বগুড়ার মোকামতলার রহবল কানছগাড়ীতে ৩ মন্দিরে প্রতিমা ভাঙচুর

: রাসেল আহম্মেদ (স্টাফ রিপোর্টার) বগুড়া
প্রকাশ: 6 hours ago

34

১৮ জুন ২০২৬ বৃহস্পতিবার, বগুড়ার নবগঠিত মোকামতলা উপজেলার দেউলী ইউনিয়নের রহবল কানছগাড়ী এলাকায় রাতের আঁধারে তিনটি মন্দিরে প্রতিমা ভাঙচুরের ঘটনা ঘটেছে। দুর্বৃত্তদের এই ন্যক্কারজনক হামলায় স্থানীয় সনাতন ধর্মাবলম্বীদের ধর্মীয় অনুভূতিতে চরম আঘাত লেগেছে।

ঘটনাটিকে কেন্দ্র করে পুরো এলাকায় তীব্র ক্ষোভ, উত্তেজনা ও গভীর উদ্বেগ বিরাজ করছে। স্থানীয় ও মন্দির কমিটি সূত্রে জানা যায়, গভীর রাতের কোনো এক সময়ে অজ্ঞাতপরিচয় দুর্বৃত্তরা রহবল কানছগাড়ী মহাশ্মশান মন্দির, শীতলা মন্দির ও কালী মন্দিরে একযোগে হামলা চালায়। হামলাকারীরা মন্দিরগুলোর প্রতিমা ভাঙচুর করে পালিয়ে যায়।

দীর্ঘদিন ধরে ঐতিহ্যবাহী এই তিনটি মন্দিরে (যথাক্রমে ২৬ শতক, ২৩ শতক এবং ৩৬ শতক জমির ওপর প্রতিষ্ঠিত) স্থানীয় হিন্দু সম্প্রদায়ের মানুষ অত্যন্ত শান্তিপূর্ণভাবে ধর্মীয় উৎসব ও উপাসনা করে আসছিলেন। এটি কেবল প্রতিমা ভাঙচুরের সাধারণ কোনো ঘটনা নয়, বরং একটি বিশেষ সম্প্রদায়ের ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত হেনে এলাকার সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বিনষ্ট করার সুগভীর অপচেষ্টা। নেতৃবৃন্দের ঘটনাস্থল পরিদর্শন ও প্রতিক্রিয়া ন্যক্কারজনক এই ঘটনার খবর পেয়ে বগুড়া জেলা পূজা উদযাপন পরিষদের সভাপতি শ্রী পরিমল চন্দ্র দাস মোবাইল ফোনে গভীর উদ্বেগ, দুঃখ ও তীব্র নিন্দা প্রকাশ করেন।

অনিবার্য কারণে তাৎক্ষণিকভাবে ঘটনাস্থলে উপস্থিত হতে না পারলেও তিনি দ্রুত প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ এবং ঘটনার সুষ্ঠু তদন্তের জন্য শিবগঞ্জ উপজেলা ও নবগঠিত মোকামতলা উপজেলা পূজা উদযাপন পরিষদের নেতৃবৃন্দকে নির্দেশনা প্রদান করেন। পাশাপাশি তিনি দোষীদের দ্রুত শনাক্ত করে আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান।

পরবর্তীতে ঘটনার খবর পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থল পরিদর্শনে যান: শ্রী রাম নারায়ণ কানু সভাপতি, শিবগঞ্জ উপজেলা পূজা উদযাপন পরিষদ। শ্রী আশীষ সরকার সহ-সভাপতি, শিবগঞ্জ উপজেলা পূজা উদযাপন পরিষদ। দুলাল চন্দ্র অধিকারী সভাপতি, হিন্দু-বৌদ্ধ-খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদ, শিবগঞ্জ শাখা। এছাড়াও নবগঠিত মোকামতলা উপজেলা পূজা উদযাপন পরিষদের সভাপতি শ্রী শুভ্র শংকর প্রসাদ, উত্তম মহন্ত, প্রার্থীব সাহা, দিলীপ পাল,মিথিল রায়সহ স্থানীয় সামাজিক ও রাজনৈতিক গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ ক্ষতিগ্রস্ত মন্দিরগুলো পরিদর্শন করেন এবং স্থানীয়দের সান্ত্বনা দেন। মহাশ্মশান মন্দির, শীতলা মন্দির ও শিব মন্দির কমিটির সভাপতি জগদীশ, সাবেক সভাপতি সুভাষ এবং বিশ্বনাথসহ স্থানীয় ভক্তবৃন্দ ও সনাতন ধর্মাবলম্বী নেতৃবৃন্দ এই বর্বরোচিত ঘটনার তীব্র প্রতিবাদ জানিয়েছেন।

তারা অবিলম্বে ঘটনার সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ তদন্ত নিশ্চিত করে দোষীদের দ্রুত শনাক্ত করার এবং দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির আওতায় আনার জন্য প্রশাসনের প্রতি জোর দাবি জানিয়েছেন।

এলাকায় শান্তি-শৃঙ্খলা বজায় রাখতে প্রশাসনের কঠোর নজরদারি কামনা করেছেন স্থানীয়রা।