২১ বছর পর স্বীকৃতি পেল চাটমোহরের ‘কুরআনের পাঠশালা’, বদলে গেল প্রতিবন্ধী জমেলা খাতুনের জীবন

: চলনবিলের সময় ডেস্ক
প্রকাশ: 16 hours ago

10

বনার চাটমোহর উপজেলার ডেফলচড়া গ্রামের বাসিন্দা জমেলা খাতুন (৪২)। শারীরিক প্রতিবন্ধকতা কখনোই তার অদম্য ইচ্ছাশক্তিকে থামাতে পারেনি। গত ২১ বছর ধরে কোনো পারিশ্রমিক ছাড়াই তিনি গ্রামের শতাধিক নারী ও শিশুকে পবিত্র কুরআন শিক্ষা দিয়ে আসছেন।
দীর্ঘদিন ধরে জরাজীর্ণ ঘরে, রোদ-বৃষ্টি উপেক্ষা করে চলা তার এই ‘কুরআনের পাঠশালা’ অবশেষে পেয়েছে নতুন রূপ ও স্বীকৃতি। গণমাধ্যমে তার মানবিক উদ্যোগের খবর প্রকাশের পর এগিয়ে আসে ‘সাইলেন্ট হ্যান্ডস সাপোর্ট সোসাইটি’ নামের একটি স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন।
সংগঠনটির সহায়তায় জমেলা খাতুনের ভাঙাচোরা ঘরের সামনে এখন দাঁড়িয়ে আছে একটি মজবুত নতুন ঘর। শুধু বসবাসের জন্যই নয়, কুরআন শিক্ষার জন্যও তৈরি করা হয়েছে আলাদা একটি প্রশস্ত কক্ষ। সেখানে বিছানো হয়েছে কার্পেট, ফলে এখন আর প্রতিকূল আবহাওয়ার কারণে পাঠদান বন্ধ রাখতে হয় না। শিশুরা নির্বিঘ্নে ধর্মীয় শিক্ষা গ্রহণ করতে পারছে।
এছাড়া তার বাড়িতে স্থাপন করা হয়েছে আধুনিক টয়লেট ও অজুখানা, যা তার দৈনন্দিন জীবনকে অনেক সহজ করেছে। উপহার হিসেবে তিনি পেয়েছেন নতুন খাট, জামা-কাপড় এবং একটি হুইলচেয়ার। ফলে এতদিন হামাগুড়ি দিয়ে চলাফেরা করতে হলেও এখন তিনি সহজেই চলাচল করতে পারছেন।
শনিবার সকালে জমেলা খাতুনের পাঠশালার শিক্ষার্থীদের উপস্থিতিতে নতুন ঘরের উদ্বোধন করেন সাইলেন্ট হ্যান্ডস সাপোর্ট সোসাইটির পাবলিক রিলেশন অফিসার তরিকুল ইসলাম আদনান।
নতুন ঘর পেয়ে জমেলা খাতুন ও তার শিক্ষার্থীরা ভীষণ আনন্দিত। বিষয়টি ঘিরে খুশি পুরো এলাকার মানুষও। স্থানীয়দের মতে, জমেলা খাতুনের এই ত্যাগ ও সেবার গল্প সমাজের জন্য এক অনন্য অনুপ্রেরণা। তার জীবন প্রমাণ করে, শারীরিক প্রতিবন্ধকতা কখনোই মহৎ কাজের পথে বাধা হতে পারে না।
আবেগাপ্লুত কণ্ঠে জমেলা খাতুন বলেন,
আল্লাহর পথে মানুষকে ডাকতে পেরেই আমি সন্তুষ্ট। আমার কষ্টের কথা বুঝে ‘সাইলেন্ট হ্যান্ডস সাপোর্ট সোসাইটি’ আমার জন্য যা করেছে, তা আমি সারাজীবন মনে রাখব। এখন শান্তিতে ঘুমাতে পারব, নির্বিঘ্নে পড়াতে পারব—এটাই আমার সবচেয়ে বড় প্রাপ্তি।
সংগঠনটির প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান তাজ মম বলেন,
জমেলা খাতুনের মতো মানুষ সমাজের প্রকৃত সম্পদ। তিনি নিজের সীমাবদ্ধতাকে উপেক্ষা করে ২১ বছর ধরে যে নিঃস্বার্থ সেবা দিয়ে আসছেন, তা আমাদের গভীরভাবে অনুপ্রাণিত করেছে। আমরা বিশ্বাস করি, সমাজের জন্য কাজ করা এমন মানুষদের সম্মান ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করা আমাদের নৈতিক দায়িত্ব। আমরা চাই, প্রতিটি জমেলা খাতুন যেন প্রাপ্য সম্মান ও সহযোগিতা পান।