২৩মে ২০২৬ শনিবার, বগুড়ার মোকামতলা নবগঠিত উপজেলার সৈয়দপুর ইউনিয়নের অভিরামপুর চককুতুব পূর্বপাড়া গ্রামে পারিবারিক কলহ ও মানসিক চাপের মুখে বিপুল আকন্দ (২৮) নামের এক যুবক গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করেছেন। তিনি ওই এলাকার আব্দুল সাত্তার ও মোছাঃ বিলকিস বেগমের ছেলে। শনিবার (২৩ মে) সকাল আনুমানিক ৯টার দিকে নিজ শয়নকক্ষে ঝুলন্ত অবস্থায় তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়। বাবা হয়েও শেষ মুহূর্তে নিজের দুটি সন্তানের মুখ দেখতে না পারার বুকফাটা আর্তনাদ নিয়েই দুনিয়া ছাড়তে হলো এই যুবককে। স্থানীয় ও পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, ঘটনার দুই-তিন দিন আগে বিপুল তার শ্বশুরবাড়িতে গিয়েছিলেন। অভিযোগ উঠেছে, সেখানে তার স্ত্রী মোছাঃ শাপলা বেগম এবং তার পরিবারের পক্ষ থেকে বিপুলকে চরম অপমান, অপদস্ত ও লাঞ্ছিত করা হয়। স্থানীয়দের দাবি, নিহত বিপুলের শরীরে বিভিন্ন আঘাতের দাগ পাওয়া গেছে, যা শ্বশুরবাড়িতে নির্যাতনের ইঙ্গিত দেয়। এছাড়া বিপুলের পরিবার অভিযোগ করেছে, তাকে হেনস্তা করতে সোনাতলা থানায় একটি সম্পূর্ণ মিথ্যা মামলাও দায়ের করা হয়েছিল। একাধিকবার সালিশ হলেও মেলেনি সমাধান
গ্রামবাসীর ভাষ্য অনুযায়ী, শাপলা বেগমের বেপরোয়া জীবনযাপন ও পারিবারিক বিভিন্ন বিষয় নিয়ে এর আগেও এলাকায় তিন থেকে চারবার সালিশ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছিল। কিন্তু প্রতিবারই কোনো স্থায়ী সমাধান মেলেনি। দাম্পত্য জীবনের এই দীর্ঘমেয়াদি অশান্তি ও মানসিক চাপ সইতে না পেরেই বিপুল আত্মহত্যার পথ বেছে নেন বলে ধারণা করা হচ্ছে। বর্তমানে তার দুটি সন্তানই শাপলা বেগমের কাছে রয়েছে। ঘটনার পরে খবর পেয়ে মোকামতলা পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রের এসআই জাহিদুল ইসলাম দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছান প্রাথমিক তদন্ত কার্যক্রম পরিচালনা করেন।
পরবর্তীতে মরদেহটি উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য বগুড়া শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ (শজিমেক) হাসপাতালে পাঠানো হয়।
এই মর্মান্তিক ও আকস্মিক মৃত্যুর ঘটনায় পুরো অভিরামপুর চককুতুব গ্রামে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। স্থানীয় সচেতন মহল মনে করছেন, পারিবারিক বিরোধ মীমাংসায় ধৈর্য, পারস্পরিক বোঝাপড়া এবং সামাজিক সচেতনতা বৃদ্ধি না পেলে এমন অনাকাঙ্ক্ষিত মৃত্যুর মিছিল থামানো সম্ভব নয়। এই বিষয়ে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী তদন্ত শুরু করেছে এবং সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত দোষীদের শাস্তির দাবি জানিয়েছেন এলাকাবাসী।
সম্পাদক ও প্রকাশকঃ লুৎফর রহমান হীরা
হেড অফিসঃ ১/ জি,আদর্শ ছায়ানীড়, রিংরোড, শ্যামলী, আদাবর ঢাকা - ১২০৭।
স্বত্ব © ২০২৫ চলনবিলের সময়