সোঁতি জালের বাধায় বিলের পানি না নামায় পেঁয়াজ আবাদে বিঘ্ন, জমিতে ধান কাটতেও দেরি

: সাঁথিয়া (পাবনা) সংবাদদাতা
প্রকাশ: 3 weeks ago

55

পাবনার সাঁথিয়া উপজেলার কাগেশ্বরী নিষ্কাশন খালে অবৈধভাবে স্থাপন করা সোঁতি জালের কারণে পানিপ্রবাহ বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। ফলে উপজেলার করমজা, নন্দনপুর, গৌরীগ্রাম, কাশীনাথপুর ও ক্ষেতুপাড়া ইউনিয়নের প্রায় ২৫টি গ্রামের অন্তত ১৫ হাজার বিঘা জমিতে আমন ধান কাটতে দেরি হচ্ছে। এতে ওই জমিগুলোতে সময়মতো পেঁয়াজ ও অন্যান্য রবি ফসলের আবাদও ব্যাহত হচ্ছে।

পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) সূত্রে জানা যায়, ১৯৯২ সালে কাগেশ্বরী নদীকে প্রধান নিষ্কাশন খাল (ডি-২) হিসেবে রূপান্তর করা হয়। এই খালের সঙ্গে যুক্ত রয়েছে প্রায় ১৫টি বিল। বর্ষা মৌসুমে এসব বিলের পানি এই খালের মাধ্যমে নিষ্কাশিত হয়, ফলে কৃষকরা আমন ধান কাটার পর রবিশস্যের আবাদ করতে পারেন। কিন্তু এ বছর খালে বাঁশ, পলিথিন ও চাটাই দিয়ে তৈরি বেড়ার সঙ্গে সূক্ষ্ম সোতি জাল বসানোর কারণে পানি নামতে পারছে না।

সম্প্রতি করমজা ইউনিয়নের বড়গ্রাম দত্তপাড়া এলাকায় গিয়ে দেখা যায়, নিষ্কাশন খালের আড়াআড়ি জুড়ে বাঁশ, পলিথিন, চাটাই ও সোতি জাল দিয়ে ঘের তৈরি করা হয়েছে। পানিপ্রবাহের জন্য রাখা হয়েছে মাত্র কয়েক ফুট জায়গা, যা দিয়ে পানি নিষ্কাশন প্রায় বন্ধ হয়ে গেছে।

আফড়া গ্রামের কৃষক নেকবার সরদার বলেন,পেঁয়াজ বীজ বোনার সময় পার হয়ে যাচ্ছে। জমিতে পানি থাকায় কেউই এখনো ধান কাটতে বা নতুন ফসল লাগাতে পারছে না।

স্থানীয় কৃষকদের অভিযোগ, এসব সোতি জালের ঘের পরিচালনা করছেন স্থানীয় প্রভাবশালীরা। ভয়ভীতির কারণে কেউ তাদের বাধা দিতে পারছেন না। তাঁরা প্রশাসনের কাছে এসব অবৈধ ঘের দ্রুত উচ্ছেদের দাবি জানিয়েছেন।

বড়গ্রাম দত্তপাড়া এলাকার স্থানীয়দের তথ্য অনুযায়ী, করমজা ইউনিয়নের ৮ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য মালেক ও রেজাউলের নির্দেশে বক্স মণ্ডলের ছেলে রাজু, বয়েজ খাঁর ছেলে আশরাফ আলী, রেজাউল খাঁর ছেলে আবুল খাঁ ও আল মাহমুদ মোল্লার ছেলে বাশার মোল্লা এ ঘের নির্মাণ করেছেন। তাঁরা দাবি করেন, বর্ষা শেষে বিলের পানি নামার সময় বহু বছর ধরেই স্থানীয়রা সোতি জাল বসিয়ে মাছ ধরেন, এতে পানিপ্রবাহে তেমন সমস্যা হয় না।

তবে উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা সামসুল রহমান বলেন,অভিযোগ পেয়ে প্রশাসনের সহযোগিতায় অভিযান চালিয়ে কিছু সোতি জাল কেটে দেওয়া হয়েছে এবং পাঁচ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে। আমরা নির্দেশ দিয়েছি তিন দিনের মধ্যে সব বাঁশ অপসারণ করতে। তা না হলে আবারও অভিযান চালানো হবে।

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা সঞ্জীব কুমার গোস্বামী বলেন,সোতি জালের কারণে পানি নামতে সময় লাগছে, যা কৃষকদের ধান ও পেঁয়াজ চাষে বড় প্রভাব ফেলবে। অবিলম্বে এই জালগুলো অপসারণ করা জরুরি।

সাঁথিয়া উপজেলা নির্বাহী অফিসার রিজু তামান্না বলেন,এসি ল্যান্ডকে ঘটনাস্থলে পাঠানো হয়েছিল। জালমালিকদের সময় দেওয়া হয়েছে। তারা নিজেরা না সরালে প্রশাসন, পানি উন্নয়ন বোর্ড ও মৎস্য অফিস যৌথভাবে অভিযান চালিয়ে ঘেরগুলো উচ্ছেদ করবে।

অবৈধ সোতি জালের কারণে নিষ্কাশন ব্যাহত হওয়ায় সাঁথিয়ার হাজারো কৃষক এখন ধান কাটতে পারছেন না, সময়মতো পেঁয়াজের চাষও ঝুঁকিতে পড়েছে। দ্রুত পদক্ষেপ না নিলে এলাকায় রবিশস্য উৎপাদনে ব্যাপক ক্ষতি হতে পারে।