কুড়িগ্রামে স্ত্রীকে কুপিয়ে হত্যার পর সিলেটে পালিয়ে থাকা শহিদুল ইসলাম বাবলু নামের এক ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করেছে র্যাব-৯। শনিবার (২১ ফেব্রুয়ারি) রাতে নগরীর কানিশাইল এলাকা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।
র্যাব-৯ এর অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (মিডিয়া) কে এম শহিদুল ইসলাম সোহাগ কালবেলাকে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। গ্রেপ্তার শহিদুল ইসলাম বাবলু (৫৫) কুড়িগ্রামের নাগেশ্বরী উপজেলার বানিয়ার ভিটা গ্রামের রজব আলীর ছেলে।
র্যাব ৯ জানায়, কুড়িগ্রাম জেলার নাগেশ্বরী থানাধীন বানিয়ার ভিটা দিগদারী এলাকার বাসিন্দা মহিনা বেগম। তার ২ ছেলে সন্তান রয়েছে। স্বামী বাবুলসহ দুই ছেলেকে নিয়ে ঢাকার কেরানীগঞ্জ থানাধীন বাদামগাছ তলা পল্লী বিদ্যুৎ এলাকায় বসবাস করতেন তিনি। ভিকটিম তার পরিবারের সকল সদস্যদের নিয়ে গত বছরের ৬ ডিসেম্বর ঢাকা থেকে গ্রামের বাড়িতে যান।
নিহত মহিনা বেগম ও তার স্বামী বাবুল বিভিন্ন এনজিও ও ব্যক্তির নিকট হতে ঋণ নিয়েছিলেন যার বেশির ভাগই ছিল মহিনা বেগমের নামে। বাড়িতে যাওয়ার পর নিহত মহিনা বেগম ও তার স্বামী কিছু ঋণ পরিশোধ করে এবং কিছু ঋণ পরিশোধে অবশিষ্ট থেকে যায়। এসব ঋণ নিয়ে উভয়েই তারা চিন্তিত ছিলেন।
র্যাব আরও জানায়, গত ১১ জানুয়ারি প্রতিদিনের ন্যায় রাতের খাবার খেয়ে নিজ নিজ শয়ন ঘরে সবাই ঘুমিয়ে পড়েন। পরদিন ভোরে মহিনা বেগমের মা ঘুম থেকে উঠে ঘর হতে বাহির হয়ে দেখতে পান নিহতের ঘর বাহির থেকে ছিটকিনি লাগানো। অনেক ডাকাডাকি করার পর ছিটকিনি না খোলায় ঘরের দরজা ছিটকিনি ভেঙে দেখতে পান ঘরের খাটের উপর নিহত মহিনা বেগমের শরীরের বিভিন্ন স্থানে ও গলায় একাধিক ছুরিকাঘাত। মরদেহ রক্তাক্ত অবস্থায় পড়ে থাকলেও ঘরের ভেতরে নিহতের স্বামী বাবুল নেই। এ ঘটনায় নিহতের ছেলে বাদী হয়ে কুড়িগ্রাম জেলার নাগেশ্বরী থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন।
র্যাব-৯ এর অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (মিডিয়া) কে এম শহিদুল ইসলাম সোহাগ বলেন, কুড়িগ্রামে ঋণের চাপে স্ত্রীকে কুপিয়ে হত্যার পর শনিবার রাতে কানিশাইল এলাকায় গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে মহিনা বেগমের স্বামীকে গ্রেপ্তারকেরা হয়েছে। পরে নাগেশ্বরী থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে।
সম্পাদক ও প্রকাশকঃ লুৎফর রহমান হীরা
হেড অফিসঃ ১/ জি,আদর্শ ছায়ানীড়, রিংরোড, শ্যামলী, আদাবর ঢাকা - ১২০৭।
স্বত্ব © ২০২৫ চলনবিলের সময়