
কোরবানির পশু জবাই করতে গিয়ে সিলেটের বিভিন্ন এলাকায় আহত হয়েছেন অর্ধশতাধিক মানুষ। কারও হাতে ক্ষত, কারও পায়ে ছুরির কোপ, আবার কেউ আহত হয়েছেন গরুর লাথি কিংবা শিংয়ের আঘাতে।
ঈদের দিন দুপুরের পর থেকেই সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের জরুরি বিভাগে বাড়তে থাকে আহত মানুষের ভিড়।
হাসপাতাল সূত্র জানায়, আহতদের মধ্যে অন্তত ২০ জনকে বিভিন্ন ওয়ার্ডে ভর্তি করা হয়েছে। বাকি ৩০ প্রাথমিক চিকিৎসা নিয়ে বাড়ি ফিরেছেন। অধিকাংশ দুর্ঘটনাই ঘটেছে অসাবধানতা, অনভিজ্ঞতা এবং নিরাপত্তাহীনভাবে ধারালো অস্ত্র ব্যবহারের কারণে।
জরুরি বিভাগে চিকিৎসা নিতে আসা স্বজনরা জানান, পরিবারের নিজেরাই পশু জবাইয়ের চেষ্টা করেছিলেন। কেউ ইউটিউব বা ভিডিও দেখে কোরবানি করতে গিয়েছেন, কেউ আবার অভিজ্ঞ কসাই ছাড়াই পশু নিয়ন্ত্রণ করতে গিয়ে আহত হয়েছেন। কয়েক মিনিটের অসাবধানতায় ঈদের হাসি মিলিয়ে গেছে কান্নায়।
হাসপাতালের ইমার্জেন্সিতে থাকা এক চিকিৎসক বলেন, ঈদের দিন এমন দুর্ঘটনা এখন প্রায় নিয়মিত চিত্র হয়ে দাঁড়িয়েছে। বিশেষ করে তরুণদের মধ্যে ঝুঁকি বেশি দেখা যায়। অনেকেই নিরাপত্তা ব্যবস্থা ছাড়াই ধারালো দা ও ছুরি ব্যবহার করেন। ফলে সামান্য ভুলেই বড় দুর্ঘটনা ঘটে যাচ্ছে।
চিকিৎসকদের মতে, কোরবানির সময় অভিজ্ঞ কসাইয়ের সহায়তা নেওয়া, পশু নিয়ন্ত্রণে পর্যাপ্ত লোক রাখা এবং ধারালো অস্ত্র ব্যবহারে সতর্ক থাকলে এমন দুর্ঘটনা অনেকাংশে এড়ানো সম্ভব।
সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পুলিশ বক্সের এএসআই মোহাম্মদ আলা উদ্দিন বলেন, ঈদুল আজহাকে কেন্দ্র করে প্রতিবছরই এ ধরনের দুর্ঘটনা ঘটে। এবারও সিলেটের বিভিন্ন এলাকা থেকে প্রায় ৫০ জন আহত হয়ে হাসপাতালে চিকিৎসা নিয়েছেন। ২০ হাসপাতালে ভর্তি আছেন ও ৩০ জন প্রাথমিক চিকিৎসা নিয়ে বাড়িতে ফিরে গেছেন। বেশিরভাগই পেশাদার কসাই নন। অভিজ্ঞতা না থাকায় দুর্ঘটনাগুলো হয়েছে।