
সমুদ্রের গর্জনের মুখে লড়াই করে জীবিকা নির্বাহ করেন পটুয়াখালীর রাঙ্গাবালীর জেলেরা। প্রাকৃতিক দুর্যোগ, হঠাৎ দুর্ঘটনা, প্রতিকূল আবহাওয়া – এসব ঝুঁকির মুখোমুখি হয়ে প্রতিদিন তারা সমুদ্রে ঝাঁপ দেন। কিন্তু আজ থেকে তাদের যাত্রা হবে আরও নিরাপদ। বৃহস্পতিবার দুপুরে উপজেলার ছোটবাইশদিয়া ইউনিয়নের চতলাখালী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রাঙ্গণে এক আনন্দময় অনুষ্ঠানে ৭৩টি সমুদ্রগামী ট্রলারের প্রায় ৭৫০ মৎস্যজীবীকে তুলে দেওয়া হয়েছে ১২ ধরনের উন্নত নিরাপত্তা সরঞ্জাম।
সরঞ্জামের তালিকাঃ প্রতিটি ট্রলারে দেওয়া হয়েছে লাইফ জ্যাকেট, লাইফ বয়া, সিগন্যাল লাইট, ফ্ল্যাশ লাইট, পাওয়ার ব্যাংক, রেইন কোট, গামবুট, প্রাথমিক চিকিৎসা বাক্সসহ প্রয়োজনীয় ওষুধ, হ্যান্ড গ্লাভস, ইঞ্জিন মেরামতের যন্ত্রপাতি এবং ১২০ লিটার ধারণক্ষমতার ময়লা সংরক্ষণ পাত্র। এসব সরঞ্জাম বিতরণের আগে জেলেদের বিস্তারিত প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছে, যাতে তারা সঠিকভাবে ব্যবহার করতে পারেন এবং জরুরি পরিস্থিতিতে জীবন বাঁচাতে পারেন।এই উদ্যোগ বাস্তবায়িত হয়েছে বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা উত্তরণের ফিসনেট প্রকল্পের আওতায়। ওশান গ্রান্টস প্রোগ্রাম এবং ইউকে ইন্টারন্যাশনাল ডেভেলপমেন্টের সহযোগিতায় এটি সম্ভব হয়েছে। ফিসনেট প্রকল্পটি উপকূলীয় মৎস্যজীবীদের জীবনমান উন্নয়ন এবং সামুদ্রিক পরিবেশ সংরক্ষণে কাজ করে আসছে।অনুষ্ঠানে উপস্থিত একজন জেলে বললেন, “এবার সমুদ্রে যাওয়া সহজ হবে। লাইফ জ্যাকেট আর চিকিৎসা বাক্স পেয়ে মনেমশান্তি পেলাম। ধন্যবাদ উত্তরণকে!” অন্য একজন জেলে বলেন প্রতিকূল আবহাওয়ায় এসব সরঞ্জাম আমাদের জীবন রক্ষা করবে।”
প্রকল্পের আঞ্চলিক ব্যবস্থাপক অনিমেষ পাল বলছেন, “উপকূলীয় অঞ্চলের মৎস্যজীবীরা প্রতিনিয়ত ঝড়-বৃষ্টি আর দুর্ঘটনার সঙ্গে লড়াই করেন। এই সরঞ্জামগুলো নিরাপদ মৎস্য আহরণে সচেতনতা বাড়াবে এবং দুর্ঘটনার ঝুঁকি অনেক কমাবে। ভবিষ্যতে জীবনমান উন্নয়ন, সামুদ্রিক জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ এবং আরও উন্নয়নমূলক কাজ চালিয়ে যাব।”এই উদ্যোগ শুধু জেলেদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করছে না, সামুদ্রিক পরিবেশ রক্ষাতেও সাহায্য করবে। রাঙ্গাবালীর জেলেরা এখন আরও আত্মবিশ্বাসী হয়ে সমুদ্র জয় করবেন।