সরকারি ছুটির শেষ দিন সোমবার পার হলেও কক্সবাজারে যেন উৎসব চলছে। ঈদ উপলক্ষে ছোট এই শহর জনসমুদ্রে পরিণত হয়েছে। গত তিন দিন থেকে কোথাও তিল ধারণের জায়গা নেই। কক্সবাজারের পর্যটনস্পটসমূহে মানুষের জনসমুদ্র। ঈদের ছুটিতে আবালবৃদ্ধবণিতার বাঁধভাঙা সমাগমে সমুদ্র শহর যেন উৎসবের জনসমুদ্রে পরিণত হয়েছে। ঈদের ৪র্থ দিনেও সৈকতের সবকটি পয়েন্টে মানুষের ভিড়ে লোকারণ্য বিশাল বালিয়াড়ি।
এবারের ঈদে টানা ১ সপ্তাহের ছুটি। ফলে ঈদ উৎসবের সব পথ যেন মিশে একাকার হয়েছে কক্সবাজার সৈকতে। প্রিয়জনের সাথে, প্রিয় কিছু মুহূর্ত কাটাতে দেশের নানা প্রান্তের মানুষ ছুটে এসেছেন সৈকত শহরে।
মঙ্গলবার ( ২৪ মার্চ) সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত কক্সবাজারের পর্যটন স্পট লাবনী, সুগন্ধা, কলাতলি, হিমছড়ি, ইনানী, পাটোয়ার টেক পয়েন্ট ঘুরে দেখা যায়, শুধু মানুষ আর মানুষ। কেউ বালিয়াড়িতে দলবেঁধে হৈ- হুল্লোড়ে মত্ত, আবার কেউ চৈত্রের ভর দুপুরে সাগরের তিক্ত নোনাজলে উর্মি তরঙ্গে গা ভেজাচ্ছেন। অনেকেই ছবি তুলে স্মৃতির আলপনা আঁকছেন। আয়েশি পর্যটকরা আবার ঘোড়ায় চড়ে রাজার ভাব নেওয়ার চেষ্টা করছেন।
অতিরিক্ত পর্যটকের আগমনে অসাধু ব্যবসায়ীরা ৫০ টাকার ঘোড়ার বাহনের মূল্য ১০০ টাকায় বর্ধিত করেছেন। তাছাড়া হোটেল- রেস্তোরাঁ, অভ্যন্তরীণ পরিবহনে পর্যটকদের বাড়তি টাকা গুণতে হচ্ছে। অনেকটা অর্থনীতির চাহিদা সূচকের মতোই সব কিছুতেই অতিরিক্ত গুণতে হচ্ছে পর্যটকদের।
সাগর- সৈকতের সৌন্দর্য উপভোগ ছাড়াও পর্যটকরা ভিড় করছেন রামুর বৌদ্ধ প্যাগোডায়, মহেশখালীর আদিনাথ মন্দির, সোনাদিয়া দ্বীপ, কুতুবদিয়ার বাতিঘর, শহরের বার্মিজ মার্কেট, শুঁটকি বিতানসমূহে।
ইতোমধ্যে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদের নির্দেশে দীর্ঘ ২০ বছর ধরে বালিয়াড়ি দখল করে টু-পাইস কামানো অবৈধ দখলদারদের ঝুপড়ি দোকান গুলো উচ্ছেদ করা হয়েছে। ফলে পরিচ্ছন্ন সৈকতে পর্যটকরা মনের আনন্দে ঘুরে বেড়াচ্ছেন।
ঢাকার সাভার থেকে স্ব-পরিবারে আসা পর্যটক সাখাওয়াত হোসেন বলেন, ‘ঈদের ছুটিতে সময় কাটাতে প্রতিবছরই কক্সবাজার আসা হয়। সমুদ্রের অপরূপ সৌন্দর্য দেখে সময়টা ভালোই কাটছে।’
কুমিল্লা থেকে আসা নাজনীন জাহান বলেন, জাতীয় নির্বাচন পরবর্তী দেশের সবকিছু যেন আগের চাইতে সুন্দর মনে হচ্ছে। বিগত দুবছর কক্সবাজার আসা হয়নি, বেড়ানো হয়নি। তাই এবার পরিস্থিতি স্বাভাবিক থাকায় পরিবারের সবাইকে নিয়ে ঈদের ছুটি কাটাতে কক্সবাজারে চলে এসেছি।
হোটেল-মোটেল-রিসোর্টসহ শহরের ৫ শতাধিক আবাসিক প্রতিষ্ঠানের কোথাও কোনো রুম খালি নেই। ৩০ মার্চ পর্যন্ত বেশির ভাগ হোটেলের অগ্রিম বুকিং রয়েছে বলে জানান হোটেল মোটেল মালিক ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি আবুল কাশেম সিকদার।
তিনি বলেন, ‘ঈদ উপলক্ষে পর্যটকের চাপ বেড়েছে, প্রায় সব হোটেলেই পর্যটকেরা আছেন। আমরা সব হোটেলকে নির্দেশনা দিয়েছি যেন পর্যটকদের হয়রানি করা না হয় এবং ন্যায্যমূল্য রাখা হয়।’
কক্সবাজারের অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট শাহিদুল হক জানান, পর্যটন সংশ্লিষ্টরা ট্যুরিস্টদের হয়রানি না করে সেদিকটাই আমরা গুরুত্ব সহকারে নিয়েছি। পর্যটকদের যাতে অতিরিক্ত টাকা গুণতে না হয়, সেজন্য ব্যবসায়ী নেতৃবৃন্দের সাথে বৈঠক করে কঠোর নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
অন্যদিকে পর্যটকদের নিরাপত্তায় জেলা প্রশাসন, টুরিস্ট পুলিশসহ আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সার্বিক তৎপরতা দেখা গেছে পর্যটন স্পটগুলোতে। জেলা প্রশাসক মো. আব্দুল মান্নান জানান,‘পর্যটকরা এই শহরের অতিথি, তাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করাসহ যে-কোনো সেবায় জেলা প্রশাসন সহযোগিতা অব্যাহত রাখবে।’
সম্পাদক ও প্রকাশকঃ লুৎফর রহমান হীরা
হেড অফিসঃ ১/ জি,আদর্শ ছায়ানীড়, রিংরোড, শ্যামলী, আদাবর ঢাকা - ১২০৭।
স্বত্ব © ২০২৫ চলনবিলের সময়