শিক্ষকের মারধর সহ্য করতে না পেরে নবম শ্রেণির শিক্ষার্থীর আত্মহত্যা, আটঘরিয়ায় বিক্ষোভ - চলনবিলের সময়

শিক্ষকের মারধর সহ্য করতে না পেরে নবম শ্রেণির শিক্ষার্থীর আত্মহত্যা, আটঘরিয়ায় বিক্ষোভ

লেখক: প্রতিবেদক ঢাকা
প্রকাশ: November 11, 2025

364

পাবনার আটঘরিয়ায় শিক্ষকের মারধর ও অপমান সহ্য করতে না পেরে জেসমিন আক্তার (১৪) নামে নবম শ্রেণির এক ছাত্রী আত্মহত্যা করেছে বলে অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় অভিযুক্ত শিক্ষকদের বিচারের দাবিতে বিক্ষোভ মিছিল ও মানববন্ধন করেছে সহপাঠীরা।

সোমবার (১০ নভেম্বর) সকালে শহীদ আব্দুল খালেক উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা খিদিরপুর বাজারের প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে বিদ্যালয়ের সামনে অবস্থান নেয়। পরে তারা টায়ার জ্বালিয়ে বিক্ষোভ করে অভিযুক্ত দুই শিক্ষিকার পদত্যাগের দাবি জানান।

মৃত জেসমিন উপজেলার মাজপাড়া ইউনিয়নের হাতিগাড়া গ্রামের জাহাঙ্গীর হোসেনের মেয়ে। সে খিদিরপুর শহীদ আব্দুল খালেক উচ্চ বিদ্যালয়ের নবম শ্রেণির শিক্ষার্থী ছিল।

অভিযোগ অনুযায়ী, গত ২ নভেম্বর জেসমিন ক্লাসে একটি বাটন মোবাইল ফোন নিয়ে আসে। এ সময় ক্লাস শিক্ষিকা মিনোয়ারা খাতুন বিষয়টি দেখে তাকে অকথ্য ভাষায় গালাগাল ও অপমান করেন। পরে খণ্ডকালীন শিক্ষিকা সালমা খাতুন জেসমিনকে ক্লাস থেকে ডেকে নিয়ে কমনরুমে দরজা বন্ধ করে বেত দিয়ে এলোপাতাড়ি মারধর করেন এবং অপমানজনক কথা বলে স্কুল থেকে বের করে দেন।

এই মারধর ও অপমান সহ্য করতে না পেরে জেসমিন সেদিন বিকেলে দাদির বাড়িতে গিয়ে বিষপান করে। পরিবারের সদস্যরা তাকে প্রথমে আটঘরিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করেন। অবস্থার অবনতি হলে তাকে পাবনা জেনারেল হাসপাতাল ও পরে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ৯ নভেম্বর সকাল সাড়ে ৮টার দিকে জেসমিনের মৃত্যু হয়।

অভিযুক্ত শিক্ষিকা মিনোয়ারা খাতুন ও সালমা খাতুনের সঙ্গে মোবাইল ফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে তাদের ফোন বন্ধ পাওয়া যায়।

এ বিষয়ে বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক বলেন, “ঘটনাটি আমার জানা নেই।”

আটঘরিয়া থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) শফিকুজ্জামান সরকার বলেন, “আমরা অভিযোগ পেয়েছি। বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”