১৬ বছর পরও থামেনি ট্রল, এবার মুখ খুললেন প্রভা

: বিনোদন ডেস্ক
প্রকাশ: 7 hours ago

4

প্রায় ১৬ বছর আগে ব্যক্তিগত একটি ঘটনা নিয়ে ব্যাপক আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে এসেছিলেন ছোট পর্দার জনপ্রিয় অভিনেত্রী সাদিয়া জাহান প্রভা। সময়ের সঙ্গে সেই বিতর্ক মুছে যাওয়ার কথা থাকলেও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ট্রল ও সাইবার বুলিংয়ের শিকার হতে হয়েছে তাকে বছরের পর বছর। দীর্ঘদিন নীরব থাকার পর এবার এক ভিডিও বার্তায় নিজের অভিজ্ঞতা, মানসিক যন্ত্রণা এবং অনলাইন হয়রানির ভয়াবহ প্রভাব নিয়ে খোলামেলা কথা বলেছেন এই অভিনেত্রী।

সম্প্রতি প্রকাশিত এক ভিডিও বার্তায় প্রভা বলেন, ‘গত ১৬ বছর ধরে তাকে নিয়মিত ট্রল, কটূক্তি ও সাইবার বুলিংয়ের শিকার হতে হচ্ছে। নতুন কোনো কাজ, ছবি কিংবা পোস্ট প্রকাশ করলেই একশ্রেণির মানুষ পুরোনো বিষয়টি টেনে এনে তাকে অপমান করার চেষ্টা করেন।’

ভিডিও বার্তায় তিনি সাইবার বুলিংকারীদের মানসিকতা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন। তার ভাষ্য, ‘একজন মানুষের জীবনের একটি ঘটনা দিয়ে তাকে সারাজীবন বিচার করা কিংবা সেই ঘটনাকে বারবার সামনে এনে অপমান করা কোনোভাবেই মানবিক আচরণ নয়।’

প্রভা বলেন, ‘আমি এখন কিছু জ্বালাময়ী সত্যি কথা বলব। আমি অনেকদিন সাম্প্রতিক সময়ে ঘটে যাওয়া ব্যাপার নিয়ে কথা বলি না। কিন্তু ভেবেছিলাম কথা বলেও তো আসলে কোনো লাভ নাই। কিন্তু আসলে নিজের দায়িত্ববোধের জায়গা থেকে মনে হয়, কিছু জিনিস চোখ বন্ধ করে আসলে থাকা যায় না। চলেন আপনাদের একটা কথা বলি। আপনারা আপনাদের নিজের যোগ্যতা, নিজের স্থান, নিজের সৌন্দর্য, নিজের কোয়ালিফিকেশন এ সবকিছুর প্রতি আসলে আপনাদের ইনসিকিউরিটি থাকার জন্যই তো আসলে আপনারা মানুষকে মুখ করেন। এটা আমার কথা না। এটা হিউম্যান সাইকোলজি। এগুলো সাইকিয়াট্রিস্টরা এগুলো পড়াশোনা করে বের করেছেন। এগুলা একদম আমার কথা না।’

তিনি বলেন, ‘যারা মানুষের ব্যাপারে এত অ্যাগ্রেসিভলি জাজ করে এবং বুলি করে এবং মক করে; সোশ্যাল মিডিয়াতে ভারবালি অ্যাবিউস করে। এরা আসলে নিজেদের নিয়ে যেহেতু অনেক বেশি স্যাটিসফাইড না এবং তারা দুঃখী। আমরা প্রত্যেকেই প্রত্যেকের জায়গাতে কোন না কোন জায়গায় দুঃখী। কিন্তু যারা ইনসিকিউর যারা ব্যাপারটাকে মানতে পারে না, যারা নিজের যোগ্যতাটা নিয়ে অনেক বেশি ইনসিকিউরড আমি বলব এরাই আসলে ম্যাক্সিমাম টাইমে বিভিন্ন সোশ্যাল প্লটফর্মগুলো সেলিব্রেটিদের বা ইনফ্লুয়েন্সার বা আর্টিস্ট সবাইকে বুলিং করে। তো আমার বুলিং তো আসলে ইটস বিন অলমোস্ট ১৬ বছর, আমাকে বুলিং করা হয়। আমার কথা হচ্ছে আপনারা আপনাদের জায়গা থেকে আমাকে বুলিং করে মজা পান; এতে আপনাদের পৈশাচিক আনন্দ হয় আই টোটালি আন্ডারস্ট্যান্ড; কিন্তু ঠিক যতটুকু আমাকে বুলিং করছেন তার যদি ৫০% মানে আমি ওরফে ব্র্যাকেটে ভিকটিম আমাকে ৫০% করে বাকি ৫০% ক্রিমিনালটাকে খুঁজে বের করে ওকে যদি এরকম বুলিং করতেন; ওকে নিয়ে যদি লেখালেখি করতেন; ওর চেহারাটা যদি বারবার মানুষের সামনে মানে প্রকাশ্যে আনতেন যে ও ক্রিমিনাল।’

এই অভিনেত্রী বলেন, ‘যারা আরেকটা মানুষের ক্ষতি করে তাদের কনসেন্ট ছাড়া তাদের প্রাইভেসি ডিসক্লোজ করে এবং সেটা একটা গুরুতর ক্রাইম। সেই মানুষগুলোকে আপনারা বুলিং না করে আপনারা যে ভিকটিমকে বুলিং করছেন ডে বাই ডে; আই আন্ডারস্ট্যান্ড। আমাকে বুলিং না করে যদি ক্রিমিনালকে করতেন তাহলে পৃথিবীতে তন্ময়ের জন্ম হত না।’