
সাতক্ষীরার কলারোয়ায় বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক শাখায় কৃষি ঋণ বিতরণে অনিয়ম, স্বজনপ্রীতি ও গ্রাহক হয়রানির অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয় কৃষক ও ব্যবসায়ীদের দাবি, প্রয়োজনীয় কাগজপত্র জমা দেওয়ার পরও অনেক যোগ্য আবেদনকারী ঋণ পাচ্ছেন না। অন্যদিকে প্রভাবশালী একটি চক্রের মাধ্যমে কিছু ব্যক্তি সহজেই বড় অঙ্কের ঋণ পাচ্ছেন বলে অভিযোগ রয়েছে।
ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, শাখার কয়েকজন কর্মকর্তা ও তাদের ঘনিষ্ঠদের মাধ্যমে ঋণ বিতরণে প্রভাব বিস্তার করা হচ্ছে। এতে প্রকৃত কৃষক ও ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের অনেকেই প্রয়োজনীয় ঋণ থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন।
জয়নগর এলাকার কৃষক মুজিবার রহমান বলেন, প্রয়োজনীয় সব কাগজপত্র জমা দিয়েও দীর্ঘদিন ধরে ঋণের জন্য ঘুরছেন। এখনো তিনি ঋণ পাননি।
কলারোয়া পৌরসভার ব্যবসায়ী গোলাম রসুলের অভিযোগ, প্রকৃত প্রয়োজন থাকা অনেক আবেদনকারীকে নানা অজুহাতে অপেক্ষা করানো হচ্ছে। এতে সাধারণ মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন।
লাঙ্গলঝাড়া এলাকার মাহবাবুর রহমান বলেন, যোগ্যতা থাকা সত্ত্বেও অনেক কৃষক সময়মতো ঋণ পাচ্ছেন না। এর প্রভাব কৃষি উৎপাদনের ওপরও পড়ছে।
জালাবাদের হাবিবুর রহমানের ভাষ্য, নিয়ম মেনেই আবেদন করলেও ঋণ অনুমোদনের ক্ষেত্রে স্বচ্ছতার অভাব রয়েছে বলে তার মনে হয়েছে।
হেলাতলার আব্দুল্লাহ আল মামুন অভিযোগ করেন, কৃষকদের সঙ্গে বৈষম্যমূলক আচরণের কারণে অনেকেই হতাশ হয়ে পড়ছেন।
কুশোডাঙ্গার বাবলু ইসলাম বলেন, অনেক প্রকৃত কৃষক ও ব্যবসায়ী ঋণ না পেলেও তুলনামূলক কম সম্পদ দেখিয়ে কিছু ব্যক্তি বড় অঙ্কের ঋণ পাচ্ছেন বলে এলাকায় আলোচনা রয়েছে। বিষয়টি তদন্ত হওয়া উচিত।
ভুক্তভোগীদের দাবি, শতাধিক কৃষক ও ব্যবসায়ী তাদের যোগ্যতা অনুযায়ী ঋণ পাচ্ছেন না। তাদের অভিযোগ, শাখার সেকেন্ড অফিসার লিপিয়া, কর্মকর্তা জাহাঙ্গীর হোসেন, শেখর পাল, রফিকুল ইসলাম ও ক্যাশিয়ার সাইফুল ইসলামের বিরুদ্ধে ঋণ নবায়ন ও বিতরণের ক্ষেত্রে অনিয়মের অভিযোগ রয়েছে। অভিযোগে বলা হয়েছে, ঘুষ ছাড়া অনেক ক্ষেত্রে ঋণ অনুমোদন করা হয় না। প্রয়োজনীয় কাগজপত্র থাকার পরও বিভিন্ন অজুহাতে আবেদনকারীদের মাসের পর মাস ঘোরানো হয়। এ ছাড়া ক্যাশিয়ার সাইফুল ইসলামের বিরুদ্ধে গ্রাহকদের সঙ্গে অসদাচরণ ও মারধরের অভিযোগও তুলেছেন কয়েকজন ভুক্তভোগী।
কৃষক ও ব্যবসায়ীরা জানান, বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবহিত করা হলেও এখন পর্যন্ত দৃশ্যমান কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। তাঁরা বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ, দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) ও সংশ্লিষ্ট তদারকি সংস্থার তদন্ত দাবি করেছেন। দ্রুত অনিয়ম বন্ধ না হলে মানববন্ধনসহ বিভিন্ন কর্মসূচি পালনেরও ঘোষণা দিয়েছেন তারা।
তবে অভিযোগ অস্বীকার করেছেন কলারোয়া বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক শাখার মুখ্য কর্মকর্তা মো. জালাল উদ্দীন। তিনি বলেন, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। যারা ঋণের জন্য আবেদন করেছেন, তাদের কাগজপত্র ঠিক থাকলে নিয়ম অনুযায়ী ঋণ দেওয়া হয়েছে। ব্যক্তিগত সম্পর্কের ভিত্তিতে কাউকে ঋণ দেওয়া হয় না।
সম্পাদক ও প্রকাশকঃ লুৎফর রহমান হীরা
হেড অফিসঃ ১/ জি,আদর্শ ছায়ানীড়, রিংরোড, শ্যামলী, আদাবর ঢাকা - ১২০৭।
স্বত্ব © ২০২৬ চলনবিলের সময়