
সিরাজগঞ্জের উল্লাপাড়ায় খালের ভেতরে ভাসমান অবস্থায় শহিদুল ইসলাম তালুকদার (৬৫) নামে মানসিক ভারসাম্য হারানো এক বৃদ্ধের মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। দলিল লেখক আব্দুল মমিন গোপনে জমি দলিল করে নেওয়ার পর শহিদুল হঠাৎ মানসিক ভারসাম্য হারিয়েছে বলে পরিবারের অভিযোগ। তার মৃত্যুর বিষয়টি নিয়ে এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।
রোববার (৩০) নভেম্বর সকালে উপজেলার পঞ্চক্রোশী ইউনিয়নের দমদমা এলাকায় একটি খাল থেকে মরদেহটি উদ্ধার করা হয়।
শহিদুল ইসলাম ওই গ্রামের মৃত সেরাজুল ইসলাম তালুকদারের ছেলে।
মৃতের স্বজনরা জানান, পরিবারের কোনো সদস্যকে না জানিয়ে গোপনে ধাপে ধাপে শহিদুলের জমি নিজের নামে রেজিস্ট্রি করে নিয়েছেন উল্লাপাড়া সাব-রেজিস্ট্রি অফিসের দলিল লেখক আব্দুল মমিন। কিন্তু জমির টাকা বুঝে না পেয়ে হঠাৎ করেই মানসিক ভারসাম্য হারিয়ে ফেলেন শহিদুল। শনিবার রাতে তিনি নিখোঁজ ছিলেন। সকালে খালের ভেতর থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়।
মৃত শহিদুলের চাচাতো ভাই শামীম রেজা তালুকদার বলেন, ওই জমিটা ২/৩ বছর আগে আব্দুল কুদ্দুস নামে একজনের কাছে লিজ দেওয়া হয়েছিল। ২০ দিন আগে আমরা জমির টাকা ফেরত চাইতে গেলে মুহুরি বলেন— এই জমি আমার। জমি কেনার সময় মুহুরি কাউকেই বলেনি। এমনকি তার ছেলেমেয়েকেও বলেননি। আমি মুহুরিকে বলেছিলাম, তুমি যে জমি কিনলে, ভাই ব্রাদারকে জিজ্ঞাস করেছো। মুহুরি তখন বলেন, না কাউকে বলা হয়নি। যার জমি সে বিক্রি করেছে।
তিনি বলেন, বেশ কয়েক দিন ধরে মানসিক ভারসাম্য হারানো শহিদুল বাজারে ঘুরে ঘুরে বলছিল আমার পকেটে টাকা কই, আমার জমি নিল, টাকা দিল না। তখন আমরা বিষয়টিকে কেউ গুরুত্ব দেইনি।
ইব্রাহিম হোসেন নামে অপর এক আত্মীয় বলেন, এক বছর আগে ৯ ডিসিমাল, ৬ মাস আগে আরও ৪ ডিসিমাল জমি দলিল করে নেন মমিন মুহুরি। বিষয়টি পরিবারের কেউ জানত না। তিন দিন আগে রাত ১১টার দিকে মমিন মুহুরি তার বাড়িতে এসেছিল। হাতে কাগজপত্র ছিল। শহিদুলের ঘরে গিয়ে কিছুক্ষণ থেকে চলে যান। সম্ভবত বাকি জমি রেজিস্ট্রির আলাপ করতেই মুহুরি এসেছিল।
শহিদুলের ছোট ভাই জহুরুল ইসলাম তালুকদার ও ছেলে কলেজছাত্র রোমান বলেন, এক বছর আগে জমি বিক্রি করেছে আমাদের পরিবারের কেউ জানে না। শহিদুল সহজ-সরল মানুষ। কৌশলে গোপনে তার জমি দলিল করে নিয়েছে মুহুরি।
মৃতের স্বজনদের দাবি, দলিল লেখক আব্দুল মমিন কৌশলে জমি রেজিস্ট্রি করে নিলেও টাকা না দেওয়ার কারণেই শহিদুল পাগল হয়েছে। আর এ কারণেই তার মৃত্যু হয়েছে।
এসব বিষয়ে দলিল লেখক আব্দুল মমিন বলেন, যার জমি সে বেচেছে, আমি কিনেছি। ৬ মাস আগে টাকা নিয়ে কবলা করে দিয়েছে। জমি কিনতে বিক্রেতার পরিবারকে জানানো হয়নি বলে তিনি স্বীকার করেন।
উল্লাপাড়া মডেল থানার ওসি মো. একরামুল হক কালবেলাকে জানান, খবর পেয়ে সকালে ঘটনাস্থলে পৌঁছে নিহতের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। তার হাতে একটি ক্ষত রয়েছে। মরদেহের ময়নাতদন্তের জন্য হাসপাতাল মর্গে পাঠানোর প্রস্তুতি চলছে। ময়নাতদন্তের পর জানা যাবে এটি হত্যাকাণ্ড কিনা।
তিনি বলেন, শোনা যাচ্ছে মৃত ব্যক্তি তার জমি রেজিস্ট্রি করে দিয়েছেন। এরপর থেকে তিনি মানসিক ভারসাম্য হারিয়েছেন। আমরা বিষয়গুলো তদন্ত করে দেখছি।