সারাদেশে শৈত্যপ্রবাহ ও কুয়াশায় বিপর্যস্ত জনজীবন

: চলনবিলের সময় ডেস্ক
প্রকাশ: 1 week ago

58

দেশের উত্তর, মধ্য ও দক্ষিণাঞ্চলের বিভিন্ন জেলায় একযোগে তীব্র শীত, ঘন কুয়াশা ও শৈত্যপ্রবাহের প্রভাবে জনজীবন মারাত্মকভাবে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। দিনের পর দিন সূর্যের দেখা না মেলায় শীতের তীব্রতা কয়েকগুণ বেড়েছে। সবচেয়ে বেশি ভোগান্তিতে পড়েছেন দিনমজুর, খেটে খাওয়া ও ছিন্নমূল মানুষ। শীতজনিত রোগে আক্রান্ত হয়ে শিশু ও বৃদ্ধদের হাসপাতালে ভিড় বাড়ছে। কোথাও কোথাও শীতবস্ত্র বিতরণ শুরু হলেও প্রয়োজনের তুলনায় তা অপ্রতুল বলে মনে করছেন স্থানীয়রা। আমাদের সংবাদদাতাদের পাঠানো তথ্যে—
লালমনিরহাট:
জেলা সংবাদদাতা জানান, কয়েক দিন ধরে ঘন কুয়াশা ও তীব্র শীতে লালমনিরহাটে জনজীবন বিপর্যস্ত। সূর্যের দেখা না মেলায় শীতের প্রকোপ বেড়েছে। তিস্তা নদীর চরাঞ্চল ও প্রত্যন্ত এলাকায় শীতবস্ত্রের অভাবে মানুষ গাছের শুকনো ডাল ও খড়কুটো জ্বালিয়ে আগুন পোহাচ্ছেন। সবচেয়ে বেশি দুর্ভোগে পড়েছেন খেটে খাওয়া ও ছিন্নমূল মানুষ। মঙ্গলবার জেলায় সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয় ১১ দশমিক ৩ ডিগ্রি সেলসিয়াস। আবহাওয়া অফিস জানিয়েছে, এলাকায় মাঝারি শৈত্যপ্রবাহ বয়ে যাচ্ছে। সিভিল সার্জন কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, শীতে নিউমোনিয়া ও শ্বাসকষ্টে আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা বেড়েছে। জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে ইতোমধ্যে ১০ হাজার কম্বল বিতরণ করা হয়েছে।
রাজবাড়ী:
জেলা সংবাদদাতা জানান, কনকনে শীতে রাজবাড়ীর জনজীবন বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। শীতের কাপড়ের চাহিদা বেড়ে যাওয়ায় পুরোনো কাপড়ের বাজারে মানুষের ভিড় লক্ষ্য করা গেছে। ১০০ থেকে ৮০০ টাকায় বিভিন্ন ধরনের শীতবস্ত্র বিক্রি হচ্ছে। জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে শীতার্তদের মাঝে কম্বল বিতরণ চলছে। জেলা ত্রাণ ও পুনর্বাসন কর্মকর্তা জানান, জেলায় পাঁচ হাজার কম্বল বরাদ্দ পাওয়া গেছে।
ফরিদপুর (সদরপুর):
আনেয়ার জাহিদ জানান, ফরিদপুরে তীব্র শীতের সঙ্গে হালকা বৃষ্টিতে জনদুর্ভোগ আরও বেড়েছে। শহর ও গ্রামের রাস্তাঘাট কর্দমাক্ত হয়ে পড়ায় চলাচলে চরম ভোগান্তি দেখা দিয়েছে। বিশেষ করে নৌবন্দর ঘাট ও আশপাশের এলাকায় দুর্ঘটনার ঝুঁকি বেড়েছে। শীত নিবারণে স্থানীয়রা সড়কের পাশে গাছের গুঁড়ি জ্বালিয়ে আগুন ধরিয়েছেন। এতে পথচারী, ভ্যান ও অটোরিকশাচালকরা কিছুটা স্বস্তি পাচ্ছেন। এলাকাবাসী এই উদ্যোগকে মানবিক হিসেবে দেখছেন।
চাটমোহর ও চলনবিলাঞ্চল (পাবনা):
উপজেলা সংবাদদাতা জানান, চাটমোহরসহ চলনবিল অধ্যুষিত উপজেলাগুলোতে কয়েক দিন ধরে তীব্র শীত ও শৈত্যপ্রবাহে জনজীবন বিপর্যস্ত। সূর্যের দেখা না মেলায় এবং হিমেল হাওয়ায় মানুষ প্রয়োজন ছাড়া ঘর থেকে বের হচ্ছেন না। সবচেয়ে বেশি দুর্ভোগে পড়েছেন নিম্নআয়ের ও ছিন্নমূল মানুষ। কাজ না পেয়ে দিনমজুরেরা অর্থকষ্টে পড়েছেন। প্রচণ্ড শীতে শ্রমজীবী মানুষ আগুন জ্বালিয়ে শরীর গরম করছেন। কৃষকরা জানান, অতিরিক্ত শীত অব্যাহত থাকলে বোরো ধানের বীজতলা ক্ষতির আশঙ্কা রয়েছে। মঙ্গলবার পাবনায় সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ছিল ১২ দশমিক ২ ডিগ্রি সেলসিয়াস। সরকারি শীতবস্ত্র বিতরণ প্রয়োজনের তুলনায় অপ্রতুল বলে মনে করছেন সচেতন মহল।
ঈশ্বরদী (পাবনা):
উপজেলা সংবাদদাতা জানান, পৌষের শুরুতেই তীব্র শীত, ঘন কুয়াশা ও হিমেল হাওয়ায় ঈশ্বরদীর জনজীবন স্থবির হয়ে পড়েছে। সূর্যের দেখা না মেলায় সন্ধ্যার পর সড়ক ও বাজার ফাঁকা হয়ে যাচ্ছে। যান চলাচল ব্যাহত হচ্ছে। কাজ হারিয়ে বিপাকে পড়েছেন দিনমজুর ও খেটে খাওয়া মানুষ। শীতজনিত রোগে আক্রান্ত হয়ে শিশু ও বৃদ্ধদের হাসপাতালে ভর্তি হতে হচ্ছে। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আরিফুর রহমান জানান, শীতবস্ত্র অপ্রতুল হলেও শীতার্তদের মাঝে কম্বল বিতরণ অব্যাহত রয়েছে।
সৈয়দপুর (নীলফামারী):
উপজেলা সংবাদদাতা জানান, চার দিন ধরে সূর্যের দেখা না মেলায় সৈয়দপুরে কুয়াশা ও হিমেল বাতাসে জনজীবন স্থবির। মঙ্গলবার সকালে তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে ১১ দশমিক ৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস। শীতবস্ত্রের অভাবে নিম্নআয়ের মানুষ চরম দুর্ভোগে পড়েছেন। শীতজনিত রোগে আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে রোগীর সংখ্যা বাড়ছে। প্রশাসনের পক্ষ থেকে শীতবস্ত্র বিতরণ অব্যাহত রয়েছে।
শিবপুর (নরসিংদী):
উপজেলা সংবাদদাতা জানান, শিবপুরে তীব্র শীত ও ঘন কুয়াশায় জনজীবন বিপর্যস্ত। হিমেল বাতাসে খেটে খাওয়া মানুষ কর্মহীন হয়ে পড়েছেন। শিশু ও বৃদ্ধরা ঠান্ডাজনিত রোগে আক্রান্ত হচ্ছেন। গরম কাপড়ের অভাবে দরিদ্র মানুষের রাত কাটছে নির্ঘুম। শীত মোকাবিলায় জরুরি ত্রাণ ও শীতবস্ত্র বিতরণের দাবি জানিয়েছেন এলাকাবাসী।