শিবগঞ্জে ফ্যামিলি কার্ডের তালিকায় একাধিক অসঙ্গতি - চলনবিলের সময়

শিবগঞ্জে ফ্যামিলি কার্ডের তালিকায় একাধিক অসঙ্গতি

তহিদুল ইসলাম ভ্রাম্যমান প্রতিনিধিঃ
প্রকাশ: আগস্ট ১৪, ২০২৬

9

বগুড়ার শিবগঞ্জ উপজেলা ফ্যামিলি কার্ড কার্যক্রমের তথ্য সংগ্রহকারী ও সুপারভাইজার নিয়োগের প্রার্থী তালিকা নিয়ে নানা প্রশ্ন ও অভিযোগ উঠেছে। প্রকাশিত তালিকায় একই ব্যক্তির নাম একাধিকবার থাকা, একই পরিবারের একাধিক সদস্যের নাম থাকা এবং এক উপজেলার তালিকায় অন্য উপজেলার প্রার্থীর নাম থাকার অভিযোগ পাওয়া গেছে।
অভিযোগ অনুযায়ী, শিবগঞ্জ উপজেলার সানভালকি এলাকার জয়নাল আবেদিন নামে এক ব্যক্তির নাম তথ্য সংগ্রহকারী পদের তালিকায় ১২ ও ৬১ নম্বরে রয়েছে। একই ব্যক্তির নাম আবার অপেক্ষমাণ তালিকার ৬ নম্বরেও রাখা হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। একজন প্রার্থীর নাম কীভাবে একই পদের একাধিক তালিকায় এবং একই সঙ্গে অপেক্ষমাণ তালিকায় স্থান পেল—এ নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।
এদিকে শিবগঞ্জ পৌর এলাকার সুলতানপুর গ্রামের প্রার্থী তালিকায় একই পরিবারের স্বামী-স্ত্রীর নাম থাকার অভিযোগও উঠেছে। তালিকা অনুযায়ী, সুপারভাইজার পদে ৮ নম্বরে আশরাফুল ইসলাম এবং তথ্য সংগ্রহকারী পদে ৮৩ নম্বরে তাঁর স্ত্রী জান্নাতি খাতুনের নাম রয়েছে। একই পরিবারের দুজন ভিন্ন পদে নির্বাচিত হওয়ায় নিয়োগ প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন স্থানীয়রা।
অন্যদিকে, মোকামতলা উপজেলার প্রার্থী তালিকায় শিবগঞ্জ উপজেলার একাধিক প্রার্থীর নাম থাকার অভিযোগ পাওয়া গেছে। একই সঙ্গে ওই তালিকায় একই পরিবারের তিন বোন, দুই ভাই এবং ভাই-বোনের নাম থাকার অভিযোগও উঠেছে। এসব বিষয় নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমসহ স্থানীয় পর্যায়ে নানা আলোচনা চলছে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, ফ্যামিলি কার্ডের মতো একটি গুরুত্বপূর্ণ সরকারি কার্যক্রমে প্রার্থী বাছাইয়ের ক্ষেত্রে তালিকা তৈরির সময় তথ্য যাচাই-বাছাই আরও সতর্কতার সঙ্গে করা প্রয়োজন। একই ব্যক্তির নাম একাধিক তালিকায় থাকা কিংবা ভিন্ন উপজেলার তালিকায় প্রার্থীর নাম থাকার বিষয়গুলো তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন তারা।
একজন স্থানীয় বাসিন্দা বলেন, “একজনের নাম যদি একই তালিকায় একাধিকবার থাকে এবং আবার অপেক্ষমাণ তালিকাতেও থাকে, তাহলে বিষয়টি অবশ্যই যাচাই করা দরকার। এতে প্রকৃত যোগ্য প্রার্থীদের মধ্যে হতাশা তৈরি হতে পারে।”
আরেকজন বলেন, “একই পরিবারের একাধিক সদস্যের নাম থাকা বা এক উপজেলার তালিকায় অন্য উপজেলার প্রার্থীর নাম আসার বিষয়গুলো প্রশাসনের খতিয়ে দেখা উচিত। তালিকা তৈরির প্রক্রিয়া স্বচ্ছ হলে সাধারণ মানুষের মধ্যে প্রশ্ন থাকার কথা নয়।”
এ বিষয়ে উপজেলা ফ্যামিলি কার্ডের তথ্য সংগ্রহকারী নির্বাচন কমিটির সভাপতি ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) জিয়াউর রহমানের কাছে মুঠোফোনে জানতে চাইলে তিনি রাগান্বিত কণ্ঠে বলেন, “অফিসে এসে আমার বক্তব্য নিয়ে যান।” এ কথা বলেই তিনি ফোনের সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেন।