
বগুড়া জেলার কাহালু থানার ঐতিহাসিক বাটালদিঘী সার্বজনীন মহাশ্মশান ও শ্রী শ্রী কালী মন্দির প্রাঙ্গণে অনুষ্ঠিত হয়েছে বার্ষিক চার প্রহরব্যাপী শ্রী শ্রী রাধাগোবিন্দের লীলা রস কীর্তন ও ভোগ মহোৎসব। শনিবার দিনব্যাপী এই ধর্মীয় উৎসবে মন্দির চত্বরে ছিল গ্রামীণ মেলা, ধর্মীয় পাঠ, কীর্তন ও মহাপ্রসাদ বিতরণসহ নানা আয়োজন।
অনুষ্ঠানের শুরুতে অনুষ্ঠিত হয় শ্রীমদ্ভগবদ্গীতা পাঠ, পরে রাধাগোবিন্দের লীলারস কীর্তন পরিবেশন করেন রাধারাম দাসাধিকারী ও সহদেব তারাকান্দা (ময়মনসিংহ)। ভক্তদের জন্য পরিবেশন করা হয় ভোগ ও মহাপ্রসাদ।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন শ্রীযুক্ত বাবু হরিদাস চন্দ্র তরণী দাস, প্রতিষ্ঠাতা পরিচালক শ্রী শ্রী রাধাগোবিন্দ ও কালী মন্দির, এবং পরিচালক চয়েস টু চেঞ্জ অব হিন্দু ফাউন্ডেশন, কোমরপুর, পলাশবাড়ী, গাইবান্ধা।
শ্রীমদ্ভগবদ্গীতা পাঠ পরিচালনা করেন শ্রীযুক্ত বাবু সুশান্ত কুমার প্রামাণিক, ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক, বিজরুল দ্বিমুখী উচ্চ বিদ্যালয়, নন্দীগ্রাম, বগুড়া।
অনুষ্ঠানে বাটালদিঘী সার্বজনীন মহাশ্মশান ও শ্রী শ্রী কালী মন্দির কমিটির সকল সদস্যবৃন্দসহ দূর-দূরান্ত থেকে আগত প্রায় সাত হাজার ভক্ত অংশগ্রহণ করেন। পুরো অনুষ্ঠানটি পরিণত হয় ভক্তদের এক মিলনমেলায়।
তবে, ঐতিহ্যবাহী বাটালদিঘী মহাশ্মশানটি দীর্ঘদিন ধরে সরকারি ও বেসরকারি সহায়তার অভাবে সংস্কারহীন অবস্থায় রয়েছে। এ বিষয়ে মন্দির কমিটির সদস্যরা বলেন, “এই ঐতিহাসিক মহাশ্মশান ও মন্দির সংস্কারের জন্য সরকারি বা বেসরকারি সহায়তা একান্ত প্রয়োজন।”
মন্দির কমিটি আশাবাদ ব্যক্ত করেছে—সরকার ও সমাজের সহৃদয় ব্যক্তিবর্গ এই মহাশ্মশান ও মন্দিরের উন্নয়নে পাশে দাঁড়াবেন।