সিকৃবিতে বর্ণাঢ্য আয়োজনে বৈশাখী মেলা, উৎসবের আমেজে মুখর ক্যাম্পাস

: সিকৃবি প্রতিনিধি
প্রকাশ: 6 hours ago

7

নতুন বছরের সূচনা মানেই নতুন আশা, নতুন স্বপ্ন আর জীবনের নতুন অধ্যায়ের সূচনা। আজ পহেলা বৈশাখ। ক্যালেন্ডারের পাতায় ১৪২৭। আর এ নববর্ষ ঘিরে সিলেট কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ে (সিকৃবি) প্রাঙ্গণ আজ যেন রঙিন এক আনন্দমেলায় পরিণত হয়েছে।

মঙ্গলবার (১৪ এপ্রিল) বিশ্ববিদ্যালয়ের কৃষি প্রকৌশল ও প্রযুক্তি অনুষদের রাস্তায় ও কেন্দ্রীয় মিলনায়তনের সামনে দিনব্যাপী মেলার আয়োজন করে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন, বিভিন্ন অনুষদ এবং শিক্ষার্থীদের সংগঠনসমূহ।

মেলার শুরুতেই বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রার মাধ্যমে নববর্ষকে বরণ করে নেয় শিক্ষার্থীরা। রঙিন ব্যানার, ফেস্টুন, মুখোশ ও ঐতিহ্যবাহী পোশাকে সজ্জিত হয়ে শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা ক্যাম্পাস প্রদক্ষিণ করেন। শোভাযাত্রা শেষে শুরু হয় মূল মেলা কার্যক্রম।

মেলায় বিভিন্ন বিভাগ ও সংগঠনের পক্ষ থেকে সাজানো হয় আকর্ষণীয় স্টল। এসব স্টলে ছিল গ্রামীণ ঐতিহ্যের হস্তশিল্প, মাটির তৈরি জিনিসপত্র, নকশিকাঁথা, বাঁশ ও বেতের সামগ্রী, লোকজ অলংকার এবং দেশীয় খাবারের সমাহার। বিশেষ করে পিঠাপুলি, ভর্তা, চটপটি, ফুচকা, পায়েসসহ নানা ঐতিহ্যবাহী খাবারের স্টলে ছিল উপচে পড়া ভিড়।

এছাড়া মেলার অন্যতম আকর্ষণ ছিল সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান। বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা সংগীত, নৃত্য, নাটক ও কবিতা আবৃত্তির মাধ্যমে বাঙালির হাজার বছরের সংস্কৃতি ও ঐতিহ্য তুলে ধরেন। লোকসংগীত ও বৈশাখী গানের তালে তালে দর্শনার্থীদের মধ্যে সৃষ্টি হয় এক উৎসবমুখর পরিবেশ।

মেলায় আগত শিক্ষার্থীরা জানান, পড়াশোনার চাপের মাঝে এমন আয়োজন তাদের মানসিক প্রশান্তি দেয় এবং পারস্পরিক সম্পর্ককে আরও দৃঢ় করে। তারা বলেন, এই ধরনের আয়োজন আমাদের সংস্কৃতির সঙ্গে নতুন প্রজন্মকে যুক্ত করে এবং ক্যাম্পাস জীবনে বাড়তি আনন্দ যোগ করে।

শিক্ষকবৃন্দও মেলার প্রশংসা করে বলেন, এ ধরনের আয়োজন শিক্ষার্থীদের মাঝে সাংস্কৃতিক চেতনা জাগ্রত করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। পাশাপাশি গ্রামীণ ঐতিহ্য ও সংস্কৃতি সংরক্ষণেও এটি সহায়ক।

স্টল ও মঞ্চ তৈরি উপকমিটির আহ্বায়ক প্রসেফর ড. মুহাম্মদ রাশেদ আল মামুন বলেন, বাংলা সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যকে লালন ও প্রচারের লক্ষ্যেই প্রতিবছর এ ধরনের আয়োজন করা হয়। তিনি বলেন বর্তমানে সিলেট কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসের সৌন্দর্য সিলেট সিটি করপোরেশন এলাকায় অন্যতম আর্কষণ। আজকের দিনকে উপলক্ষ করে ক্যাম্পাসে যেন এক আমেজ বিরাজ করছে। ভবিষ্যতেও আরও বৃহৎ পরিসরে এ আয়োজন অব্যাহত থাকবে বলে তারা আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি প্রফেসর ড. মো. আলিমুল ইসলাম বলেন, বাংলা নববর্ষ বাঙালির হাজার বছরের ইতিহাস, ঐতিহ্য ও সংস্কৃতির ধারক ও বাহক। এই দিনটি কেবল নতুন বছরকে বরণ করার মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়, বরং এটি আমাদের অসাম্প্রদায়িক চেতনা, ঐক্য, সম্প্রীতি ও মানবিক মূল্যবোধের প্রতিফলন। আমরা সকল ভেদাভেদ ভুলে একসঙ্গে এই উৎসব উদ্‌যাপন করি এটাই বাঙালি জাতির সবচেয়ে বড় শক্তি। নতুন বছর আমাদের জীবনে নতুন আশা, নতুন স্বপ্ন ও নতুন সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচন করে। অতীতের সকল গ্লানি, ব্যর্থতা ও হতাশা পেছনে ফেলে আমরা যেন নতুন উদ্যমে এগিয়ে যেতে পারি সেই প্রত্যাশাই করি।

মেলাকে কেন্দ্র করে পুরো ক্যাম্পাসে ছিল এক আনন্দঘন পরিবেশ। শিক্ষার্থী, শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের উপস্থিতিতে দিনভর প্রাণচাঞ্চল্যে ভরে ওঠে সিকৃবি ক্যাম্পাস, যা নববর্ষের আনন্দকে বহুগুণ বাড়িয়ে তোলে।