে চেয়েছিল। কিন্তু তাতে তারা সফল হয়নি।

সাক্ষাৎকারের একপর্যায়ে রেজায়ি বলেন, যুদ্ধবিরতি দীর্ঘায়িত করা ইরানের স্বার্থে নয়। শুধুমাত্র তখনই যুদ্ধবিরতির অর্থবহতা থাকবে, যখন সব চুক্তি বাস্তবায়িত হবে এবং আমাদের অধিকার নিশ্চিত করে একটি প্রস্তাব জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদে উপস্থাপন করা হবে।

তিনি আরও বলেন, অন্যান্য দেশের প্রতি নৈতিক ও মানবিক বিবেচনা থেকেই ইরান অস্থায়ী যুদ্ধবিরতিতে সম্মত হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে ভবিষ্যতে আবারও আলোচনা হতে পারে এমন সম্ভাবনার কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, যে কোনো আলোচনার ক্ষেত্রে খুঁটিনাটি বিষয়ে অত্যন্ত সতর্ক থাকতে হবে। আমাদের প্রতিটি শব্দের ব্যাপারে সংবেদনশীল থাকতে হবে।

তার মতে, হয় যুক্তরাষ্ট্র থেমে গিয়ে ইরানের দেওয়া দশটি শর্ত মেনে নেবে অথবা তারা যুদ্ধে জয়ের জন্য মরিয়া হয়ে চেষ্টা চালিয়ে যাবে।

উল্লেখ্য, গত সপ্তাহে পাকিস্তানের রাজধানী ইসলামাবাদে ইরানি ও মার্কিন প্রতিনিধিদের মধ্যে প্রায় ২১ ঘণ্টা ধরে আলোচনা হলেও কোনো চুক্তি হয়নি। যুক্তরাষ্ট্রের অতিরিক্ত দাবির কারণেই আলোচনা ব্যর্থ হয়েছে বলে দাবি করেছে ইরান। আলোচনায় বিভিন্ন প্রস্তাব উপস্থাপন করলেও মার্কিন পক্ষ অগ্রগতি বাধাগ্রস্ত করেছে বলে অভিযোগ করে তারা।